Cataract Remedies

ষাট পেরোলেও ছানি পড়বে না, যদি চোখের যত্ন নেন বিশেষ উপায়ে, বয়সকালেও প্রখর থাকবে দৃষ্টিশক্তি

ছানি যখন পড়তে শুরু করে, চোখের দৃষ্টি ক্রমশ ঘোলাটে হতে শুরু করে। রঙিন দৃশ্যও বিবর্ণ লাগে। ষাট পেরোলে ছানি পড়ার ভয় তাড়া করে। এখন অবশ্য আরও কম বয়স থেকেই ছানি পড়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১৩:৩২
Daily Habits That Can Naturally Slow Down Cataracts in Older Adults

ছানি থাকবে শত হস্ত দূরে, বয়সকালেও দৃষ্টিজনিত সমস্যা হবে না, কোন উপায়ে তা সম্ভব। ফাইল চিত্র।

ছানি অতি বিষম বস্তু। ছানি পড়তে শুরু করলেই দৃষ্টি ঝাপসা হবে। চারপাশের রঙিন দৃশ্য লহমায় বিবর্ণ হতে থাকবে। ছানি পড়া মানে দৃষ্টির ক্ষয় তো হবেই, জীবনও অচল হতে থাকবে। বয়স্কেরা এই ছানি পড়ার সমস্যাকেই বেশি ভয় পান। বয়স পঞ্চাশ বা ষাট পেরোনো মাত্রই ছানি পড়ার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়। এখন অবশ্য কম বয়স থেকেই ছানি পড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, হার্টের রোগ বা কোলেস্টেরল থাকলে তো কথাই নেই। দৃষ্টিজনিত নানা সমস্যা শুরু হবে একে একে। তাই চোখ ভাল রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা খুব জরুরি।

Advertisement

ছানি হচ্ছে অনেকটা সেই ক্যামেরার লেন্সের মতো, যাতে ধুলোময়লা বা দাগ লাগলে নিখুঁত ছবি তোলায় বিঘ্ন ঘটে। তখন লেন্স পরিষ্কার করে বা বদলে ফেলে ক্যামেরাকে কার্যকরী করা হয়। ঠিক তেমনই ছানি হচ্ছে চোখের লেন্সের অস্বচ্ছতা। লেন্স প্রোটিন ও জলীয় উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিন লেন্সের স্বচ্ছতা বজায় রাখে। বয়স যত বাড়ে, ততই সে সব প্রোটিনের ঘাটতি হতে থাকে। ফলে লেন্সের স্বচ্ছতা কমতে থাকে। লেন্সের উপরে ঘোলাটে আস্তরণ পড়ে যায়, ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকে। একেই বলে ছানি পড়া। কেবল চশমা এঁটে ছানির সমস্যা দূর হয় না। এর জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। ছানি অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম লেন্স বসিয়ে দেওয়া হয়, যাতে দৃষ্টিশক্তি আবার আগের মতো হতে পারে। ছানি কাটানো এখন আর কঠিন নয়। তবে ছানি যাতে না পড়ে, সে চেষ্টা করাই ভাল। বিশেষ করে বয়স পঞ্চাশ পার হলে চোখের আরও বেশি যত্ন নেওয়া জরুরি।

বয়স্কদের চোখ ভাল রাখার উপায়

নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করানো দরকার। বাড়ির বয়স্কদের নিয়ম করে চক্ষু পরীক্ষা করাতে হবে। মাঝেমধ্যেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। চোখ থেকে জল পড়া, চোখ জ্বালা করা, দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ করে ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলিও এড়িয়ে গেলে চলবে না।

ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খুব দ্রুত ছানি পড়ে। তাই রক্তের শর্করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। অপটিক নার্ভ পরীক্ষা করলেই ধরা পড়ে, ক্ষতির মাত্রা ঠিক কতটা।

সূর্যের অতিবেগনি রশ্মিও চোখের ক্ষতি করে। বয়সকালে বাইরে বেরোলে রোদচশমা পরা খুব জরুরি। তা ছাড়াও ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল দেখা অথবা টিভি বা কম্পিউটার-ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকা চলবে না।

হাঁপানি, বাতের ব্যথা বা অন্য কোনও রোগের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে স্টেরয়েড ড্রপ নিলে বা ট্যাবলেট খেলে চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ওষুধ কখনওই খাবেন না।

চলন্ত ট্রেন, বাস বা মেট্রোয় যাওয়ার সময়ে বই পড়লে চোখে চাপ পড়ে। ছোট ছোট কম্পমান অক্ষর পড়তে গিয়ে রেটিনার উপরে চাপ বাড়ে। অনেক বয়স্ক মানুষই এমন করে থাকেন। তা ছাড়া কম আলোয় কিছু পড়লে বা মোবাইল দেখলেও চোখের ক্ষতি হয়।

চোখের পরীক্ষা

চোখের কিছু পরীক্ষা করিয়ে রাখা জরুরি। পরিবারে যদি গ্লকোমা বা দৃষ্টিজনিত রোগের ইতিহাস থাকে, তা হলে টোনোমেট্রি পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

রেটিনা ও অপটিক নার্ভের পরীক্ষাও জরুরি। সুগার থাকলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি আছে কি না, তা-ও ধরা পড়ে এই পরীক্ষায়।

স্লিট ল্যাম্প পরীক্ষা করালে ছানি পড়ার সম্ভাবনা কতটা, তা ধরা পড়বে। চিকিৎসকেরা একটি বিশেষ মাইক্রোস্কোপ এবং তীব্র আলোর সাহায্যে চোখ পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, লেন্স কতটা স্বচ্ছ।

বয়সজনিত কারণে রেটিনার কেন্দ্রবিন্দু বা ম্যাকুলা নষ্ট হতে শুরু করে, যার ফলে দৃষ্টি অস্বচ্ছ হতে শুরু করে। সাইড ভিশনও নষ্ট হয়। ডায়ালেটেড ফান্ডাস পরীক্ষাটি করিয়ে রাখলে সে সম্ভাবনা কম। চিকিৎসকেরা ড্রপ দিয়ে চোখের মণির আকার বড় করেন। তার পর রেটিনা, রক্তনালি ও অপটিক নার্ভ পরীক্ষা করে দেখেন, কোনও রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না।

Advertisement
আরও পড়ুন