সকালের রুটিনে বদল এনেছেন ৫০ ছুঁইছুঁই অভিনেত্রী সোহা আলি খান। এমন বদল কতটা লাভজনক? ছবি: সংগৃহীত।
চা-কফি নয়, অভিনেত্রী সোহা আলি খানের দিন শুরু হচ্ছে এখন অন্য ভাবে। সকালে উঠেই তিনি গলা ভেজাচ্ছেন ঈষদুষ্ণ পানীয়ে। গরম জলে মেশাচ্ছেন পাতিলেবুর রস, সামান্য একটু সৈন্ধব নুন, অল্প হলুদ, রাতভর ভেজানো চিয়াবীজ আর থেঁতো করা আদা।
কফি ছেড়ে হঠাৎ লেবু-জলে কেন ভরসা, সেটাই ব্যাখ্যা করলেন সোহা। মনে করালেন পেরিমনোপজ়ের সমস্যার কথা। ৪৭-এর কোঠায় বয়স অভিনেত্রীর। ফিটনেস নিয়ে যথেষ্ট সচেতনও। রজোনিবৃত্তির বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই শরীরে কিছু হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। তার প্রভাব পড়ে শরীরে। অম্বল, গ্যাসের সমস্যাও বাড়তে থাকে অনেকেরই।
সেই সমস্যার সমাধানই বাতলালেন সোহা। তিনি বলছেন, ‘‘পেরিমনোপজ়ে যেহেতু ইস্ট্রোজেনের মাত্রার তারতম্য হয়, তাই অম্বল-গ্যাসের সমস্যা কমাতে খালি পেটে কফি খাওয়ার চেয়ে এই পানীয় বেছে নেওয়া ভাল। এতে পেটের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।’’
অভিনেত্রীর কথা কতটা সঠিক? পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলছেন, ‘‘খালি পেটে চা-কফি খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। তবে চিয়া, লেবু, আদা দেওয়া পানীয় যে পেরিমনোপজ়ের সমস্যার সমাধান করে, সেটাও নয়। তবে এই পানীয় পেটের জন্য নিঃসন্দেহে ভাল।’’
পেরিমেনোপজ়ের সময়ে ইস্ট্রোজেনের মাত্রার হেরফেরে অম্বলের সমস্যা হয়েই থাকে, মানছেন পুষ্টিবিদও। সেই সময় খালি পেটে কফি খেলে সমস্যা আরও তীব্র হওয়া স্বাভাবিক। তাঁর পরামর্শ, সকালে খালি পেটে ঈষদুষ্ণ জল খাওয়ার। তবে সোহা যে পানীয়টির কথা বলেছিলেন, সেটি স্বাস্থ্যকর।
সোহা দিন শুরু করেন এমন পানীয়ে চুমুক দিয়ে। ছবি:সংগৃহীত।
কিন্তু কাদের জন্য ভাল এই পানীয়, কারা এড়াবেন?
পাতিলেবু গ্যাসট্রিক জুস বা পাচক রসের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে হজমে সাহায্য করে। আবার পাতিলেবুতেও অ্যাসিড থাকে। তাই অনেকেরই তা সহ্য হয় না। অনন্যা জানাচ্ছেন, খালি পেটে পাতিলেবুর জল খেলে হজমে যদি সমস্যা না হয়, তা হলে অবশ্যই তা রাখা যেতে পারে।
আদা হজমে সহায়ক। পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করে, বমিভাব কাটায়।
চিয়াবীজে থাকে দ্রবণীয় ফাইবার। পেট ভরিয়ে রাখে, পেট পরিষ্কারেও কিছুটা সাহায্য করে। তা ছাড়া, ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মতো একাধিক পুষ্টিগুণ রয়েছে এতে।
রাতে ঘুমোনোর সময় জল খাওয়া হয় না। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পরেই শরীরে জলের দরকার হয়। হালকা গরম জল শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করতে সাহায্য করে।
অনন্যা মনে করাচ্ছেন, এই পানীয় হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে না। তবে প্রদাহ কমাতে, জলের জোগান দিতে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে অবশ্যই সাহায্য করে। অবশ্য খুব বেশি অম্বলের ধাত, জিইআরডি থাকলে পানীয়টি খাওয়া ঠিক নয়।