BRICS Naval Drill

দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘ব্রিকসের’ নৌ মহড়ায় নেই ভারত, কারণ কি ট্রাম্প? অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি

‘ব্রিকসের’ সদস্য কয়েকটি দেশ অংশ নিলেও ভারত এই কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরেই রেখেছে। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অনেকে এ-ও দাবি করেন, আমেরিকা, বিশেষত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চটাতে চায় না নরেন্দ্র মোদীর সরকার। তবে ভারত সেই দাবি মানতে নারাজ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:১৭
MEA on why India skipped BRICS naval drill

দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় আয়োজিত ‘ব্রিকসের’-এর সামরিক মহড়া। ছবি: রয়টার্স।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যৌথ সামরিক মহড়ায় নেই কেন ভারত? ‘ব্রিকসের’ সদস্য কয়েকটি দেশ অংশ নিলেও ভারত এই কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরেই রেখেছে। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অনেকে এ-ও দাবি করেন, আমেরিকা, বিশেষত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চটাতে চায় না নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সেই কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় যৌথ সামরিক মহড়ায় যোগ দেয়নি। তবে এ বার আসল কারণ স্পষ্ট করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

Advertisement

দক্ষিণ আফ্রিকায় যৌথ সামরিক মহড়ায় ভারতের যোগ না-দেওয়ার প্রশ্নে শনিবার কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, এই মহড়াটি ‘সম্পূর্ণরূপে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্যোগে’ হচ্ছে। কোনও গোষ্ঠী হিসাবে নৌবাহিনীর এই মহড়ায় ‘ব্রিকসের’ সরাসরি কোনও সমর্থন নেই। এই মহড়া ‘ব্রিকসের’ আনুষ্ঠানিক নিয়মিত কোনও কার্যকলাপ নয়। ‘ব্রিকসের’ সব সদস্য এতে অংশ নেয়নি।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন উপকূলে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌ মহড়া। এতে যোগ দেওয়া বাকি তিনটি দেশ হল রাশিয়া, ইরান এবং চিন। ইরান বাদে বাকি চার দেশই ‘ব্রিকসের’ সদস্য। সেই মহড়ায় ভারতের না-থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ‘ব্রিক্‌স’-কে সাম্প্রতিক সময়ে বার বার নিশানা করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ট্রাম্প নিজেও ‘ব্রিক্‌স’ প্রসঙ্গে তাঁর অসন্তোষ গোপন রাখেননি। গত বছর ব্রাজ়িলে অনুষ্ঠিত ‘ব্রিক্‌স’ সম্মেলন নিয়ে একের পর এক তোপ দেগেছেন তিনি। একই মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-কে দেখে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ‘চক্ষুশূল’ ইরান। তবে রাশিয়া সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে ইরানকে। চিন সরকারি ভাবে কিছু না-জানালেও আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতি তার মদত থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। অন্য দিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়েও চিন-রাশিয়াকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ শানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যতে রাশিয়া এবং চিন থেকেই আমেরিকার মাটিতে আকাশপথে হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই হামলায় কাজে লাগানো হতে পারে গ্রিনল্যান্ডকে। সেই কারণে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের দখল চান ট্রাম্প। সেই আবহে ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল! সেটাই স্পষ্ট করল ভারত।

Advertisement
আরও পড়ুন