নইম হাসান। —ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটার নইম আলির অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটার নইমকে মারধরের অভিযোগ তিন পুলিশকর্মীকে নিলম্বিত করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মহম্মদ শফিকুল ইসলাম, মহম্মদ রাসেল চৌধুরি ও আরও এক কনস্টেবলকে নিলম্বিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শওকত আলি নইমের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। ‘দ্য ডেইলি সান’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আমিরুল বলেন, “প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে, পুলিশকর্মীরা ঠিক মতো নিয়ম পালন করেননি। আমরা আশ্বস্ত করছি, নইম ন্যায়বিচার পাবেন। এই ঘটনায় যারা যুক্ত। তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।”
‘ইএসপিএন ক্রিকইনফো’ একটি রিপোর্টে জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজি অটোতে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন নইম। রাস্তায় অটো থামিয়ে তাঁকে অন্য একটি অটোতে উঠতে বাধ্য করেন কয়েক জন পুলিশকর্মী। নইম বার বার নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পুলিশ তা শুনতে চায়নি।
নইম বলেন, “আমি বার বার নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ওরা শুনতে চায়নি। আমাকে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। শেষে পুলিশ স্টেশনেও গিয়েও আমি আমার পরিচয় দিই। তখন অফিসার ইন-চার্জ আমাকে চোখ নামিয়ে কথা বলতে বলেন।” অবশেষে শনিবার তাঁকে ছাড়া হয়। পুলিশের মারে আহত হয়েছেন তিনি। ফলে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাও হয়েছে নইমের।
বাংলাদেশের হয়ে ১৪ টেস্ট খেলা নইম প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তের পদ্ধতি নিয়েও। তিনি বলেন, “ওঁরা যদি সত্যি পুলিশকর্মী হতেন, তা হলে তো আমাকে পুলিশের গাড়িতে তুলতেন। আমাকে অটোতে কেন তুললেন? আমি এই ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। আমার ন্যায়বিচার চাই।”
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। একটি বিবৃতি দিয়ে সঠিক তদন্তের দাবি করেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার নইমকে যে ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে তাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড উদ্বিগ্ন। এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করছি আমরা। পুলিশের কাছে আমাদের অনুরোধ, গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত করতে হবে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে।”
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুল রহিমও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন , “নইমের সঙ্গে যা হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না। নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। আমার কষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে আমি এই ঘটনার নিন্দা করছি। নইম, আমরা তোমার পাশে আছি।” এই ঘটনায় অবশেষে পদক্ষেপ করেছে পুলিশ।