অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কোন কোন জিনিস ভুলেও কেনা উচিত নয় । ছবি: সংগৃহীত।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শরীরে আসে অনেক রকম বদল। কখনও মেজাজ অকারণেই বিগড়ে যায়, কখনও আবার নতুন সদস্যের আগমনের খুশিতে মন ফুরফুরে লাগে। হবু মায়েরা এখন কোনও রকম সমস্যা হলেই নেটমাধ্যমে তার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। আর নেটদুনিয়ায় রকমারি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে এমন কিছু জিনিস কিনে ফেলেন যা আদৌ প্রয়োজনের নয়। কেনার পরে উপকারের চেয়ে আফসোসই বেশি হয়। চিকিৎসক ভূমিকা শুক্ল জানালেন অন্তঃসত্ত্বাদের কোন জিনিসগুলি কিনে টাকার অপচয় না করাই ভাল।
প্রেগন্যান্সি বালিশ: অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ঘুমোনোর সময় অনেক মহিলারই অনেক রকম ভোগান্তি হয়। সেই ভোগান্তি দূর করতে এখন অনলাইনে বিভিন্ন সংস্থার প্রেগন্যান্সি পিলো বা বলিশ পাওয়া যায়। অনেকে উপকারের আশায় সেই বালিশ কেনেন। তবে চিকিৎসকের মতে, এই বালিশ নিয়েও যে ভাল ঘুম হবে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বালিশ ব্যবহারের পরেও ঘুম না আসতে পারে। দামি প্রেগন্যান্সি বালিশ না কিনে সাধারণ বালিশ দিয়েও একই কাজ করা যেতে পারে।
ফেটাল ডপলার: এখন হবু মায়েরা বাড়িতে বসেও ভ্রুণের হৃদ্স্পন্দন শোনার জন্য ফেটাল ডপলার কিনে ফেলেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, হবু মায়েদের জন্য ফেটাল ডপলার না কেনাই ভাল। চিকিৎসকেরা ছাড়া এই যন্ত্রের ব্যবহার করা সম্ভব হয় না অনেক ক্ষেত্রেই। এ ছাড়া অনেক সময়েই এই যন্ত্রের সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার না হওয়ার কারণে হবু মায়েদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তাই এই যন্ত্র চিকিৎসকদের জন্যই ব্যবহার করা ভাল।
স্ট্রেচ মার্ক ক্রিম: অন্তঃসত্ত্বাদের ক্ষেত্রে স্ট্রেচ মার্ক একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে অনেকেই স্ট্রেচমার্ক ক্রিম ব্যবহার করেন। তবে স্ট্রেচ মার্ক জিন আর ত্বকের স্থিতিস্থাপকতার উপর নির্ভর করে। তাই কোনও ক্রিমই ১০০ শতাংশ স্ট্রেচ মার্ক রুখতে পারে না। তাই অযথা অনেক দাম দিয়ে এই ক্রিম না কেনাই ভাল। বদলে ভাল ময়শ্চারাইজ়ার বা নারকেল তেলের নিয়মিত ব্যবহারেই এই সমস্যা খানিকটা হলেও রুখতে পারেন।
সুপারফুড: অন্তঃসত্ত্বা হলেই যে আপনাকে প্রোটিন পাউডার, রকমারি ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে, এমন কোনও মানে নেই। ডায়েট ঠিকঠাক হলে কিন্তু অনেক সময় সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না। তাই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে এই সময় মুঠো মুঠো সাপ্লিমেন্ট খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তবেই খেতে শুরু করুন।
অ্যাবডোমিনাল বেল্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই বেল্ট ভুলেও ব্যবহার করবেন না। দীর্ঘ দিন এই বেল্টের ব্যবহার পেশিকে দুর্বল করে দেয়।