—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
সম্প্রতি ভ্রমণ সেরে ফিরেছেন? একটানা বাইরের খাবার খেয়ে পেটের অবস্থাও যেমন শোচনীয়, তেমনই সফরের ক্লান্তিতে ধুঁকছে শরীর। বাড়ি ফিরেই কাজে যোগ দিতে হবে। এমন সময়ে কী ভাবে নিজেকে সুস্থ করবেন? চটজলদি ৫ উপায়ে শরীরকে চাঙ্গা করার উপায় বাতলে দিচ্ছেন করিনা কপূর, আলিয়া ভট্টের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকর। রইল তারই সন্ধান—
১. খাদ্যাভ্যাসে বদল: ফাইবারে ভরপুর খাবারের উপর নির্ভরশীল হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন রুজুতা। মূলত বিন্স মেশানো খাবার বানানোর কথা বলছেন তিনি। শুধু শুধু বিন্স খাওয়ার বদলে ভেজে নিয়ে সুস্বাদু পদ বানিয়ে পাতে রাখতে পারেন। ফাইবার ছাড়াও অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত বাড়ি ফিরে। ভ্রমণের পর প্রবল ক্লান্তি দূর করতে এগুলি সাহায্য করতে পারে। হজমক্ষমতা উন্নত করার পাশাপাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটখারাপ ইত্যাদিও সারাতে পারে এই ধরনের ডায়েট।
২. হালকা শরীরচর্চা করা: ভ্রমণ সেরে ফিরে এসে মনে হতে পারে, ওজন কমানো দরকার, তাই প্রচুর ব্যায়াম করতে হবে। কিন্তু এখানেই ভুল করে ফেলেন অনেকে। ক্লান্ত শরীর তখন অত চাপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না। তাই অল্পস্বল্প হাঁটাহাঁটি, যোগাসন বা হালকা কার্ডিয়ো করে শরীরকে আগে সতেজ করে তুলতে হবে। তার পর বেশি কায়িক শ্রমের ব্যায়াম করুন। শরীরকে সচল করাটাই উদ্দেশ্য তখন, আরও ক্লান্ত করা নয়। সারা দিন শুয়ে-বসে বিশ্রাম নেওয়াও যেমন ক্ষতিকারক, অতিরিক্ত ব্যায়াম করাও ততটাই সমস্যাজনক। তাই শরীরকে কেবল ছন্দে ফেরানোর দিকেই মন দিন।
৩. ফল খাওয়া: শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য স্থানীয়, মরসুমি ফল সবচেয়ে বেশি কার্যকর। বেলার দিকে বা বিকেল নাগাদ ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ। ফলের ফাইবার ও ভিটামিনের উপস্থিতি শরীরকে সতেজ করতে সাহায্য করে। বাড়ির বাইরে থেকে খাওয়াদাওয়ায় যত অনিয়ম হয়েছে, তা ঠিক করার জন্য ফলের গুরুত্ব অপরিসীম।
৪. শরবত খাওয়া: বেড়িয়ে আসার পর স্বাস্থ্য ফেরাতে চা-কফি কমিয়ে শরবত পান করার দিকে বেশি করে মন দিন। গরমের সময়ে আমপোড়া শরবত, লেবুর শরবত, আমলকির শরবত ইত্যাদি খেতে পারেন। ভ্রমণের সময়ে শরীর অনেকটা ধকল সহ্য করে। আর এতে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি হতে পারে শরীরে। তাই এই ধরনের পানীয় দিয়ে সেই সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
৫. দই দিয়ে মিলেট খাওয়া: একটানা বাইরে খাওয়াদাওয়া করার পর অনেকের পেটখারাপের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মিলেট খেতে পারেন। মিলেট দিয়ে বানানো রাগি দোসা, উপমা ইত্যাদি নানা কিছুই বানাতে পারেন। কিন্তু সঙ্গে ঘরে পাতা দই খেতেই হবে। অন্ত্র ভাল রাখতে পারে এই দুই খাবারের মেলবন্ধন।