Kidney Disease

কিডনির রোগ জব্দ হবে, ডায়ালিসিস ছাড়াই সুস্থ হবেন! নতুন কী চিকিৎসা আসতে চলেছে?

কিডনির রোগ মানেই আতঙ্ক। কিডনি বিকল হলে প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। আর কিডনি প্রতিস্থাপন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া ক্রনিক কিডনির রোগ মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেলে তখন ডায়ালিসিস করতেই হয়। এতে সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সুযোগও কম। সে জায়গায় এমন চিকিৎসাপদ্ধতি আসতে চলেছে, যা কিডনির রোগ নির্মূল করবে চিরতরে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৭
The Harvard Stem Cell Institute is developing new therapies to repair kidney damage

কিডনির জটিল রোগও নির্মূল হবে, প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনই হবে না, নতুন কী চিকিৎসা আসছে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কিডনিতে পাথর হলেই আতঙ্ক বাড়ে। সে জায়গায় কিডনির জটিল রোগ বা কিডনি বিকল হওয়ার উপক্রম হলে তো কথাই নেই। একবার কিডনি বিগড়ে গেলে, তাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। তখন প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। আর কিডনি প্রতিস্থাপন মানেই তা ঝুঁকিপূর্ণ। সফল না হলে প্রাণসংশয়ও হতে পারে। কিডনির অসুখ নিয়ে বিশ্ব জুড়েই মাথা ঘামাচ্ছেন গবেষকেরা। ডায়ালিসিস বা প্রতিস্থাপন ছাড়াই বিকল কিডনিকে সারিয়ে তোলার কোনও উপায় আছে কি না সে নিয়ে চিন্তাভাবনাও হচ্ছে। নানা রকম চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে। তার মধ্যে একটি পদ্ধতি খুব সাড়া ফেলেছে গবেষকমহলে।

Advertisement

হার্ভার্ড স্টেম সেল ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা জানাচ্ছেন, স্টেম কোষ প্রতিস্থাপন পদ্ধতিতে যে কোনও দুরারোগ্য রোগ সারানো সম্ভব। ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সুস্থ কোষ দিয়ে বদলে ফেলার ভাবনা অলীক বলেই মনে হবে। কারণ, তা করা তো প্রায় অসম্ভব। এই অসম্ভব কাজটিকেই সম্ভব করতে পারে স্টেম কোষ। স্টেম কোষের উৎস অনেক। সন্তান জন্মানোর পর মায়ের শরীর থেকে যে প্ল্যাসেন্টা বা অমরা বেরিয়ে আসে, তার মধ্যে থাকে স্টেম কোষ, যাকে ‘এমব্রায়োনিক স্টেম সেল’ বলে। আবার মজ্জা থেকেও স্টেম কোষ তৈরি হয়। এই কোষগুলিকে অন্য যে কোনও কোষে বদলে দেওয়া যেতে পারে। যেমন, মজ্জা থেকে নেওয়া স্টেম কোষকে স্নায়ুর কোষে বদলে দেওয়া সম্ভব। আবার এর থেকে হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক বা কিডনির কোষেও বদলে দেওয়া সম্ভব। এই রূপান্তরের প্রক্রিয়াকেই কাজে লাগাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

দাতার শরীর থেকে নেওয়া সুস্থ স্টেম কোষকে গবেষণাগারে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সেই কোষকে তার পর প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে রোগীর শরীরে। দেখা গিয়েছে, এই পদ্ধতিতে স্টেম কোষ রোগীর শরীরে ঢুকে নতুন কোষের জন্ম দেবে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সরিয়ে নতুন কোষ সে জায়গা নেবে। এতে অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

স্টেম কোষ থেরাপিতে ক্যানসারও নিরাময় করা সম্ভব। একই ভাবে ক্রনিক কিডনির রোগও সারিয়ে তোলা সম্ভব বলেই দাবি করেছেন গবেষকেরা। তবে পদ্ধতিটি নিয়ে গবেষণা চলছে। বহু জনের শরীরে যদি এই থেরাপি সঠিক ভাবে কাজ করে, তা হলেই এই থেরাপির প্রয়োগ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন