মিলিন্দ সোমনের যাপন। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘৬০-এর ‘আমি’ ৩০-এর চেয়ে ‘আমি’র বেশি শক্তিশালী’’, গত নভেম্বর মাসে প্রবীণ নাগরিকের দলে নাম লেখানোর পর এমনই বলেছিলেন মিলিন্দ সোমন। স্বাস্থ্যসচেতন, ফিট মডেল তাঁর অনুরাগীদের কাছে বিস্ময় বিশেষ। এই বয়সে যে ভাবে শরীরচর্চা করেন, যে ভাবে মাইলের পর মাইল দৌড়ে যান, অনেকের কাছেই তা অনুপ্রেরণার।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দকে প্রশ্ন করা হয়, সুস্থ থাকার জন্য কী কী প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন? ৬টি নিয়মের কথা উল্লেখ করতে বলায় তাঁর বক্তব্য, ‘‘সংখ্যা এখানে অবান্তর। গুনে গুনে বলতে গেলে কিছু বাদ পড়ে যায়। তাই ফিট থাকার জন্য যা যা জরুরি, তা এমনিই উল্লেখ করা উচিত। সুস্থ থাকার বিষয়টা তেমন জটিল নয়। সুস্থ থাকতে ৬টি নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন নেই। একমাত্র দরকার, সুস্থ থাকার তাগিদ, ইচ্ছে। আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান, তা হলে তার জন্য পদক্ষেপ করবেন। ইচ্ছে থাকলে উপায় থাকবে।’’
কোন কোন অভ্যাস রপ্ত করে সুস্থ থাকেন মিলিন্দ? ছবি: সংগৃহীত।
কী ভাবে সুস্থ থাকেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে মিলিন্দ জানালেন, তিনিও জটিল খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চার নিয়ম মেনে চলেন না। সহজ কয়েকটি অভ্যাস রপ্ত করে তিনি সুস্থ থাকার চেষ্টা করেন রোজ। দিনে ১০ মিনিট ব্যায়াম করেন, ঘরোয়া খাবার খান, প্যাকেটজাত ও পরিশোধিত খাবার এড়িয়ে চলেন। বাকি সব ধরনের খাবারই তিনি খান। খাওয়ার ইচ্ছে দমন করেন না মিলিন্দ। তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্যকর খাবার সেটিই, যা হজম হয়। যাঁর যে খাবার বেশি ভাল হজম হয়, তিনি সেটিই খাবেন। তা হলেই সুস্থ থাকা যায়। তবে একই সঙ্গে সময়মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোনোকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ তাঁর।
ডায়েট ও ব্যায়ামের চেয়ে মিলিন্দের কাছে বেশি জরুরি সচল থাকা। তাঁর কথায়, ‘‘ঘড়ি ধরে শরীরচর্চা করার দরকার নেই। কেবল সক্রিয় থাকা দরকার। তাতেই কাজ হবে। মাটিতে বসা, শোয়া, সিঁড়ি ভাঙা, হাঁটাচলা, দৌড়োনো— সহজ কিছু কাজকর্মকে দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করলে এমনিতেই ফিট থাকা যায়। জিম যাওয়ার দরকার নেই। আমি তো বাড়িতেই ব্যায়াম করি। জীবনে জিম যাইনি।’’ অর্থাৎ নিজেকে বুঝতে হবে, শরীর কী চায়, তবেই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি খুঁজে পাওয়া যাবে।