Liver Cancer

লিভার ক্যানসার নির্মূল হবে? নতুন দুই ওষুধে মারণরোগ সারানোর আশা দেখছেন গবেষকেরা

ভারতে প্রতি বছর লিভার ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা কম করেও ৩৫ হাজার। ক্যানসার সারাতে কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির পাশাপাশি ইমিউনোথেরাপি নিয়েও গবেষণা শুরু হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৪
Scientists have identified New treatment that significantly improves survival for people with Liver Cancer

লিভার ক্যানসার সারবে নতুন ওষুধে, দাবি গবেষণায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

লিভার ক্যানসার বেড়েই চলেছে ভারতীয়দের মধ্যে। ‘ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড হেপাটোলজি’ জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দেশে ৪০ থেকে ৭০ বছর বয়সি মহিলা ও পুরুষেরা লিভার ক্যানসারে ভুগছেন বেশি। লিভার ক্যানসারের সবচেয়ে পরিচিত ধরন, হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমাতে আক্রান্তের হারই বেশি। গোড়ায় রোগটি ধরা পড়লে চিকিৎসায় রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে অনেক দেরি হয়ে গেলে, তখন বিপদ ঘটে যায়। এই রোগ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়লে, বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। লিভারের এই মারণরোগের নিরাময়ে নানা রকম চিকিৎসাপদ্ধতি, ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলছে। তার মধ্যে আশা জাগিয়েছে দু’টি ওষুধ।

Advertisement

সান দিয়েগোর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকেরা দু’টি ইমিউনোথেরাপির ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছেন। অ্যাটেজ়োলিজ়ুমাব ও বেভাসিজ়ুমাব নামের ওষুধ দু’টির ‘কম্বিনেশন’ লিভার ক্যানসারের চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল দেখিয়েছে বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ৫০০-র বেশি ক্যানসার রোগীর উপরে এই দুই ওষুধের চিকিৎসা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, অ্যাটেজ়োলিজ়ুমাব ওষুধটি ক্যানসার কোষের প্রোটিন ধ্বংস করতে পারে আর অন্যটির কাজ হল টিউমারে রক্ত সরবরাহ বন্ধ করা। যাতে টিউমার কোষ ফুলেফেঁপে উঠে সংখ্যায় না বাড়তে পারে। ওষুধ দু’টি আরও এক বিশেষ কাজ করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধী টি-কোষকে জাগিয়ে তোলে। এই কোষ জেগে উঠলেই রোগ প্রতিরোধ শক্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অ্যান্টিবডি তৈরি হয় শরীরে, যা ক্যানসার কোষগুলির বিভাজন বন্ধ করে দিতে পারে।

লিভারে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি শুরু হলে, তার প্রভাব গোটা শরীরেই পড়বে। বিপাকক্রিয়ার পদ্ধতিটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তা ছাড়া পিত্তরসের ক্ষরণে ভারসাম্য থাকবে না। লিভার যেহেতু শরীর থেকে টক্সিন বা দূষিত পদার্থ বার করে দিতে বড় ভূমিকা নেয়, তাই সেখানে ক্যানসার হওয়া মানে শরীরে আরও বেশি মাত্রায় টক্সিন জমা হতে থাকবে। সংক্রমণ দ্রুত ঘটতে থাকবে শরীরে। ক্যানসার কোষ নষ্ট করতে অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি রেডিয়োথেরাপি বা কেমোথেরাপির চিকিৎসা হয় এখন। এতে কোষগুলি নষ্ট হয় ঠিকই, কিন্তু সুস্থ কোষগুলিরও ক্ষতি হয়। ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক হয়ে দেখা দেয়। এই সমস্যার সমাধানেই ক্যানসার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপি নিয়ে গবেষণা চলছে। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলে রোগ সারানোই এর লক্ষ্য। ওষুধ দু’টি সেখানে কার্যকরী হচ্ছে বলেই দাবি করা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন