ছবি: সংগৃহীত।
যাঁরা অফিস কাছারিতে দিনের অর্ধেক সময় কাটিয়ে দেন, তাঁদের সুস্বাস্থ্যের পথে বড় বাধা হল অকারণ হুটহাট খিদে। এই মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হচ্ছে তো ওই ঝাল কিংবা নোনতা না হলে চলবেই না। দিনের নানা সময়ে হঠাৎ হঠাৎ অমন কী খাই কী খাই ভাবের পোশাকি নাম ‘ক্রেভিং’। যার দৌলতে সারা দিনে নানা রকম অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া হয়ে থাকে। বিকেলের দিকে ভাজাভুজি, মাঝরাতে মিষ্টি, চানাচুর, চিপস, ইত্যাদি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছের কাছে হার মানতে হয়। ফল—মেদবৃদ্ধি, লিভার এবং অন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ, শরীরের মেটাবলিজম নষ্ট এবং তার প্রভাবে নানা রকম রোগের ঝুঁকিবৃদ্ধি। অথচ এই জটিল সমস্যার খুব সরল সমাধান হতে পারে ছাতু।
ছাতু হল এমন এক খাবার যা দীর্ঘ ক্ষণ শুধু পেট ভরিয়েই রাখে না খিদে বোধ এবং সময়ে-অসময়ে খাওয়ার ইচ্ছেতেও লাগাম পরায়। তাই যাঁরা ওজন কমাতে চান এবং এটাসেটা খাওয়ার ইচ্ছেয় লাগাম টানতে পারছেন না, তাঁরা খাদ্যতালিকায় ছাতু কেন রাখবেন এবং কখন কী ভাবে খাবেন জেনে নিন।
১. কেন পেট ভরিয়ে রাখে
ছাতু মূলত ভাজা ছোলার গুঁড়ো। এতে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং ডায়েটারি ফাইবার থাকে। প্রোটিন এবং ফাইবার পরিপাক প্রক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। তাই পেট দীর্ঘ ক্ষণ ভরে থাকে। শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে পারে না বলে ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতাও দূর হয়।
২. গ্লাইসেমিক ইনডেক্স
ক্রেভিংয়ের মূল কারণ হল ‘ব্লাড সুগার স্পাইক’। ছাতুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম হওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই ছাতু খাওয়ার পর শরীর ধীরে ধীরে শক্তি পায়। ময়দা বা চিনির মতো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট খেলে যে দ্রুত খিদে পাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, তা ছাতুর ক্ষেত্রে হয় না।
৩. পুষ্টির জোগানদার
অনেক সময় শরীরে পুষ্টির অভাব বা এনার্জি কমে গেলে শরীর তাৎক্ষনিক শক্তি এবং একই সঙ্গে মন ভাল করার অনুভূতি পেতে চায়, যা মিষ্টি কিংবা জাঙ্ক ফুডে রয়েছে। ছাতুতে থাকা প্রোটিন এবং ফাইবারের পাশাপাশি আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো জরুরি খনিজ শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির পর্যাপ্ত জোগান দেয় বলে ক্রেভিং কমে যায়।
কী ভাবে খেলে কাজ হবে বেশি?
এক গ্লাস জলে ২-৩ চামচ ছাতু, সামান্য লেবুর রস, বিটনুন এবং জিরেগুঁড়ো মিশিয়ে শরবত বানিয়ে নিতে পারেন। বিকেলে যে সময়ে এটাসেটা খাওয়ার ইচ্ছে বাড়ে, তার আধ ঘণ্টা আগে ছাতুর শরবত খেয়ে নিন। দেখবেন রাতের খাবারের আগে আর কোনও অস্বাস্থ্যকর জিনিস খাওয়ার ইচ্ছেই জাগবে না।