গরমে কি রোজের ডায়েটে নুনের মাত্রা বাড়ানো জরুরি? ছবি: সংগৃহীত।
নুন শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, সেই সঙ্গে শারীরবৃত্তীয় নানা কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। স্নায়ু এবং পেশির কার্যকারিতা ঠিক রাখে। শরীরে জল এবং খনিজের ভারসাম্য ঠিক রাখতেও নুন গুরুত্বপূর্ণ। নুনের এত গুণ থাকা সত্ত্বেও নুন কিন্তু কারও কারও শরীরে বিষের মতো কাজ করে। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন এমন রোগীরা নুন খেলে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ ছাড়াও রক্ত থেকে ক্যালশিয়াম শোষণ করতে বাধা দেয় নুন। তাই চিকিৎসকেরা রোজের ডায়েটে ৫ গ্রামের বেশি নুন খেতে বারণ করেন। তবে গরমে ঘাম বেশি হয়, ঘামের সঙ্গে নুনও শরীরের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। তা হলে কি গরমের দিনগুলিতে একটু বেশি করে নুন খেতে হবে? বারে বারে নুন-চিনি মেশানো জলে চুমুক দিতে হবে?
গরমে যাঁদের ঘাম বেশি হয় তাঁদের একটু বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। চিকিৎসক এস.এ মল্লিক বলেন, ‘‘যাঁদের সারা দিন রোদে রোদে ঘুরে কাজ করতে হয়, যাঁদের অত্যধিক বেশি ঘাম হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘন ঘন নুন-চিনির জল নয়, ওআরএস খাওয়া নিরাপদ। তবে সাধারণ দিনে সারা দিনে এক থেকে দেড় গ্লাসের বেশি নয়। এক গ্লাস মানে ২০০ মিলিলিটারের মতো। খুব সমস্যা হলে ৫০০ মিলিলিটার ওআরএস খাওয়া যেতে পারে। তবে যাঁরা বাড়িতে বা অফিসে বসে কাজ করছেন, যাঁদের অতটাও ঘাম হয় না, যাঁদের শরীরে আর্দ্রতার সমতা বজায় রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অযথা ওআরএস বা নুন-চিনির জল কোনওটাই খাওয়া ঠিক নয়।’’
গরমে ঘামের সঙ্গে নুন বেরিয়ে যাচ্ছে বলে অনেকেই রোজ নুন-চিনির জল খেতে শুরু করেন, সে ক্ষেত্রে প্রেশার বা রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে সমস্যা উল্টে বেড়ে যায়। অযথা নুন-চিনির জল বা ওআরএস, কোনওটাই খাওয়া উচিত নয়। ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীর থেকে নুন বেরিয়ে গেলে শরীর কিছু উপসর্গের মাধ্যমে তা বুঝিয়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে পায়ের পেশিতে টান ধরা, ক্লান্ত লাগা, সারা দিন ঘুম ঘুম ভাব, কাজ করায় অনীহার মতো উপসর্গগুলি দেখলে সতর্ক হোন। সেই সব দিনেই ওআরআস খান, ফলের রস খান। অথযা লিটার লিটার ওআরএস খেলে কিন্তু রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, কিডনি ও হার্টের উপর চাপ পড়তে পারে। তাই সতর্ক থাকুন। কিডনির সমস্যা বা লিভারের সমস্যা থাকলে অবশ্যই গরমে নুন-চিনির জল বা ওআরএস খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।