Gym Hygiene in Summer

গরমে সংক্রমণ হতে পারে ঘামে ভেজা পোশাক থেকেও, জিমের জামা কী ভাবে পরিচ্ছন্ন রাখবেন

গরমে বাড়তি ঘাম নয়, নেপথ্য কারণ হয়ে দাঁড়ায় অপরিচ্ছন্নতা। গরমের মরসুমে ত্বকের সংক্রমণের কারণ হতে পারে পরিচ্ছন্নতার অভাবই। কী ভাবে জিমের পোশাক এবং জুতোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫২
গরমে জিমের পোশাকের পরিচ্ছন্নতা কী করে বজায় রাখবেন?

গরমে জিমের পোশাকের পরিচ্ছন্নতা কী করে বজায় রাখবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

গরম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ত্বকের সংক্রমণ। র‌্যাশ-চুলকানি, ফুস্কুড়ির সমস্যার বাড়বাড়ন্ত এখন চারদিকে। চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, বাড়তি ঘাম নয়, নেপথ্য কারণ হয়ে দাঁড়ায় অপরিচ্ছন্নতা। গরমের মরসুমে ত্বকের সংক্রমণের কারণ হতে পারে পরিচ্ছন্নতার অভাবই।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে জিমের পোশাক কি হাওয়ায় শুকিয়ে আবার তা পরের দিন ব্যবহার করা যায়, না কি নিয়মিত তা কেচে নেওয়াই ভাল? চিকিৎসকদের কথায়, ঘাম শত্রু নয়, কিন্তু সেই ঘামই যখন আটকে পড়ে কাপড়-জামায় এবং তার সঙ্গে জুড়ে যায় ত্বকে থাকা ময়লা, দ্রুত সেখানে হানা দেয় জীবাণু। ত্বক দীর্ঘ ক্ষণ ঘামে ভেজা পোশাকের সংস্পর্শে থাকলেই সংক্রমণ বেশি হয়। দেখা দেয় র‌্যাশ-চুলকানি।

· ঘামে ভেজা পোশাক থেকে টিনিয়া সংক্রমণ হতে পারে, যার ফলে ত্বক লাল হয়ে যায়, প্রদাহ হয়, চুলকায়। মূলত শরীরের ভাঁজে এই ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়।

· ঘাম থেকে হতে পারে ফলিকিউলাইটিস, যেখানে চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাথায় ফুস্কুড়ি হয়, ব্যাথাও থাকে যথেষ্ট।

· বুকে-পিঠে ঘাম জমলে ট্রুনাকল অ্যাকনেও হয়।

· পাশাপাশি, ঘাম জমতে থাকলে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণজনিত কারণে দুর্গন্ধও হয় শরীরে।

এই পরিস্থিতিতে সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি জিমের আটোসাঁটো পোশাক। এই ধরনের পোশাকে হাওয়া খেলে কম। গরম বেশি হয় বলে, ঘামও হয় মাত্রাতিরিক্ত। ঘাম শুকোতে না পারলে, ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেই শরীরচর্চার পরে জিমের লকারে ঘামে ভেজা পোশাকটি ভরে রাখেন। কেউ আবার আধভেজা পোশাকটি ব্যাগে ভরে রাখেন, সেটি ব্যবহার করেন পরের দিন।

ত্বকের রোগের চিকিৎসকেরা বলছেন, এই আধভেজা পোশাক থেকেই সংক্রমণের সম্ভাবনা দ্বিগুণ। জিমের পোশাক হবে হালকা, সুতির হলেও ভাল।

· জিম করার পরেই সঙ্গে সঙ্গে তা খুলে ফেলা দরকার। ঘামে ভেজা জামা কোনও বদ্ধ জায়গায় রাখা একেবারেই উচিত নয়। বরং দ্রুত তা মেলে দিতে হবে খোলা হাওয়ায়। সকলের সমান মাত্রায় ঘাম কম হয় না। ঘাম কম হলে সেটি হাওয়ায় সম্পূর্ণ ভাবে শুকিয়ে আরও এক দিন পরা যেতে পারে, তবে রোজ নয়।

· ভাল হয়, জিমের পোশাক নিয়মিত সাবান দিয়ে কেচে হাওয়ায় কিংবা রোদে শুকিয়ে নিলে। এতে পোশাকে লেগে থাকা ঘাম থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না।

· জিমের জন্য অন্তত ২ সেট পোশাক রাখুন। গরমের দিনে পোশাক কেচে পরাই সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।

জিমের পোশাক নিয়ে যেমন ভাবনাচিন্তা থাকা দরকার, তেমনই জুতো নিয়েও ভাবা প্রয়োজন। শরীরচর্চার সময়ে জুতোর ইনসোল ঘামে ভিজে যায়। জুতোর সঙ্গে মোজাও ঘামে ভিজে থাকে। এমন মোজা এবং জুতো দিনের পর দিন পরলে পায়ে যেমন গন্ধ হতে পারে, তেমনই তা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। জিমের জুতোও প্রতি দিন রোদে বা হাওয়ায় শুকিয়ে নেওয়া ভাল। সপ্তাহে এক দিন অন্তত কেচে নিতে পারলে ভাল হয়। মোজা নিয়মিত সাবান দিয়ে কেচে ও শুকিয়ে পরা উচিত।

Advertisement
আরও পড়ুন