এন্ডোমেট্রিয়োসিস ‘বিপদ’ হওয়ার আগেই রুখে দিন। ছবি: সংগৃহীত।
ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা হবে, সেটাই ‘স্বাভাবিক’! এমন ভাবেন অনেকেই। সেই ধারণা থেকেই ব্যথাকে বাড়তি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়েও যান কেউ কেউ। কিন্তু এন্টোমেট্রিয়োসিসের মতো ‘বিপদ’ লুকিয়ে থাকতে পারে সেই যন্ত্রণার আড়ালেই। যা এড়িয়ে গেলে এবং সময়ে চিকিৎসা না করালে প্রভাব পড়তে পারে প্রজনন ক্ষমতাতেও। অন্য দিকে, প্রথম দিকের কিছু উপসর্গ দেখে যদি রোগের আঁচ পাওয়া যায়, তবে সমস্যা দানা বাঁধার আগেই নির্মূল করা সম্ভব।
এন্ডোমেট্রিয়োসিস আসলে কী?
এন্ডোমেট্রিয়োসিস হল মহিলাদের জরায়ুর এক প্রকার রোগ। জরায়ুর ভিতরে টিস্যুর মতো যে আস্তরণ তৈরি হয়, তাকে এন্ডোমেট্রিয়াম বলে। এন্ডোমেট্রিয়োসিস হলে ওই টিস্যুর আস্তরণ জরায়ুর বাইরে ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব বা প্রজননের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অংশের বাইরের দেওয়ালে বাড়তে শুরু করে। যেহেতু জরায়ুর ভিতরে তা বাড়ছে না, তাই টিস্যুগুলি শরীর থেকে বার হতেও পারে না। ফলে যেখানে ওই টিস্যু জমছে সেখানে প্রদাহ ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এই সমস্যাকেই বলা হয় এন্ডোমেট্রিয়োসিস।
কোন কোন আগাম লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
১। ঋতুস্রাবের সময় অনেকেরই পেটে যন্ত্রণা হয়, কিন্তু তা যদি এতটাই তীব্র হয় যে কাজ করতে বা হাঁটাচলা করতেও অসুবিধা হয়, তবে সতর্ক হওয়া উচিত। ওই ধরনের ব্যথা অনেক ক্ষেত্রে পিরিয়ড হওয়ার দু’-এক দিন আগে থেকেও শুরু হতে পারে।
২। ঋতুস্রাব না হলেও সারা মাস জুড়েই তলপেটে বা পিঠের নিচের দিকে হালকা থেকে তীব্র ব্যথা যদি বোধ করেন, তবে সতর্ক হোন।
৩। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় বা পরে ব্যথা অনুভব করাও এন্ডোমেট্রিয়োসিসের অন্যতম বড় লক্ষণ।
৪। ঋতুস্রাব চলাকালীন যদি প্রস্রাব করতে গিয়ে তীব্র যন্ত্রণা হয় বা মলত্যাগের সময়ে ব্যথা অনুভব করেন, তবে সেটিও এন্ডোমেট্রিয়োসিসের আগাম লক্ষণ।
৫। ঋতুস্রাব চলাকালীন অত্যধিক রক্তপাত কিংবা ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পরে স্বাভাবিকের থেকে অত্যন্ত কম রক্তপাত— উভয়ই এন্ডোমেট্রিয়োসিসের লক্ষণ হতে পারে।
৬। সব সময়ে ক্লান্তিবোধ বা চরম দুর্বলতা অনুভবও করতে পারেন এই সমস্যা হলে।
কেন সাবধান হবেন?
সময়মতো রোগ নির্ণয় না হলে মহিলাদের শরীরে নানা রকমের জটিলতা তৈরি হতে পারে—
বন্ধ্যত্ব: এন্ডোমেট্রিয়োসিসে আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৩০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়।
ডিম্বাশয়ে সিস্ট: অনেক সময় রক্ত জমে ডিম্বাশয়ে সিস্ট তৈরি হতে পারে। এই ধরনের সিস্টকে বলা হয় চকোলেট সিস্ট।
প্রদাহ: প্রদাহের ফলে এটি শরীরের ভেতরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক অবস্থান ব্যাহত করতে পারে।
কী ভাবে সামলাবেন?
১। প্রচুর শাকসব্জি ও ফলমূল খান। অতিরিক্ত ক্যাফিন এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
২। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম শরীরের রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে এবং ব্যথা কমায়।
৩। শরীরের মেদ বা চর্বি ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা এন্ডোমেট্রিয়োসিসকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই এমন সমস্যা হলে সবার আগে পেটের মেদ কমানোয় মন দেওয়া জরুরি।
৪। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পরীক্ষা করিয়ে শারীরিক অবস্থা জানুন।