Mental Health

অকারণেই মন খারাপ, উদ্বেগ বেড়ে চলেছে, কেন হচ্ছে এমন? রোজের কিছু অভ্যাস দায়ী নয় তো?

মন কেন খারাপ হচ্ছে, তার কারণই ধরতে পারছেন না। এ দিকে উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠার তেমন কোনও কারণ ঘটেনি। তা-ও দুশ্চিন্তার মেঘ কাটছে না। অবসাদে ডুবে যাচ্ছে মন। কোনও কাজেই উৎসাহ নেই। এর জন্য রোজের কিছু অভ্যাস দায়ী নয় তো?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২১
Feeling Low without a Reason, habits that are affecting your Mental Health

রোজের কোন কোন অভ্যাসের কারণে মন এত খারাপ হচ্ছে? ছবি: ফ্রিপিক।

মাঝে মাঝে খুব অকারণে মন খারাপ হয়। হয়তো তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি, কোনও কারণও নেই, তবুও দুশ্চিন্তার মেঘ গ্রাস করে ফেলে। সবসময়েই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাজ করতে থাকে। মন মাঝেমধ্যে অল্পবিস্তর খারাপ হতেই পারে। সকলেরই হয়। আবার নিজে থেকেই অনেক সময় ঠিকও হয়ে যায়, তা রোগের পর্যায়ে পড়ে না। কিন্তু মাঝেমধ্যেই যদি এমন হয়, তা হলে সেটিকে মুড ডিজ়অর্ডার বলা যেতে পারে। মন কেন ভাল নেই, এর নেপথ্যে নানা কারণ থাকতে পারে। তবে মনোবিদেরা বলছেন, রোজের কিছু অভ্যাসও এর জন্য দায়ী। রোজ সকাল থেকে রাত অবধি, যা যা কাজ করছেন, তাতেই লুকিয়ে থাকতে পারে মনখারাপের বীজ।

Advertisement

কোন কোন অভ্যাসের কারণে মন ভারাক্রান্ত হচ্ছে?

কম ঘুমোনোর অভ্যাস

অফিসের কাজ বাড়িতেও নিয়ে আসার অভ্যাস যাঁদের বা যাঁরা রাত করে বাড়ি ফিরে আবার সকাল হতেই অফিস যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেন কিংবা যাঁরা রাত জেগে সিনেমা দেখে বা সমাজমাধ্যমের পাতায় নজর রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেন, তাঁদের রাতে অনেক সময়েই পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। কম ঘুম কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে মানসিক চাপও বাড়ে। একই সঙ্গে হরমোনের গোলমালের কারণে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে থাকে।

কম আলোতে থাকা

দিনভর জানালার পর্দা টেনে ঘর অন্ধকার করে বসে থাকলে বা দরজা-জানলা এঁটে থাকলে শরীরে ভিটামিন-ডি এবং সেরোটোনিন (সুখী হরমোন)-এর ঘাটতি হয়। তখন উদ্বেগ বাড়ে।

বেশি কফি খাওয়ার অভ্যাস

অত্যধিক ক্যাফিন স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনেকেই দিন শুরু করেন এক কাপ কফি খেয়ে। আবার কাজের মাঝে কাপের পর কাপ কফিও খেয়ে থাকেন। কফি খেলে সাময়িক ভাবে সতেজ লাগে ঠিকই, তবে এর ফলে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে, যা সাময়িক ভাবে উত্তেজনার অনুভূতি তৈরি করে। বাড়িয়ে দেয় কর্টিসল হরমোনের মাত্রাও। এর থেকে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

সকাল সকাল পুষ্টিকর প্রাতরাশ বাদ দিয়ে ভাজাভুজি খেয়ে ফেলা, সারা ক্ষণ কাজের মাঝে ‘বিঞ্জ ইটিং’, বিকেল হলেই জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। এর থেকে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে হরমোনের গোলমালও শুরু হয়।

সমাজমাধ্যমে সর্ব ক্ষণ

ডিজিটাল দুনিয়ার আকর্ষণ প্রচণ্ড। বিনোদনের জন্য মোবাইলের এক ‘ক্লিকেই’ ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওয়েব সিরিজ থেকে অনলাইন গেম্‌সে ডুবে যান আট থেকে আশি। তবে সেই সময়েরও একটা সীমারেখা দরকার। ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তিতে ডুবলে জীবনে খারাপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। সমাজমাধ্যমে অত্যধিক আসক্তি, কাছের মানুষগুলির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর থেকেই বিষণ্ণতা আরও বাড়ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন