Diarrhea Rises

পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের পেটের সমস্যা, ডায়েরিয়া বাড়ছে, কোন ভাইরাসের উৎপাত? জানাল আইসিএমআর

পেটের সমস্যা ঘরে ঘরে। ডায়েরিয়ায় ভুগছে শিশুরা। ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সি শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এর কারণ কী? কোন ভাইরাসের কারণে এমন হচ্ছে তা জানাল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৯
Diarrhea Cases Rising In Children, ICMR study reveals the causes

ঘরে ঘরে ডায়েরিয়া, কোন ভাইরাস ছড়াচ্ছে? ছবি: সংগৃহীত।

ঘরে ঘরে পেটের সমস্যা। ছোটরাই বেশি ভুগছে। ডায়েরিয়া, বমি বা রক্ত আমাশয়ের প্রকোপও বাড়ছে। এতদিন পেটের রোগ বা ডায়েরিয়ার জন্য রোটাভাইরাসকে দায়ী করা হত। কিন্তু এখন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, যে ধরনের ডায়েরিয়া ছড়াচ্ছে তার জন্য রোটাভাইরাস দায়ী নয়। তা ঘটাচ্ছে ‘হিউম্যান অ্যাডিনোভাইরাস-এফ’ (এইচএডিভি-এফ)। মূলত ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সি শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

Advertisement

অ্যাডিনোভাইরাস নতুন নয়। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী এই ভাইরাস বর্তমানে তার রূপ বদলাতে শুরু করেছে। অ্যাডিনোভাইরাস-এফ তারই এক উপরূপ। আইসিএমআর জানাচ্ছে, অ্যাডিনোভাইরাসের অসংখ্য উপরূপ তৈরি হয়েছে যার মধ্যে অ্যডিনোভাইরাস-এফ উপরূপটি সবচেয়ে বেশি সংক্রামক। এটি শরীরে ঢুকলে অগ্ন্যাশয়ে সংক্রমণের কারণও হতে পারে। কেবল বমি, পেট খারাপ নয়, প্যানক্রিয়াটাইটিসের কারণ হয়ে উঠতে পারে এই ভাইরাস।

এটি দূষিত জল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকেই মূলত ছড়ায়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকলেও রোগটি হতে পারে। বাসি খাবার, রাস্তার কাটা ফল, শরবত, দূষিত জল এবং পচা খাবার থেকে সংক্রমণ খুব দ্রুত ঘটতে পারে। দীর্ঘ ক্ষণ খোলা রেখে দেওয়া খাবার, যাতে মাছি বা পোকা বসেছে, তেমন খাবার খেলেও ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। ছোটদের পাকস্থলীতে আলসারের কারণও হয়ে উঠতে পারে এই ভাইরাস।

এই ভাইরাস একবার শরীরে ঢুকলে সবচেয়ে আগে পাকস্থলী ও অন্ত্রকে আক্রমণ করে। হজম প্রক্রিয়াকে তছনছ করে দেয়। এর কারণে অন্ত্রে বিষক্রিয়া ঘটে। যে কারণে রোগীর ঘন ঘন বমি হয়, রক্ত আমাশয় দেখা দেয়। শরীর ধীরে ধীরে জলশূন্য হতে থাকে। মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। আইসিএমআর জানিয়েছে, মরসুম বদলের সময়ে সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণ হয়ই, তবে অ্যাডিনোভাইরাস-এফ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রাস্তায় বিক্রি হওয়া খাবার, কাটা ফল, লাল-নীল শরবত ইত্যাদি খাওয়া বন্ধ করাই ভাল। দূষিত জল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন