কফি পানে দুর্বল হতে পারে মূত্রাশয়? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
ক্লান্তি আসুক বা ঘুম ঘুম ভাব, ব্যস্ততার ফাঁকে চাঙ্গা হয়ে ওঠার রসদ এক কাপ কফি। এতে থাকা ক্যাফিন নিমেষে স্নায়ুকে চাঙ্গা করে। দ্রুত শক্তিও জোগায়। চনমনে ভাব তৈরি হয় বলেই এই পানীয়ের এত জনপ্রিয়তা।
কিন্তু সেই পানীয় যে নীরবে মূত্রাশয়ের ক্ষতি করতে পারে, তা জানেন কি? এমনিতে কফির গুণ অনেক। দুধ-চিনি ছাড়া কালো কফি স্নায়ুকে যেমন চাঙ্গা রাখে, লিভারে ফ্যাট জমতে দেয় না। হার্ট ভাল রাখে। কিন্তু সেই পরিমিতিতেই অভাব হলে ঘটতে পারে বিপত্তি!
ঘন ঘন কফির কাপে যাঁরা চুমুক দেন তাঁদের কেউ কেউ খেয়াল করতে পারেন, কফি খাওয়ার পরে প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি এমনও হতে পারে, যখন প্রস্রাব ধরে রাখা কষ্টকর হতে পারে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত এবং নিয়মিত কফি পানে মূত্রাশয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কফি কিছুটা ‘ডাইইউরেটিক’ অর্থাৎ কফি প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ঠিক সেই কারণে, কফি পানের পাশাপাশি জল কম খেলে হজমের সমস্যা এবং জলশূন্যতা দেখা দেয়।
নয়ডার কিডনি রোগের চিকিৎসক মনোজ সিংহল জানাচ্ছেন, কফি যেমন স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে তেমনই বেশি খাওয়ার প্রবণতা ক্ষতি করে পারে মূত্রাশয়ের।
কফিতে এমন কিছু উপাদান থাকে, যার ফলে প্রস্রাবের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। সাধারণত, এই বিষয়টি কেউ লক্ষ করেন না। ঘন ঘন কফি খেলে, এমনটা হওয়া স্বাভাবিক।
চিকিৎসকের কথায়, ‘‘মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফিন মূত্রাশয়ের ভিতরের আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে কফির মাত্রা বেশি হলে, মূত্রাশয়ের প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা হ্রাস পায়।’’
কী ভাবে বুঝবেন কফির প্রভাবে মূত্রাশয়ের ক্ষমতা কমছে
· যথেষ্ট জল না খাওয়া সত্ত্বেও ঘন ঘন কফি খাওয়ার পরে প্রস্রাবের বেগ আসবে
· কোনও কারণ ছাড়াই প্রস্রাব পেতে পারে
· রাতে বার বার প্রস্রাব পাবে
· মূত্রাশয়ে অস্বস্তি, জ্বালা, ব্যথা হতে পারে
· প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমবে
কফিতে থাকা ক্যাফিন মাত্রাতিরিক্ত শরীরে গেলে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। মূত্রনালীর সংক্রমণ, প্রস্টেট বেড়ে যাওয়া, পেলভিক ফ্লোরের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, এমন নানা লক্ষণ চোখে পড়বে।
প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। প্রস্টেট বেড়ে যাওয়া বা মূত্রনালী সংক্রমণের আরও নানা কারণ থাকে। তবে কফি খুব বেশি খাওয়ার প্রবণতা থাকলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।