TMC's Rebel MPs

এনসিপিআই? এনসিপিএন? এ আবার কোন দল ভাই? তৃণমূলের ‘বিদ্রোহীদের’ নতুন পার্টির নাম শুনে ত্রিপুরার রাজনীতিতে বিস্ময়

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা আইনি প্যাঁচ এড়াতে যে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন, বিকেলের আগেও এমন একটি দল যে আছে, তা কেউই জানতেন না। জানা গিয়েছে, দলটির প্রতিষ্ঠা হয়েছে ত্রিপুরায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ২০:৪৮
দিল্লিতে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা।

দিল্লিতে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা। —নিজস্ব চিত্র।

ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া। সংক্ষেপে এনসিপিআই। আবার নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, দলটির সংক্ষিপ্ত নাম এনসিপিএন। এই দলই এখন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন আশ্রয়। সেখানেই যোগ দিচ্ছেন তাঁরা। দিল্লিতে বৈঠকশেষে গাড়ি করে বেরোনোর সময় ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী জানালেন, পশ্চিমবঙ্গে ফিরে পার্টি অফিস খুলবেন। কিন্তু এ কোন দলে যোগ দিলেন বা দিচ্ছেন তাঁরা? তা-ই নিয়েই রবিবার সন্ধ্যা থেকে জোরালো আলোচনা চলছে।

Advertisement

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা আইনি প্যাঁচ এড়াতে যে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন, সে রকম একটি দল যে আছে, রবিবার বিকেলের আগে তা কেউই প্রায় জানতেন না। অরূপ জানিয়েছেন, দলটি ত্রিপুরার। কিন্তু ত্রিপুরার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাকা মাথার নেতারাও ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার নাম শুনে মাথা চুলকোচ্ছেন। সকলেরই একই প্রশ্ন, ‘‘এ আবার কোন দল?’’

বিভিন্ন সূত্র ঘেঁটে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-শতাব্দী রায়-সায়নী ঘোষদের নতুন দলের ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায়। নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, এই নামের একটি দল ২০২৩ সালে আরইউপিপি (রেজ়িস্টার্ড আনরেকগনাইজ়ড পলিটিক্যাল পার্টি) তালিকাভুক্ত হয়। কমিশন অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলটি ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোটে দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। কৈলাসহর এবং চউমানু আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। প্রতীক ছিল কলমের নিব এবং সাতটি রশ্মি। কোনও প্রার্থীই জেতেননি। কৈলাসহর কেন্দ্রে ২৮৬টি ভোট পেয়েছিলেন জাহাঙ্গির আলি। চউমানুর প্রার্থী বড়জেদা ত্রিপুরা পেয়েছিলেন ৫৩৬টি ভোট।

এমন একটি দলের খোঁজখবর করতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল ত্রিপুরার বেশ কয়েক জন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে। তাঁরাও নাম শুনে বিশ বাঁও জলে। যেমন বিজেপির সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এই রকম একটা নাম আমি আগে শুনেছিলাম। কিন্তু ধারণা নেই যে ত্রিপুরায় এদের অস্তিত্ব আছে কি না।’’ ত্রিপুরার আর এক বিজেপি নেতা আশিসলাল সিংহের মন্তব্য, ‘‘এমন কোনও পার্টির অস্তিত্ব আমার রাজ্যে আছে কি না, জানি না।’’ প্রাক্তন সাংসদ তথা ত্রিপুরার বর্তমান বিরোধী দলনেতা, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলছেন, এমন কোনও দলের নাম তিনিও জানেন না, শোনেনওনি। ত্রিপুরায় বর্ষীয়ান সাংবাদিক দীপন্ত মজুমদারের মন্তব্য, ‘‘এই নামে কোনও রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু ত্রিপুরার মাটিতে এই নামে কোনও রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নেই।’’

সব মিলিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদের নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।

Advertisement
আরও পড়ুন