টিকিট না কেটেই মেসি-রোনাল্ডোদের সামনে! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
টিভির রিমোট হাতে পেলে কি সিনেমা, সিরিয়াল, খবর ছেড়ে স্পোর্টস চ্যানেলের বোতাম টেপেন? খেলা যেমনই হোক— ক্রিকেট আইপিএল, ফুটবল বিশ্বকাপ, টেনিস টুর্নামেন্ট কিংবা কবাডি ম্যাচ, সবই দেখতে ভাল লাগে কি? তবে খেলা দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও ভাল করে তুলতে পারেন টিভির সেটটি বদলে নিন। টেলিভিশনের দুনিয়ায় এখন যে সমস্ত প্রযুক্তি বেরিয়েছে, তাতে ঘরে বসেই মনে হতে পারে স্টেডিয়ামে রয়েছেন। তবে তার জন্য সঠিক প্রযুক্তি এবং কী ধরনের ঘরে কেমনটি মানানসই, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
কেন খেলার ভক্তরা টিভি কেনার সময়ে প্রযুক্তিতে বাড়তি নজর দেবেন?
সিনেমা, সিরিয়ালে সাধারণত চরিত্রেরা নড়াচড়া করে মেপেজুপে। তা ছাড়া পুরো বিষয়টি অনেক রকম এডিটিং-এর মাধ্যমে দৃশ্যত ভাল করার চেষ্টাও করা হয়। স্পোর্টস বা খেলাধুলার সম্প্রচারে সেই এডিটিংয়ের সুযোগ নেই। ক্যামেরা সরাসরি যা দেখে, তা-ই দেখেন দর্শকও। যেহেতু খেলোয়াড়দের নড়াচড়া অনেক দ্রুত হয়, তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিভির পর্দায় মোশন ব্লার-এর সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্যামেরা যতই ভাল হোক, টিভির পর্দায় সেই দৃশ্য ধরার ক্ষমতা না থাকলে ছবি ভাল আসবে না।
এই মুহূর্তে টেলিভিশনের বাজারে দুটি প্রযুক্তি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে—
ওএলইডি: খোলা দেখার জন্য ওএলইডি বা অরগ্যানিক লাইট এমিটিং ডিওড টিভিকে মনে করা হয় সেরা। এর প্রতিটি পিক্সেল নিজে থেকে জ্বলতে ও নিভতে পারে, ফলে এর রেসপন্স টাইম প্রায় তাৎক্ষণিক। ফুটবল বা টেনিসের মতো দ্রুতগতির খেলায় স্ক্রিনে কোনও মোশন ব্লার বা ঘোলাটে ভাব আসে না। এছাড়া এর ‘ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল’-ও খুব ভাল। ফলে ঘরের যে কোনও কোণ থেকে খেলা দেখলেও ছবির রং আর ঔজ্জ্বল্য একই রকম নিখুঁত দেখতে লাগে।
মিনি-এলইডি বা প্রিমিয়াম কিউডিএলইডি: বসার ঘরে যদি দিনের বেলা প্রচুর আলো আসে, তবে মিনি-এলইডি বা কোয়ান্টাম ডট (কিউএলইডি) টিভি ভাল বিকল্প। এগুলির ঔজ্জ্বল্য বেশি হওয়ায় স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট বা ঘাসের সবুজ রং অনেক বেশি প্রাণবন্ত দেখায়।
টিভি কেনার সময়ে কোন ৩টি বিষয় মাথায় রাখবেন?
১. রিফ্রেশ রেট: সাধারণ টিভিতে ৬০ হার্জ রিফ্রেশ রেট থাকে, যা দ্রুতগতির খেলার জন্য যথেষ্ট নয়। স্পোর্টসের জন্য ন্যূনতম ১২০ হার্জ বা তার বেশি রিফ্রেশ রেটের টিভি নেওয়া উচিত। এটি প্রতি সেকেন্ডে ১২০ বার ছবি পরিবর্তন করে, ফলে ফুটবলারদের দৌড় বা বলের গতি একদম মসৃণ দেখায়।
২. মোশন প্রসেসিং: প্রতিটি ব্র্যান্ডের নিজস্ব এআই প্রসেসর থাকে। কোনওটির কগনিটিভ প্রসেসর, কোনওটির আবার এআই ভিশন। এই প্রসেসরগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে খেলাধুলার দ্রুত ফ্রেমগুলিকে ট্র্যাক করে মাঝখানের ফাঁক পূরণ করে, যা স্ক্রিনের কাঁপুনি বা ‘জার্কিং’ দূর করে।
৩. এআই আপস্কেলিং: এ দেশে সব স্পোর্টস চ্যানেল বা লাইভ স্ট্রিম এখনও ফোর কে কোয়ালিটিতে সম্প্রচার হয় না। টিভির এআই আপস্কেলিং প্রযুক্তি সাধারণ এইচডি বা ফুল-এইচডি ফিডকে রিয়েল-টাইমে উন্নীত করে প্রায় ‘ফোর কে’-র কাছাকাছি মানে নিয়ে যায়।
ফুটবল বিশ্বকাপের মরসুমে টিভি কিনলে আর কোন প্রযুক্তির খোঁজ করবেন?
অ্যান্টি-গ্লেয়ার স্ক্রিন: দিনের আলোয় ম্যাচ দেখতে হলে ঘরের জানালার আলো স্ক্রিনে প্রতিফলিত হয়ে অনেক সময় খেলা দেখায় ব্যাঘাত ঘটায়। কিছু প্রিমিয়াম টিভিতে অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ লেয়ার থাকে, যা টিভির পর্দায় আলোর প্রতিফলন হতে দেয় না।
ডলবি অ্যাটমস ও ডাইনামিক সাউন্ড: শুধু ভাল ছবি নয়, স্টেডিয়ামের শব্দ, বলের আওয়াজ একেবারে বাস্তবের মতো ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে তুলে ধরতে হলে দরকার সঠিক অডিয়ো-ও। এখনকার টিভিতে অবজেক্ট ট্র্যাকিং সাউন্ড থাকে, যা বলের নড়াচড়ার সঙ্গে সঙ্গে শব্দের অভিমুখ পরিবর্তন করে স্টেডিয়ামের মতো আবহ তৈরি করে।
তাই ফুটবল বিশ্বকাপের মরসুমে নতুন টিভি কেনার আগে শুধু স্ক্রিনের মাপ বড় কি ছোট না দেখে ১২০ হার্জ প্যানেল, শক্তিশালী এআই প্রসেসর এবং একটি ভালো সাউন্ডবার বা ডলবি অ্যাটমস অডিও প্রযুক্তির খোঁজ করুন সবার আগে।
দাম কেমন?
এ দেশে ওএলইডি প্রযুক্তির টিভি ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু। তবে তা বেড়ে ৬-৭ লক্ষ টাকারও উপরে উঠতে পারে পর্দার আকার এবং অন্যান্য প্রযুক্তি কী কী থাকছে তার নিরিখে।
প্রিমিয়াম কিউডি এলইডি বা মিনি এলইডির দাম ৫৫ হাজারের উপর থেকে শুরু। যা টিভির পর্দার আকার ও বাকি প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।