শব্দচুরি বা অক্ষর-বিভ্রাট, টাইপোর ইতিহাস অতি প্রাচীন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আগেকার দিনে, মানে আজকের ডিটিপি আসার আগে একটা লব্জ পাঠক মহলে বেশ প্রচলিত ছিল । সেটি হল— ‘ছাপাখানার ভূত’। টাইপ সেটিংয়ে একটি একটি করে অক্ষর গাঁথতে গিয়ে কম্পোজ়িটার মশায় মাঝেমধ্যে ঘটিয়ে ফেলতেন এই কাণ্ডটি। ভদ্র পাঠকসমাজে ‘মুদ্রণপ্রমাদ’ নামে তা পরিচিত ছিল। আবডালে রসিকজন বলতেন ‘ছাপাখানার ভূত’। সেই সময়ে বইয়ে মুদ্রণপ্রমাদের সংশোধনীও ছাপা হত। ছাপাখানার ভূত ছিল কমলি নেহি ছোড়তি-টাইপের নেই-আঁকড়া। তিন-তিন বার প্রুফ সংশোধনের পরেও তাকে তাড়ানো যেত না অনেক সময়েই। দিনকাল বদলাল। টাইপ সেটিংয়ের যুগ বিগত হল। প্রায়ান্ধকার ঘরে ঘোলাটে বাল্ব জ্বেলে ঠোঁটে বিড়ি চেপে ধরে একমনে অক্ষর গেঁথে চলা কম্পোজ়িটার মশাইরা লুপ্ত হলেন। তার জায়গায় নিয়নমণ্ডলের সাদা আলোয় বাতানুকূল ঘরে স্থাপিত হল কম্পুযন্ত্র। তাতে ঝড়ের বেগে টাইপ করতে লাগলেন নতুন যুগের কম্পোজ়িটাররা। মুদ্রণপ্রমাদের সংখ্যা চতুর্গুণ হল ওই ঝড়ের বেগের জন্য, কখনও বা কম্পোজ়িটার মশাইয়ের ভুল বানানজ্ঞানের কারণে। এককালে যা ছিল ‘প্রমাদ’ এক্ষণে তার নাম হল ‘টাইপোগ্রাফিক্যাল এরর’ বা সংক্ষেপে ‘টাইপো’। একদা যে ভুলটির জন্য বেজায় অসন্তুষ্ট হতেন লেখক, প্রকাশক আর ছাপাখানার মালিক, লজ্জিত হতেন অক্ষর-গাঁথিয়ে কম্পোজ়িটাররা, এক্ষণে সেই বিড়ম্বিত ভাবটি আর নেই। কম্পোজ়িটার থেকে ডিটিপি ইউনিটের মালিক, মায় প্রকাশক ও লেখক পর্যন্ত তাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করলেন আর ‘‘ও তো নেহাতই টাইপো’’ বলে পাঠকের সপ্রশ্ন দৃষ্টিকে পাশ কাটাতে লাগলেন। কিন্তু কেউ তেমন একটা ভেবে দেখলেন না যে কোনও শব্দ থেকে একটি অক্ষর খসে পড়ায় যেন শব্দটির ওজন হারাল, অথবা অর্থই বদলে গেল। ‘ভাত’ লিখতে গিয়ে ‘ভূত’ লিখে ফেললে, তাতে কিছু মজা উৎপাদিত হল বটে, তবে সব শব্দের ক্ষেত্রে সেই মজা থাকল না। অক্ষরের সামান্য হেরফেরে হয়তো কোনও আপাতনিরীহ শব্দই হয়ে উঠল অপশব্দ। তখন মাছ ঢাকতে শাকের আয়োজন করার ব্যবস্থা করতে প্রাণান্ত প্রকাশকের, বিড়ম্বনা লেখকের।
তবে, বানান ভুল আর টাইপো মোটেই কোনও কাছাকাছি বিষয় নয়। এমনকি, তারা পরস্পর সন্নিবদ্ধও সে অর্থে নয়। টাইপো কেবলই এক মুহূর্তের অসতর্কতা। লেখকের মনের গতির সঙ্গে আঙুলের গতির অসামঞ্জস্য। চিন্তা ছুটছে ঘোড়ার বেগে, আর আঙুলগুলি সেখানে কচ্ছপ-ছন্দে। এই অসঙ্গতির মাঝেই লুকিয়ে থাকে ‘টাইপো’। পাঠক যখন কোনও গুরুগম্ভীর লেখার মাঝখানে হঠাৎ একটি হাস্যকর টাইপো খুঁজে পান, তখন সেই মুহূর্তটিতে লেখক আর পাঠকের মধ্যকার অদৃশ্য দেওয়ালটা ভেঙে পড়ে। মনে হয়, ও পারেও একজন বসে আছেন, লিখতে গিয়ে যাঁর আঙুল পিছলে যায়, যার মন অন্য কোথাও উড়াল দেয়, আর যিনি নিখুঁত কোনও যন্ত্র নন। অন্য দিকে বানান ভুল নেহাতই অজ্ঞানতাপ্রসূত। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে তাকেও ‘টাইপো’ বলে চালিয়ে দেওয়ার আস্য তৈরি হয়েছে।
জোহানেস গুটেনবার্গ সাহেব চলমান ধাতব হরফ আবিষ্কার করে মুদ্রণযন্ত্রের দুনিয়া উন্মুক্ত করেছিলেন।
টাইপো অনেকটা বৃষ্টির দিনে পথ চলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ার মতো— একটু অস্বস্তিকর, কিন্তু নির্মল নান্দনিকতা আছে। যদি না কারও কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। টাইপো শব্দটিকে এখনকার প্রজন্ম হালকা চালে নিচ্ছে ঠিকই, তবে তা এক সময়ে ঠাট্টা-তামাসার বিষয় ছিল না। ইতিহাস বলছে, বেখেয়ালে হওয়া সামান্য ভুলের নেপথ্যে রয়েছে মধ্যযুগীয় ইউরোপের এক কুখ্যাত পিশাচের গল্প, চার্চের কঠোর ফতোয়া এবং মুদ্রণ শিল্পের এক বিশাল বিপ্লব।
টাইপোর এ কাল সে কাল
‘টাইপোগ্রাফিক্যাল এরর’-এর এক সংক্ষিপ্ত রূপ ‘টাইপো’। শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ‘টাইপর’ বা ‘টাইপস’ থেকে। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের যুগে বানানের কোনও কড়া শাসন ছিল না। একই মানুষ সকালে নিজের নাম এক ভাবে লিখলে বিকেলে লিখতেন অন্য ভাবে। বানান করা হত উচ্চারণের ভিত্তিতে। আর তা ব্যক্তিগত পছন্দের উপরেও নির্ভর করত। কিন্তু গোলমাল বাধল তখনই, যখন জোহানেস গুটেনবার্গ সাহেব চলমান ধাতব হরফ আবিষ্কার করে মুদ্রণযন্ত্রের দুনিয়া উন্মুক্ত করলেন। হাতে লেখার পাট ঘুচল। খটাখট শব্দে যন্ত্রে লেখা থুড়ি ‘টাইপ সেট’ করতে গিয়ে বিস্তর অক্ষরের গোলমাল ঘটল। এই অক্ষর-ঝঞ্ঝাটই ‘টাইপোগ্রাফিক্যাল এরর’ হয়ে ছড়িয়ে পড়ল হাজার হাজার কপিতে। টাইপো পুরোদস্তুর ভাষার উপরে আধিপত্য বিস্তার করে ফেলল।
উনিশ শতকের শেষের দিকে যখন ‘লিনোটাইপ’ মেশিনের আগমন ঘটল, তখন সংবাদপত্র প্রকাশের গতি বেড়ে গেল বহু গুণ। লিনোটাইপ অপারেটররা সীসা গলিয়ে টাইপ সেট করতেন। কাজ করার সময় কোনও ভুল হলে তাঁরা ‘ব্যাকস্পেস’ চেপে মুছতে পারতেন না। পুরো লাইনটি বাতিল করার জন্য কি-বোর্ডের প্রথম দু’টি লাইনের উপর দিয়ে আঙুল টেনে নিতেন। এর ফলে একটি অদ্ভুত অর্থহীন শব্দবন্ধ তৈরি হত। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রুফ রিডারকে বোঝানো যে, এই লাইনটি বাতিল। কিন্তু মাঝে মধ্যে প্রুফ রিডারের চোখ এড়িয়ে এই অদ্ভুত শব্দবন্ধটি পরদিনের খবরের কাগজে ছাপাও হয়ে যেত। আর পাঠকেরা ভাবতেন, হয়তো প্রাচীন কোনও মন্ত্র বা স্তোত্র ছাপা হয়েছে কাগজে।
লিনোটাইপ মেশিন।
টাইপ রাইটারের ঠকঠকানি পেরিয়ে ইতিহাস যখন সিলিকন ভ্যালির কাচের স্ক্রিনে এসে পৌঁছোল, তখন টাইপো তার রূপবদল করল। আগে ভুল হত আঙুলের ক্লান্তিতে, পরে ভুল হওয়া শুরু হল প্রযুক্তির অতি-উৎসাহে। জন্ম নিল ‘অটো-কারেক্ট’ । এমন এক প্রযুক্তিগত সুবিধা, যা লেখার সময় হওয়া বানান ভুল বা টাইপো নিজে থেকেই শনাক্ত করে তা সঠিক শব্দ দিয়ে সংশোধন করে দিতে পারে। অর্থাৎ, স্বয়ংক্রিয় সংশোধন। তবে এটিতেও গোল বাধল। লেখার সময়ে মনের ভাব বোঝার আগেই এই স্বতঃস্ফূর্ত সংশোধনের ব্যবস্থাটি নিজের মনের মতো করে শব্দবন্ধ তৈরি করে ফেলে। আর তা করতে গিয়ে বিভ্রাট ঘটে যায়। মানুষ এখন নিজের ভুল ঢাকতে প্রযুক্তির উপর দোষ চাপায়, আর প্রযুক্তি মানুষের অবচেতন মনকে পড়তে গিয়ে আরও বড় বিভ্রাট ঘটায়। তবে প্রযুক্তির কচকচানি যখন ছিল না, তখনও লিখতে গিয়ে ভুল হলে দোষ চাপানো হত অন্যের ঘাড়ে। আর সে ছিল এক মিটমিটে শয়তান।
টিটিভিলাসের ‘দুষ্টুমি’।
‘টাইপো’ গিলে খায় ‘টিটিভিলাস’
মধ্যযুগে বিশ্বাস করা হত যে, টাইপো বা লেখার ভুলগুলি মানুষ মোটেও ইচ্ছে করে করে না। বরং এর জন্য দায়ী এক দুষ্টু পিশাচ। তারই নাম টিটিভিলাস। তখনও মুদ্রণযন্ত্র তৈরি হয়নি। মধ্যযুগীয় ইউরোপের ক্যাথলিক মঠগুলিতে সন্ন্যাসীরা দিন-রাত বসে হাতে লিখে ধর্মীয় গ্রন্থ এবং বাইবেলের প্রতিলিপি তৈরি করতেন। দীর্ঘ সময় লেখার ফলে ক্লান্তিতে বানান ভুল হত। কখনও অক্ষরগুলি তালগোল পাকিয়ে ভিন্ন শব্দ তৈরি করে ফেলত। নিজেদের এই ভুল ঢাকতে তখন সন্ন্যাসীরা ওই পিশাচ-তত্ত্ব খাড়া করেছিলেন। তাঁরা দাবি করেন, ‘টিটিভিলাস’ নামের এক খুদে পিশাচ মঠের আনাচ-কানাচে ঘুরে বেড়ায়। সে-ই সন্ন্যাসীদের মনোযোগ নষ্ট করে এবং খাতার পাতা থেকে সঠিক শব্দ বা অক্ষর চুরি করে নিজের ঝুলিতে ভরে নেয়।
শব্দ চুরি করে ঝোলায় ভরে টিটিভিলাস দানব।
টিটিভিলাসের একটাই কাজ। তা হল শব্দচুরি। প্রতি দিন নাকি সে লেখার যাবতীয় ভুলগুলি নিজের ঝুলিতে ভরে নিয়ে যায় তার প্রভু শয়তান তথা লুসিফারের কাছে। সেখানেই জমা থাকে সে সব ভুল। কে ক’টি ভুল করছে, তারও হিসেব রাখে টিটিভিলাস। আর শেষ বিচারের দিনে এই ভুলের হিসেব ধরেই পাপীদের নাকি শাস্তি দেওয়া হবে!
অক্ষর-বিভ্রাট আসলে মগজেরই কারসাজি
টিটিভিলাস এখনও টাইপো চুরি করে কি না জানা নেই, তবে অক্ষর-বিভ্রাটের নেপথ্যে রয়েছে মগজেরই কারসাজি। অন্তত চিকিৎসাবিজ্ঞান এমনটাই বলে। এটি কাকতালীয় বিষয় নয়, এর নেপথ্যে কোনও দানব বা পিশাচের হাত নেই, এটি কেবল মস্তিষ্ক, স্নায়ু এবং পেশির এক জটিল সমন্বয়হীনতার বৈজ্ঞানিক বহিঃপ্রকাশ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় টাইপোকে অনেক সময় ‘অ্যাকশন স্লিপ’ বলা হয়। অর্থাৎ, কাজের মাঝে মানসিক বিচ্যুতি।
মস্তিষ্কের ‘প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স’ ঠিক করে, আসলে কী লিখতে চাইছি। এর কাজ হল অর্থবহ শব্দ নিয়ে বাক্য সাজানো। এই কাজটি যখন মস্তিষ্কের ভিতরে চলতে থাকে, সেই সময়ে মস্তিষ্কের ‘মোটর কর্টেক্স’ আঙুলের সঙ্গে মগজের সমন্বয় তৈরি করে। সে ঠিক করে, কোন আঙুলে কোন অক্ষরটি টাইপ করে সেই অর্থবহ শব্দ তৈরি হবে ও তা দিয়ে একটা গোটা বাক্য তৈরি হবে। কিন্তু সমস্যাটা হয় গতি নিয়ে। মস্তিষ্কের চিন্তা করার গতি পেশি সঞ্চালন করে আঙুল নাড়ানোর গতির চেয়ে বহুগুণ বেশি। প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স যখন পরের লাইনের কথা ভাবছে, মোটর কর্টেক্স তখনও আগের শব্দটাই টাইপ করছে। এই দুইয়ের মধ্যে সামান্য ভুলভ্রান্তি হলেই তখন অক্ষর উল্টেপাল্টে যাবে। সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা শব্দ তৈরি হয়ে যাবে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলে ‘নিউরোলজিক্যাল ওভারল্যাপ’।
বিজ্ঞান বলে মন-মগজের অসামঞ্জস্যই টাইপোর কারণ।
মনোবিজ্ঞানের জগতেও টাইপোর ব্যাখ্যা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। আধুনিক মনোবিদ্যার জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড ১৯০১ সালে তাঁর লেখা ‘দ্য সাইকোপ্যাথোলজি অফ এভরি ডে লাইফ’ বইতে এই ধরনের ভুল নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর নামানুসারে একে বলা হয় ‘ফ্রয়েডিয়ান স্লিপ’। অর্থাৎ, অবচেতন মনের ভুল, তা বলার সময়েও হতে পারে, আবার লেখার সময়েও। ফ্রয়েডের মতে, টাইপ করার সময়ে বা কথা বলার সময়ে যে ভুল হয়, তা আসলে সম্পূর্ণ ভুল নয়। অবচেতন মনে জমে থাকা ভয়, গোপন ইচ্ছা বা চেতনারই বহিঃপ্রকাশ যা সচেতন মনের উপরে চড়াও হয়। তখনই ভুলভ্রান্তি হতে থাকে।
এখনকার সময়ে অবশ্য টাইপো হওয়ার অন্য ব্যাখ্যাও করেন মনোবিদেরা। তাঁরা বলেন, ‘ওয়ার্কিং মেমরি’ খুব সীমিত। অর্থাৎ, একই সঙ্গে একাধিক কাজ করলে যেমন গান শুনতে শুনতে লেখা, একই সময়ে মোবাইল বা টিভি দেখা, কারও সঙ্গে গল্প করা, পাশাপাশি মেল টাইপ করা— সবই যদি একত্রে চলতে থাকে, তা হলে মগজের ভিতরে সব জট পাকিয়ে যায়। তখন বিপুল মানসিক চাপ বা ‘কগনিটিভ ওভারলোড’ তৈরি হয়। মনের সঙ্গে মগজের মনোমালিন্য ঘটে। সে কারণেই টাইপো হয়।
মনোবিদ টম ফ্রয়েডের এক থিয়োরি আছে এ বিষয়ে। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করে তিনি যে তত্ত্বটির কথা বলেন তা হল ‘জেনারেল আইডিয়েশন প্রসেস’। কোনও ভাবনা যখন ভাষায় প্রকাশ করা হয়, তখন ভাবার কাজটি করে মস্তিষ্ক। লেখার ব্যাকরণ নিয়ে সে অত ভাবিত নয়। সূক্ষ্ম ভাবে সে লেখার অর্থের দিকে নজর রাখে, তার বানান বা অক্ষর-বিভ্রাটের বিষয়টি এড়িয়ে যায়। একে বলে ‘ব্লাইন্ড স্পট’। যিনি লিখছেন, তাঁর মগজ যেহেতু জানে লেখাটি আসলে কী, তাই ছোটখাটো ভুল হলেও সেটি সে এড়িয়ে যায়। ফলে নিজের লেখার টাইপো, নিজের চোখেই ধরা পড়ে না বেশির ভাগ সময়ে।
তবে টাইপো যতই কৌতুকের বিষয় হোক না কেন, আসলে এটি জানান দেয় কৃত্রিম মেধার যুগে আপনি প্রকৃতই একজন দোষেগুণে ভরা মানুষ, রোবটের মতো নিখুঁত অথচ জড়বৎ যন্ত্র নন।