বর্ষায় কী ভাবে ফিট থাকবেন? ছবি: সংগৃহীত।
বর্ষাকাল অনেকের প্রিয় ঋতু হলেও, এই সময়ে সংক্রমণজনিত রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জ্বর, সর্দি-কাশি তো থাকেই, সেই সঙ্গে নানা ভাইরাসজনিত সংক্রমণও হানা দেয়। অল্প পরিশ্রমেই কাহিল হয়ে পড়ে শরীর। এই মরসুমে প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকে। ফলে যে কোনও রোগ সহজেই বাসা বাঁধে শরীরে। তাই সুস্থ থাকতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সবচেয়ে জরুরি। তা হলে আর ঘন ঘন ওষুধ খেতে হবে না। রোগের সঙ্গে লড়াই করতে হলে বর্ষায় কোন কোন নিয়ম মানতেই হবে।
১) সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবার আগে বারে বারে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। বিশেষ করে খাওয়ার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং বাড়ি ফেরার পর সাবান ও জল দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। সাবান ও জল হাতের কাছে না থাকলে ব্যবহারের জন্য অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন।
২) বৃষ্টিতে ভিজলে বাড়ি ফিরেই আগে স্নান করে নিন। অ্যান্টিসেপ্টিক সাবান ব্যবহার করলে জীবাণু দূর করা এবং ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
৩) বর্ষাকালে পায়ের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। জল-কাদায় মাখা পা ভাল করে পরিষ্কার না করলেই ছত্রাক ও ব্যাক্টেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। ঘরে বাড়ি ফিরে পা ভাল ভাবে ধুয়ে-মুছে শুকিয়ে নিন। পায়ের আঙুলের ফাঁকগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিন। একটু সময় করে সপ্তাহে এক বার করে বাড়িতেই পেডিকিয়োর করুন।
৪) বর্ষাকালে খাবার থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ফল সব্জি ধোয়ার সময়েও সতর্ক থাকতে হবে। শুধু জলে ধুয়ে নিলেই চলবে না। সব্জি-ফল নুন জল বা বেকিং সোডা মেশানো জলে বেশ কিছু ক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন, তার পর সাধারণ জলে ভাল করে ধুয়ে ব্যবহার করুন।
৫) বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন। খাবার তৈরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা খেয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। রাস্তার ধারের খাবার, কাটা রাখা ফল এবং খোলা অবস্থায় রাখা ফলের রস থেকেও দূরে থাকুন। কারণ, বর্ষাকালে এগুলি থেকেই জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। রোজের ডায়েটে বেশি করে টকজাতীয় ফল, ভেষজ চা, প্রোবায়োটিক খাবার রাখুন। বেশি করে জলও খেতে হবে।