Madhya Pradesh Water Contamination

‘বিষাক্ত’ জলে ১০ মৃত্যু: আতঙ্কে চড়া দামে পানীয় জল কিনছেন ইনদওরের বাসিন্দারা!

প্রাণের ভয়ে গত কয়েক দিন ধরে পুরসভার কলের জলের বদলে বাধ্য হয়ে বোতলজাত জল কিনতে হচ্ছে স্থানীয়দের। যার জেরে হঠাৎ করেই আর্থিক সঙ্কটে পড়ে গিয়েছেন নিম্নবিত্তেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৩
ইনদওরে পানীয় জল সংগ্রহের লাইনে অপেক্ষায় স্থানীয়েরা।

ইনদওরে পানীয় জল সংগ্রহের লাইনে অপেক্ষায় স্থানীয়েরা। ছবি: পিটিআই।

মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে ‘বিষাক্ত’ জল পান করে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। সরকারি হিসাব বলছে তেমনটাই। যদিও স্থানীয়দের দাবি, মৃতের সংখ্যা ১৬। বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২০০ জন। এই ঘটনার পর থেকেই আচমকা বদলে গিয়েছে ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের চিত্র। পানীয় জলের জন্য আর পুরসভার নলের উপর ভরসা করতে পারছেন না স্থানীয়েরা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে বোতলজাত পানীয় জল কেনার ধুম।

Advertisement

সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাণের ভয়ে গত কয়েক দিন ধরে পুরসভার কলের জলের বদলে বাধ্য হয়ে বোতলজাত জল কিনতে হচ্ছে স্থানীয়দের। যার জেরে হঠাৎ করেই আর্থিক সঙ্কটে পড়ে গিয়েছেন নিম্নবিত্তেরা। উল্লেখ্য, ইনদওরের ভগীরথপুরা নামে যে জায়গায় দূষিত জল খেয়ে ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের গোষ্ঠীর বাস। সেখানকার মরাঠী মহল্লার এক বাসিন্দা সুনীতার কথায়, ‘‘আমরা এখন পুরসভার কলের জল পান করতে ভয় পাচ্ছি। আগে আমাদের প্রমাণ দেখানো হোক যে ওই জল পরিশুদ্ধ, তবেই আমরা তা পান করব। আমার পরিবার এখন বাজার থেকে পানীয় জলের জার কিনছে। প্রতিটি জার কিনতে খরচ পড়ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।’’ সুনীতার দাবি, গত দু’তিন বছর ধরেই ওই এলাকায় পুরসভার কল থেকে ‘দূষিত জল’ পাওয়া যায়। ফটকিরি মিশিয়ে, দীর্ঘক্ষণ ফুটিয়ে তবেই সেই জল পানের যোগ্য হয়ে ওঠে। ক্ষুদ্ধ সুনীতা পিটিআই-কে জানাচ্ছেন, বাসিন্দারা এ নিয়ে একাধিক বার অভিযোগ করলেও আমল দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।

এলাকা জুড়ে এতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে, চা তৈরির জন্য এখন বোতলজাত জল ব্যবহার করা হচ্ছে চায়ের দোকানগুলিতেও। স্থানীয় এক চা-দোকানি তুষার বর্মা বলছেন, এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা ভেবে বাজার থেকে জল কিনে সেই জলে চা বানাচ্ছেন তিনি। তবে চায়ের দাম বাড়ানো হয়নি। অন্য দিকে, স্থানীয় প্রশাসনের তরফেও পরিশুদ্ধ পানীয় জল ব্যবহার সম্পর্কে প্রচার শুরু হয়েছে। জেলাশাসক শিবম বর্মা বলেন, ‘‘একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় ভাগীরথপুরায় প্রচার চালানো হচ্ছে। জল পান করার আগে তা অন্তত ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কেবলমাত্র পুরসভার ট্যাঙ্কের সরবরাহ করা পানীয় জল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে স্থানীয়দের।’’ পাশাপাশি, ভগীরথপুরায় পুরসভার জলের পাইপ এবং নলকূপে ক্লোরিনেশন শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনায় তদন্ত চলছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নির্দেশে ভগীরথপুরার পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে গিয়েছেন মুখ্যসচিব। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থদের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। শুক্রবার পুর কমিশনার দিলীপ কুমার যাদবকে অপসারণ এবং অতিরিক্ত পুর কমিশনার রোহিত সিসোনিয়া এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জীব শ্রীবাস্তবকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন