Anurag Kashyap Weight Loss

হার্ট অ্যাটাক ও শ্বাসকষ্টের পর ১১ দিনের ডায়েট! তার পরই ২৭ কেজি ওজন কমে অনুরাগের, কী ভাবে

রোগে জর্জরিত হয়ে কর্মক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছিলেন পরিচালক। তার পরই তাঁর জীবন বদলে দেয় ১১ দিনের ডায়েট। অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন বলিউড পরিচালক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ২০:৩৭
পরিচালক অনুরাগ কশ্যপ।

পরিচালক অনুরাগ কশ্যপ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ওয়েব সিরিজ়ের কাজ বাতিল ঘিরে চূড়ান্ত মানসিক অবসাদ। ফল, পর পর দু’বার হার্ট অ্যাটাক! শুধু তা-ই নয়, পরিচালক অনুরাগ কশ্যপ অ্যাজ়মাতেও ভুগছিলেন একই সময়ে। স্বাস্থ্যসঙ্কটে পড়ার পরই টের পান, বাঁচতে হবে তাঁকে। আর তা সুস্থ ভাবে। বদলে ফেলেন যাপন। আর তারপরেই ঝরে যায় ২৭ কেজি ওজন! অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন বলিউড পরিচালক।

Advertisement

অবসাদের ফলে একনাগাড়ে চলত মদ্যপান এবং স্টেরয়েড ওষুধ। নেশামুক্তি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তও হয়েছিলেন। কিন্তু কিছুতেই লাভ হচ্ছিল না। বছর তিনেক আগে জীবনের অন্ধকার সময়ের কথা প্রকাশ্যে আনেন তিনি। রোগে জর্জরিত হয়ে কর্মক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছিলেন পরিচালক। তাঁর কথায়, ‘‘আমি বুঝতেই পারছিলাম না, আমার মতো এক জন ফিট মানুষের এ রকম অবস্থা কী করে হল? নানা কিছু চেষ্টা করছিলাম, কিছুতেই লাভ হচ্ছিল না। সারাজীবন শারীরচর্চা করেছি আমি। সেই সময়েও করছিলাম। তাও কী ভাবে এতটা মোটা হয়ে গেলাম?’’ তার পাশাপাশি চুল পড়ে যাচ্ছিল, অকালে পেকেও গিয়েছিল।

কী ভাবে ওজন কমান অনুরাগ?

কী ভাবে ওজন কমান অনুরাগ? ছবি: সংগৃহীত

তার পরই তাঁর জীবন বদলে দেয় ১১ দিনের ডায়েট। ফল, ওজন হ্রাস।

এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ স্বাস্থ্যসংকট, জীবনযাত্রার বদল এবং কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণের গল্প। হার্ট অ্যাটাক, হাঁপানি, মানসিক অবসাদ এবং মদ্যপানের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করার পরই তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। অনুরাগের কথায়, শরীরের অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছোয় যে পরিবর্তন ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। সেই সময়ে একটি শৃঙ্খলা মেনে স্বাস্থ্যচর্চার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর ফলেই প্রায় ২৭ কেজি ওজন কমে তাঁর।

১১ দিনের ডায়েটে খাবার বলতে কেবল তরলের উপরই নির্ভর করতে হয়েছিল তাঁকে। তরল ছাড়া অন্য কোনও রকম খাবারে নিষেধ ছিল সেই সময়ে। চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থেকেই এই নিয়ম মেনে চলতে হয়েছিল তাঁকে। পাশাপাশি, যোগাসন এবং নিয়মিত শারীরচর্চাও করতে হয়েছিল। আর এই অনুশীলনই তাঁর রোজের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।

পুষ্টিবিদ রেশমী রায়চৌধুরীর মত, দীর্ঘ দিন ধরে অনুরাগ মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তার উপর স্টেরয়েড নেওয়া— এই ধরনের নানা কারণে ওজন বেড়ে গিয়েছিল। তার পর যা-ই শারীরচর্চা করুন না কেন, কিছুতেই লাভ হচ্ছিল না। তাঁর কথায়, ‘‘এখানে শুধু ওজন হ্রাস হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর গোটা যাপনই বদলে যায়। নানা কিছুর মাধ্যমে। তার ফলে ওজন কমে। ২৭ কেজি ওজন হ্রাসটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ সম্পূর্ণ যাপন বদল, যা তিনি তিনটি ভাগে করেছিলেন, যোগাসন, ডায়েট এবং প্রাণায়াম। মন ও শরীর দুটোই খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে এগুলির মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোটাও দরকারি বিষয়।’’ প্রক্রিয়াজাত খাবার নয়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়েছিল অনুরাগকে। অন্য দিকে চাপ কমানোর নানা অনুশীলন করানো হয়েছিল। তরল খাবার খাওয়ানোও তারই একটি অঙ্গ। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনার পদ্ধতি। খাবার খেতে ইচ্ছে করছে? না, কেবল তরলই খেতে হবে। এ ভাবেই সামগ্রিক ভাবে শারীরিক উন্নতি হয় তাঁর।

পুষ্টিবিদ বলছেন, ‘‘শরীর ও মন নিয়ে তবেই রোগ ও অসুখবিসুখ তৈরি হয়। মানসিক চাপ থেকে নানা রকমের অ্যাটাক হতে পারে, তা সে হৃদ্‌রোগ হোক বা অ্যাজ়মা অ্যাটাক। আমাদের শরীর ভাল রাখার জন্য মনটাকেও ভাল রাখতে হবে। শুধু ডায়েট ও শারীরচর্চা করে হয় না।’’

Advertisement
আরও পড়ুন