ডিম-কালি থেকে বাঁচতে স্বপন নন্দীর দৌড়। —নিজস্ব চিত্র।
দু’দিকে তাঁকে ঘিরে রয়েছে পুলিশ। সেই ঘেরাটোপে থেকেও নিস্তার মেলেনি। ডিম-বর্ষণ থেকে নিজেকে বাঁচাতে মাথায় ক্যাপ পরেছিলেন। মুখ ঢেকেছিলেন রুমালে। তার পরেও প্রাক্তন পুরপ্রধানকে চিনতে পেরে তাড়া করল উত্তেজিত জনতা। নিজেকে রক্ষা করতে রুদ্ধশ্বাস দৌড় দিলেন আরামবাগের প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপন নন্দী। এক হাতে পুলিশের ঢাল নিয়ে দৌড়োতে দৌড়োতে অন্য হাতে সামলালেন ট্রাউজ়ার্স। দৌড়োতে গিয়ে পড়ে গেলেন পথকুকুরের উপরেও। রবিবার বিকেলে এমনই ছবি দেখা গেল হুগলির আরামবাগের রাস্তায়।
গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপনের। সুদূর কেরলের তিরুঅনন্তপুরম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে এনেছে পুলিশ। রবিবার আরামবাগে পৌঁছোতেই নাগরিকেরা প্রাক্তন পুরপ্রধানকে ‘স্বাগত’ জানালেন কাঁচা ডিম ছুড়ে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আরামবাগ গৌরহাটি মোড় থেকে আরামবাগ থানা পর্যন্ত হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তৃণমূলের স্বপনকে। সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার দু’প্রান্ত থেকে শুরু হয় ডিম-বর্ষণ। পুলিশের গাড়ি থেকে নামার আগেই সাদা রঙের গাড়িটি ডিমের ঘায়ে হলুদ হয়ে যায়। গাড়ি থেকে স্বপনকে নামানোর সময় চড়-থাপ্পড় কষান কেউ কেউ। নিজেকে বাঁচাতে পুলিশের ঢাল হাতে নিয়েই দৌড় দেন স্বপন। কিন্তু ‘মার-মার’ শব্দ করে তাঁর পিছু নেয় একদল লোক। অনভ্যাসের দৌড়ে বার বার হোঁচট খান পুরপ্রধান। সাদা রঙের শার্টে এসে পড়ে কালি, উড়ে আসে কাঁচা ডিম। ওই ভাবে থানা পর্যন্ত দৌড়োতে থাকেন তিনি।
হুগলি (গ্রামীণ) পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিংহের তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়া বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) কেরল থেকে স্বপনকে ধরে এনেছে রবিবারই। বিকেলে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই খবর পেয়ে রাস্তায় প্রচুর বিজেপি কর্মী-সমর্থক জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সাধারণ মানুষও। স্বপনকে দেখে সমস্বরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকে থাকেন। সেই সঙ্গে শুরু হয় ডিম ছোড়া।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্বপনকে নিয়ে দ্রুত থানায় চলে যায় পুলিশ। পুলিশের গায়েও লেগেছে ছোড়া ডিম আর কালির দাগ। পুলিশ সূত্রে খবর, আরামবাগের তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে সাত কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে নেওয়া হতে পারে স্বপনকে।