water intake while working in AC environment

গরমে বাতানুকূল ঘরে থাকলে জল খাওয়া কমে যায়? কী ভাবে জল খাওয়ার পরিমাণ ৩ লিটারে নিয়ে যাবেন?

মে মাসের তীব্র গরমে যখন বাইরে চাঁদিফাটা রোদ্দুর, তখন সারা দিনে ২ লিটার জলও খাওয়া হচ্ছে না। এর কারণ কি হতে পারে অতিরিক্ত ঠান্ডা এসিতে থাকা?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ২০:০৮

ছবি: সংগৃহীত।

মাস কয়েক আগে যখন গরম তেমন পড়েনি, বসন্তের মনোরম আবহাওয়া চারপাশে, তখনও মনে করে দিনে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লিটার জল খেয়েছেন। অথচ মে মাসের তীব্র গরমে যখন বাইরে চাঁদিফাটা রোদ্দুর, তখন সারা দিনে ২ লিটার জলও খাওয়া হচ্ছে না। এর কারণ কি হতে পারে অতিরিক্ত ঠান্ডা বাতানুকূল ঘরে দীর্ঘ ক্ষণ থাকা?

Advertisement

চিকিৎসকদের মতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে জল খাওয়ার পরিমাণ কমে যেতে পারে বাইরে তীব্র গরম আর ঘরের ভেতর এসির কৃত্রিম ঠান্ডা—এই দুইয়ের প্রভাবে শরীর নিঃশব্দে ডিহাইড্রেটেড হতে থাকে, বাড়তে থাকে ভবিষ্যতে শরীর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি।

কেন এসিতে থাকলে তেষ্টা পায় না?

ঘাম না হওয়া: এসি ঘরের বাতাস শুষ্ক ও ঠান্ডা থাকে। ফলে শরীর ঘেমে যাওয়ার সুযোগ পায় না। শরীরে ঘাম না জমলে মস্তিষ্ক জল খাওয়ার বিশেষ তাগিদ বা তৃষ্ণা অনুভব করে না।

অদৃশ্য জলবিয়োগ: এসি ঘরের বাতাস ত্বকের আর্দ্রতা এবং নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে জল শুষে নেয়। সহজে টের না পেলেও শরীর থেকে অনবরত জল কমতে থাকে, যা অজান্তেই ডিহাইড্রেশনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

কীভাবে জল খাওয়ার পরিমাণ ৩ লিটারে নিয়ে যাবেন?

শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে এসি ঘরে থাকলেও প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার জল খাওয়া জরুরি। এর জন্য কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করতে পারেন:

চোখের সামনে বোতল রাখুন: কাজের টেবিল বা ঘরের এমন জায়গায় জলের বোতল রাখুন যা সহজেই চোখে পড়ে। ১ লিটারের একটি বোতল লক্ষ্য হিসেবে রাখুন এবং দিনে সেটি তিনবার শেষ করার চেষ্টা করুন।

রিমাইন্ডার অ্যাপের সাহায্য নিন: ব্যস্ততার মাঝে জল খাওয়ার কথা ভুলে গেলে ফোনে প্রতি এক বা দেড় ঘণ্টা পর পর অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন অথবা কোনো 'ওয়াটার ট্র্যাকার' অ্যাপ ব্যবহার করুন।

ডিটক্স ওয়াটার তৈরি করুন: শুধু জল খেতে একঘেয়ে লাগলে জলের মধ্যে লেবুর স্লাইস, পুদিনা পাতা বা শসার টুকরো মিশিয়ে রাখতে পারেন। এতে জলের স্বাদ বাড়বে এবং শরীরও ডিটক্স হবে।

জলীয় খাবার বেশি খান: জল পানের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তরমুজ, শসা, ডাবের জল, লাউ ও দইয়ের মতো হাইড্রেটিং খাবার রাখুন।

এসি সাময়িক আরাম দিলেও শরীরের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় রাখা সম্পূর্ণ নিজের দায়িত্ব। তাই তৃষ্ণা না পেলেও নিয়ম করে জল খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।

Advertisement
আরও পড়ুন