লিভারের স্বাস্থ্যের নতুন পরীক্ষা গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দেশবাসীর লিভার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রক তাই ভারতীয় জনগণকে লিভার ভাল রাখার এক বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলছে, লিভারের স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে আগাম জানতে সাহায্য করবে একটি বিশেষ পরীক্ষা। যে পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরই বলে দেবে, স্বাস্থ্যের বিচারে লিভার পাস করেছে না ফেল!
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট মারফত জনগণকে এ ব্যাপারে সচেতন করে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, প্রত্যেকেরই উচিত ওই পরীক্ষাটি করানো, যার নাম ‘অল্ট টেস্ট’। এ পরীক্ষায় জানা যায়, রক্তে অ্যালনাইন অ্যামিনোট্রান্সফেরাস (অল্ট)-এর মাত্রা কতখানি?
বিষয়টি খোলসা করে বুঝিয়েওছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তারা বলেছে, ‘‘আপনার লিভার কি বলছে, তা একটি নম্বরের মাধ্যমেই জানা যাবে। আর সেই নম্বর হল অল্ট-এর মান। লিভারে যদি ফ্যাট জমে বা কোনও রকম বাড়তি চাপ তৈরি হয়, তবে তার প্রাথমিক প্রভাব পড়ে ওই অল্ট-এর মানেই। তাই বড় উপসর্গ দেখতে পাওয়ার আগে এবং বেশি ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আগে যদি লিভারকে বাঁচাতে চান, তবে নিয়মিত অল্ট-এর মানে নজর রাখতে পারেন।
অল্ট কী?
অল্ট হলো মূলত লিভারের কোষে থাকা এক ধরনের এনজ়াইম। লিভারে কোনও কারণে প্রদাহ, আঘাত বা অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে, ওই এনজাইম লিভার থেকে চুইয়ে রক্তে গিয়ে মেশে। ফলে রক্তে অল্ট-এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়।
কী ভাবে পরীক্ষা করাবেন?
অল্ট পরীক্ষা আসলে একটি সাধারণ রক্তপরীক্ষার মতোই। সংগৃহীত রক্তের নমুনা গবেষণাগারে নিয়ে গিয়ে দেখা হয়, রক্তে ওই এনজ়াইমের মাত্রা বেড়েছে কি না। বা বাড়লেও কতখানি বেড়েছে।
কেন সতর্ক হবেন?
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। চলতি বছরের শুরুতেই ‘দ্য ল্যানসেট’ জার্নালে প্রকাশিত এক সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, ভারতে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জনই আক্রান্ত ফ্যাটি লিভারে। অর্থাৎ দেশের ৪০ শতাংশ নাগরিকই ফ্যাটি লিভারের রোগী। বাকি ৬০ শতাংশের মধ্যেও অনেকেরই লিভারে ফাইব্রোসিসের মতো সমস্যা এবং লিভারের স্বাভাবিক নমনীয় ভাব নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা হচ্ছে। একটি দেশের এত মানুষ যদি লিভারের রোগে ভোগেন, তবে তার কারণ যা-ই হোক, সচেতন হওয়া অবশ্যই জরুরি।
কারা সতর্ক হবেন?
যাঁদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হাই কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের লিভারের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া উচিত। এ ছাড়া, যাঁরা নিয়মিত মদ্যপান করেন বা দীর্ঘ দিন কোনো জটিল রোগের ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁদেরও নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করানো দরকার। ইদানীং অল্পবয়সিদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা প্রচুর দেখা যাচ্ছে, তাই তাঁদেরও ছ’মাস অন্তর ওই পরীক্ষা করানো উচিত।
কী কী বিষয় মাথায় রাখা জরুরি?
রক্তে অল্ট-এর মাত্রা বেশি হওয়া মানেই লিভার নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তা কিন্তু নয়। তবে এটি লিভার সিরোসিস বা লিভার ফেলিয়োরের মতো মারাত্মক ঝুঁকি থেকে বাঁচতে আগেভাগে জীবনযাপন পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। তাই লিভারকে সুস্থ রাখতে—
১. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
২. নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করুন।
৩. মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।
৪. ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। বদলে সুষম আহার করুন।