ডায়াবিটিস হলে চিনি বাদ, চিনি ছাড়া সব খাবার কি খাওয়া যায়? ছবি: সংগৃহীত।
ডায়াবিটিস হলে বিপজ্জনক খাবার চিনি। জীবন থেকে বাদ পড়ে যায় মিষ্টি। কিন্তু নোনতা খাবারও কি সবটাই খাওয়া চলে? চিকিৎসকেরা বলেন, টাইপ ২ ডায়াবিটিস হলে খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ জরুরি। যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে সাজাতে হবে ডায়েট। খাদ্যতালিকা ঠিক থাকলে আর প্রয়োজন মতো ওষুধ খেলেই এমন অসুখ বশে রাখা যাবে।
মিষ্টি যেমন পুরোটাই বাদ, মিষ্টি নেই তবুও তা ক্ষতিকর হতে পারে। কোনগুলি খাবেন ডায়াবেটিকেরা, বাদ দেবেন কোনগুলি। ডায়াবিটিস হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চাইলে কোনগুলি খাবেন?
কোন পানীয়ে চুমুক দেবেন: বাজারচলতি ফলের রস বা চিনি ছাড়া প্যাকেটজাত পানীয় খাচ্ছেন? তা নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়। পানীয় খেতে হলে চিনি ছাড়া চা, বা ব্ল্যাক কফি বা ভেষজ চায়ে দিনে বার দুই-তিন চুমুক দেওয়া যেতে পারে। প্যাকেটজাত পানীয়ের বদলে ঘরে শরবত বানান, চিনির বদলে ব্যবহার করতে পারেন স্টিভিয়ার মতো প্রাকৃতিক উপকরণ।
কার্বোহাইড্রেট: ময়দার মতো সরল কার্বোহাইড্রেট বাদ দিতে না পারলে, রক্তে শর্করা বাড়বেই। ময়দার লুচি, পরোটা, পাস্তা, পাউরুটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। বদলে ওট্স, আটার রুটি, ব্রাউন রাইস বেছে নেওয়া ভাল। অবশ্যই পাতে রাখা দরকার ফাইবার রয়েছে এমন সব্জি, দানাশস্য, ডাল। ফাইবার জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা এক ধাক্কায় বাড়তে দেয় না।
মাংস: প্রক্রিয়াজত মাংস যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা ভাল। হ্যাম, সসেজ়, বেকন ইত্যাদির বদলে টাটকা কেনা মুরগির মাংস খাওয়া যায়। প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ডিম, মাছ, ডাল তালিকায় রাখা দরকার। সামুদ্রিক মাছ খেলে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ হবে। এড়িয়ে চলা দরকার পাঁঠার মাংস।
ফল এবং সব্জি: ফল মানেই ডায়াবেটিকদের জন্য বাদ নয়। আঙুর, আপেল, পেয়ারা, বেরি জাতীয় ফল ডায়াবেটিক-বান্ধব। টাটকা সব্জিও পাতে রাখা দরকার। প্রি-ডায়াবেটিকদের জন্য ফল এবং সব্জি পাতে রাখা জরুরি।
স্ন্যাক্স: রকমারি বিস্কুট, মিষ্টি মেশানো চকোলেটের মতো খাবার এড়িয়ে যাওয়া ভাল। বদলে মাখানা, বাদাম-বীজ স্ম্যাক্সের তালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে বেশি নুন দেওয়া বাদাম না খাওয়াই ভাল।