অর্ধশতরানের পর স্মৃতির উচ্ছ্বাস। ছবি: সমাজমাধ্যম।
মাত্র চার রান করলেই ইতিহাস গড়তে পারতেন তিনি। মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউপিএল) ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসাবে শতরান করতে পারতেন। তা হল না। শনিবার দিল্লির বিরুদ্ধে ৯৬ রানে ফিরতে হল স্মৃতি মন্ধানাকে। তবে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন তিনি। বৃথা গেল শেফালি বর্মার লড়াই। ৮ উইকেটে দিল্লিকে হারিয়ে ডব্লিউপিএলে টানা চারটি ম্যাচ জিতল বেঙ্গালুরু। দিনের প্রথম খেলায়, ইউপি ওয়ারিয়র্জ় ২২ রানে হারিয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল দিল্লি। শুরুটা একেবারই ভাল হয়নি তাদের। প্রথম ওভারেই দু’টি উইকেট হারায় তারা। ফিরে যান ছন্দে থাকা ব্যাটার লিজ়েল লি (৪) এবং লরা উলভার্ট (০)। প্রতি ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও নতুন বলে বিপক্ষের ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলে দেন বেঙ্গালুরুর লরেন বেল। তাঁর বলের বৈচিত্র ধরতেই পারছিলেন না দিল্লির ব্যাটারেরা।
একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে দিল্লির। দ্বিতীয় ওভারে জেমাইমা রদ্রিগেজ় (৪) এবং মারিজ়েন কাপকে (০) তুলে নেন সায়লী সাতঘরে। ১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দিল্লি। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন শেফালি বর্মা এবং নিকি প্রসাদ (১২)। শেফালিই মূলত দলকে টানছিলেন। সঙ্গত দিচ্ছিলেন নিকি। ৬৯ রানের মাথায় নিকি ফেরেন। কিছু ক্ষণ পরে মিন্নু মণিকেও (৫) হারায় দিল্লি। শেফালির সঙ্গে কিছু ক্ষণ জুটি গড়েন স্নেহ রানাও (২২)। তবে দিল্লি যে ১৬৬ রানে পৌঁছোল, তার নেপথ্যে লুসি হ্যামিল্টনের ইনিংস। তিনটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ১৯ বলে ৩৬ করেন তিনি। পাঁচটি চার এবং চারটি ছয়ের সাহায্যে ৪১ বলে ৬২ করেন শেফালি।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই গ্রেস হ্যারিসকে (১) হারায় বেঙ্গালুরু। তার পর থেকে শুধুই দাপট বেঙ্গালুরুর। দিল্লির বোলিং আক্রমণকে পাড়ায় পর্যায়ে নামিয়ে আনেন স্মৃতি এবং জর্জিয়া ভল। প্রত্যেক ওভারেই নিয়ম করে ১০ বা তার বেশি রান উঠতে থাকে। সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী ছিলেন স্মৃতিই। তিনি ৩১ বলে অর্ধশতরান পূরণ করেন। তার পরেও দাপট কমেনি বেঙ্গালুরুর অধিনায়কের। চালিয়ে খেলতে থাকেন তিনি।
একসময় মনে হচ্ছিল, ডব্লিউপিএলের ইতিহাসে প্রথম শতরানটা এ দিনই দেখা যাবে। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি নবি মুম্বইয়ের জনতার। ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নন্দনী শর্মার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েছিলেন স্মৃতি। ক্যাচ ধরেন লুসি। হতাশ হয়ে যায় স্মৃতির মুখ। ধীর পায়ে সাজঘরে ফেরার সময় গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। দিল্লির জার্সি পরা কয়েক জন সমর্থককে দেখা যায় কপালে হাত দিয়ে সেলাম করতে। স্মৃতি ফেরার পরেই অর্ধশতরান পূরণ করেন ভল। উল্টো দিকে অপরাজিত থাকেন রিচা ঘোষ।
শনিবার প্রথম ম্যাচ ছিল ইউপি বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। অধিনায়ক মেগ ল্যানিং এবং ফিবি লিচফিল্ডের অর্ধশতরানের সৌজন্যে জিতেছে ইউপি। এটি ডব্লিউপিএলে তাদের দ্বিতীয় জয়। বৃহস্পতিবারও মুম্বইকে হারিয়েছিল ইউপি। একই প্রতিপক্ষকে হারাল দু’দিনের ব্যবধানে। অন্য দিকে, পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হারল মুম্বই।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইউপি-র জয়ের ভিত গড়ে দেন ল্যানিং (৭০) এবং লিচফিল্ড (৬১)। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁরা মাত্র ৭৬ বলে ১১৯ রান যোগ করেন। ৮ উইকেটে ১৮৭ তোলে ইউপি। তাড়া করতে নেমে মুম্বই শুরুতে থেকেই চাপে ছিল। টপ অর্ডারের ব্যাটারেরা কেউই ভাল খেলতে পারেননি। এ দিনও নতুন ওপেনিং জুটি নামায় মুম্বই। তবে হেইলি ম্যাথুজ় (১৩) বা সাজীবন সজনা (১০) কেউই ভাল খেলতে পারেননি। ব্যর্থ হন ন্যাট শিভার-ব্রান্ট (১৫) এবং নিকোলা ক্যারেও (৬)।
১০ ওভারে ৪ উইকেটে ৬২ রান ছিল মুম্বইয়ের। ওভারে ১২ রান করে তুলতে হত। ১১তম ওভারে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর (১৮) ফিরতেই মুম্বইয়ের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। পরের দিকে আমনজ্যোত কৌর (২৪ বলে ৪১) এবং অ্যামেলিয়া কের (২৮ বলে অপরাজিত ৪৯) লড়াই করলেও তত ক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। ৬ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে তারা।