এসি ঘরে সারা দিন? কী কী ক্ষতি হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।
গরম বাড়ছে। রোদের তাপে হাঁসফাঁস শুরু হয়ে গিয়েছে। আর সেখানেই স্বস্তির হাসি ফোটাচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র অর্থাৎ এসি। ঠান্ডা গাড়ি বা মেট্রো অথবা হিমশীতল ঘর না পেলে যেন কাজ বা ঘুম, কোনওটিই ভাল হচ্ছে না। এ ভাবেই দেশের একাংশ আবার এসির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। গরম পড়তেই এসি-র প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকে। গরমে একটু আরাম পেতে সারা দিন এসির ঠান্ডায় বসে থাকা এখন প্রায় অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই আরামের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে স্বাস্থ্যের ক্ষতি। এমনই সতর্কবার্তা দেন চিকিৎসকেরা।
সারা দিন এসিতে থাকা শরীরের জন্য ভাল নয় কেন? মূলত দু’ভাবে শরীরের ক্ষতি করে—
১. ওজন বৃদ্ধি: শরীর স্বাভাবিক ভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ক্যালোরি খরচ করে। কিন্তু সব সময়ে ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে সেই প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে না। ফলে শরীর কম ক্যালোরি পোড়ায় এবং ধীরে ধীরে বিপাকীয় হার কমে গিয়ে চর্বি জমতে শুরু করতে পারে। এসি-র আরামে শরীর আরও অলস হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ক্ষণ বসে থাকা, কম নড়াচড়া করা, এই দুইয়ের মিলিত প্রভাবে ওজন বাড়তে পারে।
২. অতিরিক্ত ক্লান্তি: এসি ঘরের ভিতরের বাতাস বার বার ঘুরে ফিরে একই জায়গায় থেকে যায়। টাটকা অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে। এর ফলে মাথা ভার লাগা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, এ সব সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি এসি-র ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস শরীর থেকে আর্দ্রতা টেনে নেয়। শরীর শুকিয়ে গিয়ে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ফলে গলা শুকিয়ে যাওয়া, ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, ইত্য়াদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ফলে অতিরিক্ত ক্লান্তি জমে থাকে শরীরে।
কী ভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
· সারা দিনে বার বার জল খেতে হবে, যাতে শরীর শুকিয়ে না যায়
· প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর একটু হাঁটতে হবে বা স্ট্রেচিং করতে হবে
· মাঝে মাঝে খোলা হাওয়ায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে
· খুব কম তাপমাত্রায় এসি চালানো এড়িয়ে চলতে হবে
· দীর্ঘ ক্ষণ একটানা বসে থাকার অভ্যাস কমাতে হবে