ফ্যাটি লিভার রোগ। ছবি: সংগৃহীত।
এখন ঘরে ঘরে ফ্যাটি লিভার রোগের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। অনেকেই অন্য কারণে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে গিয়ে প্রথম বার জানতে পারেন যে তাঁদের লিভারে চর্বি জমেছে। রিপোর্টে যখন লেখা থাকে ‘গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার’, তখন স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে, এটি কি গুরুতর সমস্যা? এক বার ফ্যাটি লিভার হলে তা কি আর কখনও ঠিক হয় না?
তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সুস্থ জীবনে ফিরলে এই পর্যায় থেকে রোগ নিরাময় সম্ভব। কারণ, গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার সাধারণত ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক স্তর। এই পর্যায়ে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থায়ী ক্ষতি করে না। তাই সময় মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারলে এই অবস্থার উন্নতি হওয়া, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়াও সম্ভব।
লিভারের রোগে কী কী বারণ? ছবি: সংগৃহীত
ফ্যাটি লিভার বলতে মূলত লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকেই বোঝায়। অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, কায়িক শ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া এবং বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এখন তো অল্পবয়সিদেরও এই সমস্যা বাড়ছে। সমস্যা হল, গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনও স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তাই অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে, লিভারে চর্বি জমা শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আলট্রাসোনোগ্রাফি বা অন্য কোনও পরীক্ষার সময়ে ঘটনাচক্রে তা ধরা পড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, এই পর্যায়ে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হল জীবনযাত্রার পরিবর্তন—
১. ওজন হ্রাস: যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় ওজন কমানো। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরের মোট ওজনের ৫-১০ শতাংশ কমাতে পারলেও লিভারে চর্বির পরিমাণ খানিক কমতে পারে।
২. স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া: অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিয়ে শাকসব্জি ও ফলমূলের উপর নির্ভর করতে হবে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। চিকিৎসকেরা সাধারণত অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা খাবার, সফ্ট ড্রিঙ্ক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, তেল এবং অত্যধিক চর্বিযুক্ত খাবার কমানোর পরামর্শ দেন।
৩. কায়িক শ্রম: প্রতি দিন হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো বা অন্য কোনও ধরনের শারীরচর্চা করা দরকার। এতে লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। শুধু ওজন কমানো নয়, বিপাকক্রিয়া ভাল রাখতেও শারীরচর্চা জরুরি।
৪. ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা: অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ডায়াবিটিস, অতি মাত্রায় ট্রাইগ্লিসারাইড বা খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) সম্পর্ক থাকে। তাই এই সমস্যাগুলি নিয়ন্ত্রণে না রাখলে লিভারের অবস্থা ঠিক করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
৫. মদ্যপান ত্যাগ: অ্যালকোহল মূলত লিভারের ক্ষতি করে। ফ্যাটি লিভার বা লিভারের যে কোনও রোগের ক্ষেত্রে অ্যালকোহল ত্যাগ করতে হবে শুরুতেই। না হলে লিভারের চর্বি গলে যাওয়া সহজ নয়।