দিনভর ফোনেই মন? ছবি: সংগৃহীত।
স্মার্টফোনে ভিডিয়ো গেম, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, সিনেমা, সিরিজ অথবা পড়াশোনা— কখনও সখনও স্মার্টফোনের বদলে হাতে আসে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ। কিন্তু দিনের অধিকাংশ সময় কাটে নীল আলোর দিকে তাকিয়ে, ডিজিটাল দুনিয়ায় ডুবে থেকে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন চিকিৎসক থেকে মনোবিদেরা। কী ভাবে এই সমস্যা মুক্তি পাওয়া যায়?
তার আগে বুঝতে হবে, ডিজিটাল দুনিয়ায় মজে থাকার কারণে জেনারেশন জ়েড বা আজকের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধৈর্যের অভাব এবং আগ্রাসী মনোভাব তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রতি দিন কিছু ক্ষণের জন্য প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ফোনের দুনিয়ায় ডুবে থাকলে কী হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত
কী ভাবে অল্প সময়ের জন্য ডিজিটাল দুনিয়া থেকে সরে থাকা সম্ভব?
১. প্রকৃতির কাছে থাকা: রোজ খানিক ক্ষণের জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে হবে। হাতে যেন ফোন না থাকে সে সময়ে। বাড়ির সামনের রাস্তা বা পার্কে হাঁটাচলা করে আসা দরকার। তা ছাড়া প্রতি দিন খানিক ক্ষণের জন্য বাগান করলে আরও ভাল। মাত্র আধ ঘণ্টাও যদি এমন ভাবে কাটানো যায়, তা হলে ধৈর্য ফিরতে পারে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমতে পারে। এই অভ্যাসে নিজের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হবে, আশপাশের বাস্তব দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হবে।
২. নিঃশ্বাসের অনুশীলন: প্রাণায়াম বা যে কোনও ধরনের গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে মানসিক চাপ কমতে পারে। ভাবনাচিন্তা না করে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি, কিছুটা সময় একা কাটালে নিজের মনের কথা শোনা যায়। এই নির্জনতা তাদের ডিজিটাল দুনিয়ার ক্লান্তি দূর করতে পারে বলে আশা করা যায়।
৩. পরিবারের সান্নিধ্য: সপ্তাহে এক দিন বা দু’দিন পরিবার এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানো উচিত। কোথাও খেতে যাওয়া, বাড়িতে নিমন্ত্রণ করা, খেলাধুলো করা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সামনাসামনি বসে আড্ডা দেওয়া— এই অভ্যাসগুলি একটু একটু করে মনকে ফোনের জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনতে পারে।
৪. সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা: যে কোনও সমাজসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়া দরকার। ফোনের পর্দা বা ব্র্যান্ড বা রিল ভিডিয়ো থেকে মন সরিয়ে অভাবী বা নিঃসঙ্গ মানুষের জন্য কিছু করলে জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। মন উদার হতে শিখবে।
৫. শখকে গুরুত্ব দেওয়া: ডায়েরি লেখা, আঁকা বা রং করা, নাচ-গান করা, নির্দিষ্ট খেলা অনুশীলন করা অথবা রান্না করা— নিজের যা পছন্দ, তাতে খানিক সময় ব্যয় করা উচিত। কিন্তু তার সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম যুক্ত না করলেই ভাল। যা-ই করুন, তা নিজের জন্য করুন, অন্যকে দেখানোর জন্য ছবি তোলা বা ভিডিয়ো করা থেকে বিরত থাকলে অনেক বেশি শান্ত থাকবে মন।