Summer Diet for Kids

গরমে শিশুর পুষ্টির অভাব হচ্ছে না তো? কোন কোন লক্ষণে বুঝবেন, কী কী খাবার রাখবেন রোজের পাতে?

সকলেই চান তাঁর সন্তান যেন স্বাস্থ্যে, বুদ্ধিতে হয় সকলের সেরা। যার জন্য সবচেয়ে জরুরি পুষ্টি। তাই ভাল স্বাস্থ্য ও বুদ্ধির বিকাশের জন্য খেয়াল রাখতে হবে শিশুর খাওয়াদাওয়ার উপরে। গরমের দিনে অপুষ্টি, জলশূন্যতার সমস্যা বেশি হয়। তাই এই সময়ে শিশুর ডায়েট কেমন হবে তা জেনে নেওয়া ভাল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২৯
Essential nutrition guide for children This Summer

গরমে কী কী খাওয়াবেন শিশুকে, রইল কিছু পরামর্শ। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে ছোটরাও। কারও জ্বর, কেউ ভুগছে পেটের সমস্যায়। ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার ভয়ও এই সময়ে বেশি। চিকিৎসকেরা বলছেন, গরমের সময়ে শিশুর পুষ্টির ঘাটতি বেশি হয়। অত্যধিক ঘামের কারণে শরীর থেকে জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানগুলিও বেরিয়ে যেতে থাকে। তাই গরমে সুস্থ থাকতে কেবল পর্যাপ্ত জল পান করলেই হবে না, নজর দিতে হবে খাওয়াদাওয়াতেও।

Advertisement

শিশুর পুষ্টির ঘাটতি হচ্ছে কি, চেনার উপায়গুলি কী?

দিনভর শিশু ঝিমিয়ে থাকবে, ক্লান্তি বাড়বে।

ঘন ঘন পেটের সমস্যা হতে থাকবে, বমি ভাব থাকবে।

পুষ্টির অভাব ও অস্বস্তির কারণে শিশুর মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে।

প্রস্রাব গাঢ় হলুদ রঙের হবে বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাবে।

ত্বক শুষ্ক হয়ে যাবে, ঠোঁট ফাটার সমস্যা বাড়বে।

মনোযোগের অভাব হবে শিশুর, কোনও কাজেই মন দিতে পারবে না।

গরমের দিনে কেমন হবে শিশুর খাওয়াদাওয়া?

রোদ থেকে এসেই বা গায়ে ঘাম থাকা অবস্থায় জল খাওয়ানো যাবে না। একটু জিরিয়ে নিয়ে শরীর ঠান্ডা হলে তার পরেই জল খাওয়ান। স্নানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। না হলে সর্দি-কাশির সমস্যা হবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল শিশুর শরীরে যাওয়া দরকার। সে জন্য রোজ কিছু ডিটক্স পানীয় খাওয়াতেই হবে। সঙ্গে ডাবের জল, শসা, তরমুজ জাতীয় ফল খাওয়ান। দই বা লেবুর শরবত, গ্লুকোজ় ওয়াটারও কার্যকরী। তবে শরবত বা গ্লুকোজ় বোতলে অনেক ক্ষণ রেখে খাওয়াবেন না। তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গেই খাইয়ে দিন।

সকালের জলখাবারে রুটি, পরোটা বা পাউরুটি নয়, হালকা খাবারই দিতে হবে শিশুকে। দুধ-কর্নফ্লেক্স বা ওট্‌সের হালকা খিচুড়ি দিতে পারেন। মুগ ডালের চিলা, চিঁড়ের পোলাও, উপমা বানিয়ে দিতে পারেন।

জলখাবার ও দুপুরের খাওয়ার আগে যে কোনও একরকম মরসুমি ফল খাওয়াতে হবে। আপেল, পেয়ারা, কলা, তরমুজ বা শসা খেতে পারে শিশু। মুসাম্বির রসও উপকারী।

শিশু বাড়িতে থাকলে ভাত, পাতলা ডাল, মাছের ঝোল বা চিকেন স্ট্যু খেতে পারে। স্কুলে থাকলে হালকা টিফিন বানিয়ে দিন। সব্জি দিয়ে ডালিয়ার খিচুড়ি, চিকেন সেদ্ধ করে তার সঙ্গে নানা সব্জি মিশিয়ে স্যালাড বানিয়ে দিতে পারেন। পাউরুটি দিলে জ্যাম বা জেলি না মাখিয়ে বরং শসা-টম্যাটো-পেঁয়াজ, চিকেন সেদ্ধ বা ডিম সেদ্ধ দিয়ে স্যান্ডউইচ বানিয়ে দিন। সঙ্গে ছোট ছোট করে ফল কেটে ফ্রুট স্যালাড করে দিন।

বাইরে থেকে কেনা প্যাকেটজাত মিল্কশেক না দিয়ে, বাড়িতেই বানিয়ে দিন বাদাম দিয়ে মিল্কশেক। এক মুঠো কাঠবাদাম বেশ কিছু ক্ষণ ভিজিয়ে রেখে খোসা ছাড়িয়ে বেটে নিন। এ বার দুধ ঘন করে সেই দুধে কেশর বাদাম কুচি মিশিয়ে বেটে রাখা বাদাম আর চিনি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। বিকেলের টিফিনে শিশুকে দিতে পারেন।

শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন রকম বাদাম খাওয়াতে হবে নিয়ম করে। সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু চিনে বাদাম নয় আখরোট, কাঠবাদাম, কাজু, পেস্তা— সব মিশিয়ে একমুঠো করে রোজ খাওয়াতে হবে। সেই সঙ্গে কুমড়ো, সূর্যমুখী-সহ বিভিন্ন রকমের বীজও খাওয়াতে হবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে।

Advertisement
আরও পড়ুন