Banner at BJP Leader's House

‘বাড়ির চারপাশে ঘুরে লাভ নেই’, দলবদলে আগ্রহী তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে ব্যানার টাঙালেন বিজেপি নেতা!

পূর্ব বর্ধমানের ওই বিজেপি নেতার দাবি, পদ্মশিবিরে আসতে চেয়ে প্রতি দিনই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন তৃণমূলের লোকজন। ভিড়ের চোটে তিতিবিরক্ত হয়ে গিয়েছেন। তাই বাড়ির সামনে ব্যানার টাঙিয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ২২:১১
Banner at BJP Leader\\\\\\\'s House

বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে এই ব্যানার ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। —নিজস্ব চিত্র।

বিধানসভা ভোটে পর্যুদস্ত হওয়ার পর কিনারায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল। দল ছাড়ছেন একের পর এক শীর্ষ নেতা। ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা দিল্লিতে গিয়ে নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন। বিদ্রোহী বিধায়কেরা বলছেন তাঁরাই আসল তৃণমূল। তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মীরাও রংবদলে আগ্রহী। ঘাসফুল ছেড়ে অনেকেই ভিড়তে চাইছেন পদ্মশিবিরে। তাতেই আতান্তরে পড়েছেন বিজেপি নেতা মানসকুমার দে। তিনি বিরক্ত এবং বিচলিতও। তাই বাড়ির সামনে ব্যানার টাঙিয়েছেন।

Advertisement

পূর্ব বর্ধমানের ওই বিজেপি নেতার দাবি, পদ্মশিবিরে আসতে চেয়ে প্রতি দিনই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন তৃণমূলের লোকজন। ভিড়ের চোটে তিতিবিরক্ত হয়ে গিয়েছেন। তাই বাড়ির সামনে ব্যানার টাঙিয়েছেন। যাতে লেখা, ‘‘বাড়ির চারপাশে ঘুরে কোনও লাভ নেই’’ এবং ‘‘তৃণমূল থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের বিজেপিতে কোনও জায়গা নেই।’’

বর্ধমানের শাঁকারিপুকুর এলাকায় বাড়ির গেটের সামনেই ওই হোর্ডিং টাঙিয়ে দিয়েছেন বিজেপির ৪ নম্বর নগর মণ্ডলের সহ-সভাপতি মানস কুমার দে। তাঁর দাবি, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল প্রচুর কর্মী বিজেপিতে ভিড়তে চাইছেন। সেই অনুরোধ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং বাড়িতেও চলে আসছেন। সে জন্যই এই ব্যানার টাঙিয়েছেন। ব্যানারে স্পষ্ট ভাবে লেখা, তৃণমূল দল থেকে কোনও কর্মী-সমর্থকদের বিজেপি-তে জায়গা নেই। তাই বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে ঘুরেও লাভ নেই।

রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার বছর খানেক আগে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন কেউ যেন সিপিএম নেতাদের বাড়ি না যান। বাড়িতে নিমন্ত্রণ করলেও ‘না’। এ বার বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে এই ব্যানার নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বর্ধমানে।

এমন ব্যানার টাঙানোর সত্যই প্রয়োজন ছিল? বাড়িমালিক মানসের কথায়, ‘‘আমি দীর্ঘ দিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। একদা আমাদের দলের কর্মীদের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দলের কাজ করতে হয়েছে। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর অনেকেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছেন, তাঁদের দলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’’ পাশাপাশি, তিনি বলছেন, কাউকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব নেবেন। সেটাই জানিয়ে দিতে চেয়েছেন।

বিজেপির স্থানীয় নেতাদের মতে, মানসের এই কাণ্ড দলের আদর্শগত অবস্থানের প্রতিফলন। বেনো জল যেন না ঢোকে, তা-ই আগেভাগে বাঁধ দিয়েছেন বিজেপি নেতা।

Advertisement
আরও পড়ুন