Room Heater Safety Tips

শীতে ঘর গরম রাখতে রুম হিটার কেনার কথা ভাবছেন, ব্যবহারের বিধি না জানলে বিপদ ঘটতে পারে, কী কী নিয়ম মানতে হবে?

ঘরের ভিতরটা উষ্ণ ও আরামদায়ক রাখতে এখন অনেকেই রুম হিটার ব্যবহার করেন। গত কয়েক দিনে কলকাতাতেও পারদ পতন হয়েছে। বেশ জাঁকিয়েই ঠান্ডা পড়েছে। এই সময়ে যাঁরা রুম হিটার ব্যবহারের কথা ভাবছেন, তাঁরা ব্যবহারের বিধিও জেনে নিন। নিরাপদে রুম হিটার ব্যবহার করতে হলে কী কী নিয়ম মানতে হবে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৮
Here are some safety tips to follow while using Room Heater

রুম হিটার নিরাপদে ব্যবহারের নিয়ম কী কী, দুর্ঘটনা এড়াতে জেনে নিন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

কলকাতার ঠান্ডায় রুম হিটার ব্যবহারের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। তবে গত কয়েক দিনে এ শহরেই তাপমাত্রার পারদ নেমেছে। বেশ জাঁকিয়েই ঠান্ডা পড়েছে। আগামী দিনেও ভালই শীত পড়ার পূর্বাভাস আছে। তাই অনেকেই এখন রুম হিটার কেনার কথা ভাবছেন। হিটার ব্যবহার করলে ঘরের ভিতর বেশ উষ্ণ ও আরামদায়ক থাকে। একগাদা সোয়েটার বা চাদর চাপানোর প্রয়োজন হয় না। আধুনিক পোর্টেবল রুম হিটারগুলির ওজন কম, দামও আয়ত্তের মধ্যে এবং সহজলভ্য। তবে রুম হিটার ব্যবহার করতে হলে, তার ব্যবহারের বিধিও জেনে রাখা জরুরি। সামান্য ভুলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হিটার থেকে ঘরে আগুন লেগে যাওয়ার মতো ঘটনা আগেও ঘটেছে। তাই নিরাপদে রুম হিটার ব্যবহারের কিছু নিয়ম জেনে রাখা জরুরি।

Advertisement

রুম হিটার থেকে কী কী বিপদ ঘটতে পারে?

বদ্ধ ঘরে দীর্ঘ ক্ষণ হিটার চললে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস তৈরি হতে পারে। এতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে, এমনকি ঘুমের মধ্যে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যাঁদের হাঁপানি বা সিওপিডি অথবা হার্টের রোগ আছে, তাঁদের হিটার ব্যবহারের আগে চিকিৎকের পরামর্শ নিতে হবে।

হিটার বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নেয়, ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং চোখে জ্বালা বা ব্যথা হতে পারে।

হিটারের খুব কাছে পর্দা, বিছানা বা দাহ্য পদার্থ থাকলে সহজেই আগুন লেগে যেতে পারে।

হাই-ভোল্টেজ হিটার সাধারণ প্লাগ পয়েন্টে লাগলে গরম হয়ে শর্ট সার্কিট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

হ্যালোজেন হিটার বা সাধারণ হিটার থেকে নানা রকম রাসায়নিক নির্গত হয়, যা শ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করলে হাঁপানি ও অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দেয়।

ব্যবহারের বিধি

ফ্যান বা ব্লোয়ার রুম হিটার হ্যালোজেনের চেয়ে নিরাপদ। এর ভিতরে প্যানেল থাকে, যা উত্তপ্ত হয়ে হিটারের ভিতরের ফ্যান বা ব্লোয়ারের মধ্য দিয়ে গরম বাতাস সারা ঘরে ছড়িয়ে দেয়। এই ধরনের হিটার দ্রুত ঘর গরম করে। অন্যান্য হিটারের চেয়ে এটা দামেও কম। শিশু ও পোষ্যদের জন্যও এই হিটার নিরাপদ।

হিটার চালানোর সময় ঘরের দরজা বা জানালার কিছুটা অংশ খোলা রাখা জরুরি। এতে ঘরে কার্বন মনোক্সাইড জমতে পারবে না এবং অক্সিজেনের সরবরাহ ঠিক থাকবে।

হিটারটি সব সময় দাহ্য বস্তু থেকে দূরে রাখতে হবে। হিটারের সামনে বিছানা পর্দা, গাছ, পোশাক বা অন্য দাহ্য বস্তু যেন না থাকে। হিটার থেকে তিন ফুটের মধ্যে কিছু রাখবেন না।

দীর্ঘ ক্ষণ বা সারা রাত হিটার চালিয়ে রাখা একেবারেই উচিত নয়। শোয়ার আগে ঘর গরম করে নিয়ে ঘুমোনোর সময় হিটার বন্ধ করে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। হিটার চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়বেন না। সম্ভব হলে টাইমার সেট করে দিন।

হিটার খুব দ্রুত চারপাশের বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নেয়। তাই ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিটারের আশপাশে এক পাত্র জল রেখে দিন। এতে ঘর অতিরিক্ত শুষ্ক হবে না এবং ত্বক বা শ্বাসনালির সমস্যা কম হবে।

হিটার সব সময় শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। হিটারের গায়ে যেন সরাসরি কেউ স্পর্শ না করে, সে দিকে খেয়াল রাখুন। হিটারের খুব কাছে চলে গেলে চামড়া পুড়ে যেতে পারে।

কখনওই মাল্টিপ্লাগ দিয়ে হিটার চালাবেন না। এতে বিপদ ঘটতে পারে।

হিটারের তার মাঝেমধ্যেই পরীক্ষা করে দেখে নিন কোথাও কাটা বা পোড়া দাগ রয়েছে কি না।

Advertisement
আরও পড়ুন