কোন কাশি কী রোগের লক্ষণ? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
আবহাওয়ার বদলে প্রায় প্রতি ঘরে ঘরেই সর্দি-কাশি-জ্বর হচ্ছে। তা সপ্তাহখানেকের মধ্যে সেরেও যাচ্ছে। জ্বর সারলেও, সবচেয়ে নাছোড়বান্দা হল কাশি। এক বার হলে আর যেতেই চায় না। কাশি মানেই অনেকে ভেবে নেন, শুধু ঠান্ডা লাগার কারণেই হচ্ছে। তা কিন্তু নয়। কাশির ধরন দেখে অনেক বড় বড় রোগের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। যেমন, ঠান্ডা লেগে যে কাশি হবে তা চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সেরে যাবে। যদি কফ বুকে বসে যায়, তা হলে কাশি সারতে আরও কিছুটা দেরি হতে পারে। তবে যদি ঠান্ডা না লাগে, তার পরেও খুসখুসে কাশি হতেই থাকে এবং তা সপ্তাহখানেক ধরে চলে, তা হলে বুঝতে হবে লক্ষণ মোটেও সুবিধার নয়। এই কাশির কারণ যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের জটিল রোগ হতে পারে। কাজেই কোন কোন লক্ষণ দেখে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।
কাশির নানা ধরন
শুকনো খুসখুসে কাশি যদি টানা এক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তা হলে সেটি সাধারণ ভাইরাল জ্বর, অ্যালার্জি বা বায়ুদূষণের কারণে হতে পারে।
কাশির সঙ্গে যদি বুকে সাঁই সাঁই শব্দ হয়, গলাব্যথা হয়, কণ্ঠস্বরে বদল আসতে থাকে, তা হলে সেটি হাঁপানি বা সিওপিডির লক্ষণ। রাতে এই কাশির দমক বাড়ে।
কাশির সঙ্গে সঙ্গেই গলা-বুক জ্বালা, বুকে চাপ অনুভব করার লক্ষণ দেখা দিলে, তা অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পাকস্থলীর রোগের লক্ষণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কাশির সঙ্গে গলায় জ্বালা হতে পারে।
কাশি টানা চলছে, সেই সঙ্গে বুকে কফ জমে আছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে মাঝেমধ্যেই, এমনটা কিন্তু মোটেই হেলাফেলার নয়। বুঝতে হবে নিউমোনিয়া বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। অথবা ব্রঙ্কাইটিসের লক্ষণও হতে পারে।
কাশির সঙ্গে যদি রক্ত বেরিয়ে আসতে থাকে, তা হলে সাবধান। সেটি যক্ষ্মা বা ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
কফ উৎপাদক কাশির ক্ষেত্রে কফের পরিমাণ, রং, গন্ধ এবং সময় বিচার করে কাশির কারণ চিহ্নিত করেন চিকিৎসকেরা। কাশির সঙ্গে পুঁজের মতো কফ হলে বুঝতে হবে রোগীর ফুসফুসে ফোঁড়া হয়েছে। যদি কফের রঙ হলদেটে হয় বুঝতে হবে সংক্রমণজনিত কাশি। লালচে-কালো রঙের কফ হলে বুঝতে হবে নিউমোনিয়ার জন্য কাশি হচ্ছে। কফের রঙ যদি গোলাপি হয় তা হলে বুঝতে হবে ফুসফুসে জল জমেছে। আবার হার্টের সমস্যায় কাশিও হতে পারে পূর্বলক্ষণ। সে ক্ষেত্রে দমবন্ধ হয়ে আসা, একটানা কাশি ও বুকে চাপের মতো ব্যথা অনুভূত হবে।
কাশি থেকে বাঁচতে সাবধান হওয়াই জরুরি। তাপমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জামাকাপড় পরতে হবে। যাঁদের অ্যালার্জির ধাত তাঁদের ধুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। ধূমপান বা তামাকের নেশায় লাগাম টানতে হবে। সর্দি-কাশির ধাত থাকলে সারা বছরই উষ্ণ গরম জলে স্নান করতে হবে। অ্যালার্জি বা ফুসফুসের রোগ আগে থেকেই থাকলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিয়ে রাখলে বিপদ কম হবে।