Protest in PoK

আরও তিন প্রতিবাদীকে গুলি করে হত্যা করল পাকিস্তান! পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অব্যাহত নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়ন

প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় নিরাপত্তা বাহিনী। প্রতিবাদীদের লক্ষ্য করে গুলিও চালায় বলে অভিযোগ। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নইম আমিন নামে এক প্রতিবাদী-সহ তিন জন নিহত হয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১৬:৫৬
অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী।

অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী। — প্রতীকী চিত্র।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের উপর দমনপীড়ন অব্যাহত পাকিস্তানি বাহিনীর। অভিযোগ, রবিবারও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে পাক নিরাপত্তা বাহিনী। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে ভোরের ওই অভিযানে অন্তত তিন জন নিহত হয়েছেন বলে পাক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ। জখম হয়েছেন আরও বেশ কয়েক জন।

Advertisement

গত কয়েক দিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সাধারণ জনতার। ওই অঞ্চলে আর্থিক দুর্দশা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’। সম্প্রতি ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। তার পর থেকেই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাওয়ালকোটে ইদগাহ ময়দানে গত কয়েক দিন ধরে ধর্নায় বসেছেন আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির সদস্য এবং সমর্থকেরা। রবিবার ভোরে ফজ়রের নমাজ চলাকালীন সেখানে অভিযান চালায় পাক নিরাপত্তা বাহিনী।

প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় নিরাপত্তা বাহিনী। প্রতিবাদীদের লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নইম আমিন নামে এক প্রতিবাদী-সহ তিন জন নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও বেশ কয়েক জন। যদিও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও হতাহতের কথা জানা যায়নি।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোট থেকেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যত্রও। সম্প্রতি রাওয়ালকোটে প্রায় ৭০ হাজার বিক্ষোভকারীর জমায়েতে পাক বাহিনী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে গুলি চালায়। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগ করলে সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভ দমনে সেনা ও আধা সামরিক রেঞ্জার্স বাহিনীর গুলিতে ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন। আহতের সংখ্যা ছিল ২০০-রও বেশি। এর পরে রাওয়ালকোটের সীমানা ছাড়িয়ে মুজাফ্‌‌ফরাবাদ বাগ এবং নীলম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে গণবিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পাক সরকার দীর্ঘ দিন ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের উন্নতির বিষয়ে উদাসীন। জনগণের মৌলিক অধিকার পর্যন্ত সুরক্ষিত করা হচ্ছে না।

প্রতিবাদীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীই অশান্তিতে উস্কানি দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করছে নিরাপত্তা বাহিনী, যাতে মূল দাবিদাওয়াগুলি থেকে নজর ঘোরানো যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টানা ১২ দিন ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সাধারণ বাসিন্দাদের উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ চাপিয়েছে প্রশাসন। যার জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাবার এবং ওষুধ জোগাড় করতে দৃশ্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের।

Advertisement
আরও পড়ুন