Dead Hang Exercise

ঝুলে থেকেই ওজন কমবে, দূর হবে যত অসুখবিসুখ, ফিটনেসের নয়া মন্ত্র এখন ‘ডেড হ্যাং’

শধু রড ধরে ঝুলতে হবে। তাতেই ওজন কমবে হুড়মুড়িয়ে। জটিল সব অসুখবিসুখ দূর হবে। ব্যায়ামের এই পদ্ধতি পুরনো, তবে নতুন করে তা আলোচনায়। ফিটনেসের নয়া মন্ত্র এখন ‘ডেড হ্যাং’।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪৩
How a Simple Dead Hang Exercise Can Transform Your Spine Health

‘ডেড হ্যাং’ কী, ওজন কমাতে ফিটনেসের নয়া মন্ত্র। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দু’হাতে শক্ত করে ধরতে হবে রড। তার পর ঝুলে থাকতে হবে। আর ঝুলতে ঝুলতেই কমবে ওজন। শক্তপোক্ত হবে পেশি। অসুখবিসুখ ধারেকাছে ঘেঁষবে না। সমান্থা রুথ প্রভু, টাইগার শ্রফ, বিদ্যুৎ জামওয়াল থেকে অক্ষয় কুমার— তারকাদের অত্যন্ত পছন্দের ব্যায়াম এটি। আজকাল জিমগুলিতেও শেখানো হয়। ব্যায়ামের এই পদ্ধতি পুরনো। খেলোয়াড় বা বডি বিল্ডাররা করতেন এক সময়ে, আর এখন সাধারণ মানুষজনও করছেন। ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ডেড হ্যাং এক্সারসাইজ়’।

Advertisement

ডেড হ্যাং কী?

ঝুলে থাকার ব্যায়াম। লোহার রড বা স্টিলের বার দু’হাতে শক্ত করে ধরে ঝুলে থাকতে হবে। এ ধরনের ব্যায়ামে আলাদা করে ওজন তোলার প্রয়োজন হয় না, বিশেষ কোনও যন্ত্রপাতিও লাগে না। শরীরের নিজস্ব ওজনকেই ব্যবহার করা হয়। জিমগুলিতে ডেড হ্যাংয়ের জন্য নির্দিষ্ট রড বা বার সেট করা থাকে। বাড়িতে করতে হলে শরীরের ভার নিতে পারবে, এমন শক্তপোক্ত লোহার রড প্রয়োজন হবে। এমন ভাবে রডটি সেট করতে হবে, যাতে ঝুলে থাকার সময় ভেঙে না যায়। ব্যায়ামটি করার সময়ে একটু টুল বা চেয়ার রাখতে হবে। তার পর উচ্চতা অনুযায়ী রডটি সেট করতে হবে। টুলে উঠে দুই হাত দিয়ে আগে রডটি শক্ত করে ধরতে হবে। দুই হাতের মধ্যে ব্যবধান থাকবে। তার পর টুল থেকে পা সরিয়ে শরীর ঝুলিয়ে দিতে হবে। এই অবস্থায় শরীরকে স্থির ও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে।

ডেড হ্যাং ব্যায়াম।

ডেড হ্যাং ব্যায়াম। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ব্যায়ামের সময়ে সতর্কতা

ব্যায়ামটি করাকালীন সব সময়ে পায়ের নীচে টুল রাখতে হবে। না হলে যেখানে ঝুলবেন, তার নীচে ম্যাট বা গদি রাখবেন। কোনও কারণে শরীরের ভারসাম্য হারালে বা পড়ে গেলে যাতে আঘাত না লাগে। ডেড হ্যাং ব্যায়ামে দুই পায়ে ওজন নিয়ে বা কোমর থেকে ওজন ঝুলিয়েও কসরত করা যায়। তবে তা অভ্যস্ত হওয়ার পরেই করতে হবে। ওজন নিয়ে ঝুলে থাকতে যদি সমস্যা হয়, তা হলে না করাই ভাল। ডেড হ্যাং করার আগে অবশ্যই প্রশিক্ষকের থেকে পদ্ধতি শিখে নিতে হবে।

লাভ কতটা?

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর প্রয়োজন নেই। দুই হাতে ভারী ওজন তুলতেও হয় না। দৌড়োনো বা হাঁটাহাঁটিও করতে হয় না। কেবল স্থির হয়ে ঝুলে থাকতে হয়। তাই এই ব্যায়াম এখন পছন্দ করছেন অনেকে। শুরুতে শরীরের ভার রাখতে সমস্যা হবে ঠিকই, তবে পরে অভ্যাস হয়ে গেলে একটি ব্যায়ামেই চর্বি গলবে দ্রুত হারে। শক্ত হবে হাত ও কাঁধের পেশি। সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে।

দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে কাজ করেন যাঁরা, তাঁরা ব্যায়ামটি করলে পেট-কোমরে মেদ জমবে না, ব্যথাবেদনাও সেরে যাবে। ছোটরাও করতে পারে এই ব্যায়াম। এতে তাদের মেরুদণ্ড শক্তপোক্ত হবে এবং উচ্চতাও বাড়বে।

শরীরের ঊর্ধ্বাংশের পেশির ব্যায়াম হয় ডেড হ্যাং করলে। শরীরের গঠন সুঠাম ও সুগঠিত হয়। শুরুর দিকে নিয়মিত ১০-১৫ সেকেন্ড ডেড হ্যাং করলেই যথেষ্ট। অভ্যাস হয়ে এলে মিনিটখানেকও করা যায়। তবে হাত, কোমর বা ঘাড়ে পুরনো চোট থাকলে বা ফ্রোজ়েন শোল্ডারের সমস্যা থাকলে এই ব্যায়াম করা ঠিক নয়।

Advertisement
আরও পড়ুন