কারা কাঁচা পেঁয়াজ খাবেন না? ছবি: সংগৃহীত।
ভাত বা রুটির সঙ্গে বা স্যালাডে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। খাবার থালায় পেঁয়াজ না থাকলে খাওয়াই হয় না অনেকের। রেস্তরাঁতেও বেশির ভাগ স্টার্টারের সঙ্গেই কাঁচা পেঁয়াজ বা পেঁয়াজের লাচ্চা পরিবেশন করা হয়। তন্দুরি হোক বা বিরিয়ানি সঙ্গে সবুজ চাটনিতে মাখিয়ে পেঁয়াজ না খেলে যেন স্বাদই পাওয়া যায় না ঠিকঠাক।
কেবল স্বাদ বাড়াতেই নয়, পেঁয়াজের গুণও আছে অনেক। পেঁয়াজ প্রিবায়োটিকের কাজ করে। ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। এ ছাড়াও শরীরে খনিজ শোষণ করতেও সহায়ক। পেঁয়াজেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। পেঁয়াজের মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভনয়েডস হার্ট ভাল রাখতেও খুব কার্যকর। একই সঙ্গে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে রাখে। অন্য দিকে, এতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধ করে, পেঁয়াজ ক্লান্তি কাটাতেও সহায়ক।
খেতে তো ভালই লাগে, কিন্তু কাদের ক্ষেত্রে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে সমস্যা হতে পারে?
পেঁয়াজে খুব বেশি মাত্রায় ফ্রুকটান থাকে। এই প্রকার ফাইবার বেশি মাত্রায় শরীরে গেলে পেট ফাঁপা, বুকে জ্বালাভাব, হজমের সমস্যা হতে পারে। পুষ্টিবিদ শ্বেতা চক্রবর্তীর মতে, ‘‘যাঁদের ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম’ বা আইবিএস আছে তাঁদের ক্ষেত্রে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে সমস্যা হতে পারে। আইবিএস অন্ত্রের প্রদাহজনিত একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এই ধরনের সমস্যায় বদহজম, খিদে কমে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি, আচমকা পেট মুচড়ে ওঠা, এই ধরনের নানা লক্ষণ দেখা দেয়। তাই কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে উল্টে সমস্যা বাড়ানোর কোনও অর্থ হয় না।’’ পেঁয়াজে থাকা সালফারের কারণেও পেটরোগাদের সমস্যা হতে পারে। পেঁয়াজে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যেমন ট্যানিন, ফ্ল্যাভোনয়েড, অ্যালকালয়েডের কারণেও হজমে সমস্যা হতে পারে।