হরনাজ় কৌর সন্ধুর ফিটনেস যাত্রা। ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বসুন্দরীর শিরোপা অর্জন থেকে বলিউডের নায়িকা হওয়া। এই যাত্রার পথিক লারা দত্ত, ঐশ্বর্যা রাই থেকে সুস্মিতা সেনের মতো অনেকেই। কিন্তু হরনাজ় কৌর সন্ধুর জন্য এই যাত্রাপথ খুব একটা সুগম ছিল না। ২০২১-এ বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জয়ের পর আচমকাই প্রচুর ওজন বেড়ে গিয়েছিল তাঁর। বিশেষ অটোইমিউন রোগ সিলিয়াকে আক্রান্ত হন তিনি। গ্লুটেন সহ্য করতে না পারায় এই রোগে ওজন বাড়তে থাকে দ্রুত। তার পর হাজারো কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে দেহের আকার-আকৃতি নিয়ে। তাই প্রায় ৫ বছর পর তিনি প্রকাশ্যে আসছেন অভিনেত্রী হিসেবে। টাইগার শ্রফের সঙ্গে ‘বাগি ৪’-এ দেখা যাবে হরনাজ়কে। তার আগে নায়িকা নিজের এক বিশেষ আসক্তির কথা প্রকাশ করলেন ক্যামেরার সামনে। ওজন না কমার নেপথ্যে সেই আসক্তির অবদান ছিল অনেকখানি। হরনাজের এই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেন অনেকেই।
নিয়মিত জিম করলেও একটি অভ্যাস তাঁর ফিটনেসের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর তা হল, অতিরিক্ত মিষ্টি কফির প্রতি আসক্তি। নিউইয়র্কে থাকাকালীন জিমের পর বাড়ি ফিরেই তিনি নীচের একটি নামী রেস্তরাঁ থেকে রোজ সেই কফি পান করতেন। বাড়ির নীচে এমনই এক সুস্বাদু কফি বানানো হত যে, সেই সুবাসে নিজেকে আটকে রাখতে পারতেন না সন্ধু। বড় কাপে ভেন্টি ক্যারামেল ফ্র্যাপুচিনো অর্ডার করতেন, তাতেও থাকত বাড়তি সিরাপ আর টপিংস। তাঁর কথায়, ‘‘সেটি আসলে কফির চেয়ে বেশি ডেসার্টের মতো ছিল।’’ জিম করার পর প্রায় রোজের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ভেন্টি ক্যারামেল ফ্র্যাপুচিনো। ছবি: সংগৃহীত
হরনাজ় জানান, রোজ জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করার পরেও শরীরের পরিবর্তন না দেখে হতাশ হয়ে পড়তেন তিনি। সেই সময়ে খাবারকেই মানসিক ভরসা হিসেবে ব্যবহার করতেন। এই অভ্যাস ধীরে ধীরে আরও সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে। তবে, সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, ফিটনেস একটি ধীর প্রক্রিয়া। নিয়মিত ব্যায়াম করে যেতে হবে, ধৈর্য হারালে চলবে না, রোজ ওজন মাপলে হবে না, চোখ বন্ধ করে ব্যায়াম করে যেতে হবে। যবে থেকে আসক্তি কাটিয়ে নিয়মে শরীরচর্চা শুরু করলেন, সত্যিই তার ৬ মাস পর থেকে অল্প অল্প ফল মিলতে শুরু করে।
হরনাজ়ের স্বীকারোক্তি অনেকের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তাঁর আসক্তিতেই লুকিয়ে ছিল আসল সমস্যা। অনেকেই মনে করেন, জিমে গিয়ে ক্যালোরি বার্ন করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু জিমের পর যদি উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত, চিনিতে ভরা পানীয় বা খাবার খাওয়া হয়, তা হলে সেই পরিশ্রমের অনেকটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমতে থাকে, আর ওজন কমার বদলে উল্টে বাড়তেও পারে। শুধু জিমে সময় কাটিয়ে ফিটনেস আসে না। বরং পুরো জীবনযাত্রার উপর নির্ভর করে। কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন এবং কতটা সচেতন ভাবে খাচ্ছেন, এই সব কিছুই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মিষ্টি পানীয়, উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত কফি বা ডেসার্ট জাতীয় খাবারকে ছোট ভুল ভেবে এড়িয়ে গেলে চলবে না।