History of Aromatherapy

গন্ধ যখন চিকিৎসায়, ভেষজ থেকে রাসায়নিক সৌরভেই যুগে যুগে বহমান থেকেছে অ্যারোমাথেরাপি

প্রাচীন গ্রিক, পারসিক, মিশরীয় সভ্যতা থেকে ভারতীয় মহাকাব্যেও উল্লেখ আছে অ্যারোমাথেরাপির। কী ভাবে সুগন্ধি-চিকিৎসা হত প্রাচীনকালে? বর্তমান সময়ে এর প্রয়োগ কী ভাবে হচ্ছে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৪
From Ancient Roots to Modern Healing, the Evolution of Aromatherapy through the Ages

সুগন্ধি-চিকিৎসার সে কাল, এ কাল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মন্ত্রীমশাইয়ের জামায় কড়া এসেন্সের গন্ধ নিয়ে বেজায় কৌতূহল ছিল রাজামশাইয়ের। যদিও সে গন্ধ শুঁকতে রাজি হননি রাজসভার পারিষদেরা। শেষে এক বৃদ্ধ নাজির এসে গন্ধ শুঁকে কৌতূহল নিরসন করেন। সুকুমার রায়ের ‘গন্ধবিচার’-এর নাজির কেমন গন্ধ পেয়েছিলেন তা অবশ্য জানা যায়নি, তবে গন্ধের মাহাত্ম্য বিরাট। বিশেষ করে সুগন্ধ। তা যে মোটেই হেলাফেলার বস্তু নয়, তার প্রমাণ কিন্তু ইতিহাসেই আছে। রামায়ণে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিতের শক্তিশেলের আঘাতে সটান মূর্ছা গিয়েছেন লক্ষণ। কিছুতেই তাঁর হুঁশ ফেরে না। এ রোগ সারাতে চার রকমের ভেষজ নিয়ে আসার কথা বলেছিলেন বৈদ্য সুষেণ— মৃতসঞ্জীবনী, বিশল্যকরণী, সন্ধানকরণী ও সবর্ণকরণী (বাল্মীকি রামায়ণের যুদ্ধকাণ্ড)। সে সব ভেষজ আবার ফলে কেবল গন্ধমাদন পর্বতেই। হনুমানের সেখানে গিয়ে রীতিমতো নাকানিচোবানি দশা। কোনটি কী উদ্ভিদ তা ঠাহর করতে না পেরে শেষে আস্ত পর্বত কাঁধে তুলেই নিয়ে আসেন। এই সব ভেষজের নির্যাস কিন্তু মোটেও খাওয়ানো হয়নি লক্ষণকে। বরং তার কড়া গন্ধ শোঁকানো হয়েছিল। আর তাতেই জ্ঞান ফিরে উঠে বসেছিলেন রামানুজ।

Advertisement

গ্রিক পুরাণ থেকে ভারতীয় মহাকাব্য— অসুখ সারাতে এমন সুগন্ধের উল্লেখ বার বার করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে তার নাম ‘অ্যারোমাথেরাপি’। শোনা যায়, মিশরের রানি ক্লিওপেট্রা যখন মার্ক অ্যান্টনির সঙ্গে দেখা করতে যেতেন, তখন জাহাজ বোঝাই করে সুগন্ধি ভরে নিয়ে যেতেন। ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্যের রহস্যও ছিল নানা প্রকার প্রাকৃতিক উপাদান ও বিশেষ কিছু সুগন্ধি দ্রব্য। সেগুলিও যে অ্যারোমাথেরাপিরই একটি বিশেষ ধারা ছিল, তা অনুমানই করা যায়।

অ্যারোমাথেরাপি আসলে কী?

অ্যারোমাথেরাপি আসলে কী?

অ্যারোমাথেরাপির সঙ্গে পরিচয়

অ্যারোমাথেরাপির সঙ্গে এখনকার মানুষের পরিচয় কী ভাবে হল, সে নিয়ে নানা ঘটনার উল্লেখ আছে ইতিহাসের পাতায়। সেটা ১৯৩৭ সাল। শোনা যায়, ফরাসি রসায়নবিদ রেনে-মরিস নানা গাছগাছড়া নিয়ে তাঁর গবেষণাগারে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন। হাতে অ্যাসিড পড়ে মারাত্মক অবস্থা হয় বিজ্ঞানীর। চামড়া গলতে শুরু করে, যন্ত্রণায় প্রাণ যায় যায় দশা। তাড়াহুড়োতে সামনের টেবিলে রাখা এক তরল ঢেলে দেন হাতে। ধীরে ধীরে ক্ষত শুকোতে থাকে, যন্ত্রণা কমে। বিজ্ঞানী দেখেন, জল ভেবে যা ঢেলেছিলেন তা ছিল ল্যাভেন্ডার অয়েল। এর এমনই গুণ, যা জ্বালাপোড়া, ক্ষত সারিয়ে দিতে পারে খুব দ্রুত। এই দুর্ঘটনাই বিজ্ঞানীর গবেষণার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাঁরই হাত ধরে জন্ম হয় চিকিৎসার এক নতুন অধ্যায়ের। বিজ্ঞানী নাম রাখেন ‘অ্যারোমাথেরাপি’। গ্রিক শব্দ ‘অ্যারোমা’ অর্থে সুগন্ধ আর ‘থেরাপি’ হল চিকিৎসা। অর্থাৎ, সুগন্ধ দিয়ে যে চিকিৎসা হয়।

সুগন্ধ দিয়ে চিকিৎসা কী ভাবে হয়?

সুগন্ধ দিয়ে চিকিৎসা কী ভাবে হয়?

ফরাসি রসায়নবিদের অ্যারোমাথেরাপিতে মুগ্ধ হয়ে ফরাসি শল্যচিকিৎসক জঁ ভ্যালনেট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আহত সেনাদের চিকিৎসা করেছিলেন ওই সুগন্ধ দিয়েই। এমনই কথিত আছে, পরবর্তী কালে ফরাসি জীবরসায়নবিদ মার্গারেট মারে চিকিৎসার পাশাপাশি সৌন্দর্যচর্চার সঙ্গেও জুড়ে দেন অ্যারোমাথেরাপিকে। ফলে একাধারে চিকিৎসা, রূপচর্চা ও শারীরবিদ্যার নানা ধারার সঙ্গেও যোগসূত্র তৈরি হয়ে যায় অ্যারোমাথেরাপির।

মোড়কটি নতুন, প্রয়োগ বহু প্রাচীন

অ্যারোমাথেরাপির মোড়কটি বিংশ শতাব্দীর হলেও তার প্রয়োগ শুরু হয় তারও বহু আগে। ঋগ্বেদেই উল্লেখ আছে, প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতায় ভেষজ চিকিৎসাই ছিল প্রধান। প্রয়োগ করা হত নানা রকম ফুল, পাতা, গাছগাছড়ার ছাল ও শিকড়ের নির্যাস থেকে তৈরি তেল। চরক ও সুশ্রুতসংহিতাতেও সুরভি ও সুগন্ধির উল্লেখ আছে, যাকে এখনকার অ্যারোমাথেরাপি বলেই মনে করা হয়।

মহাভারতের ‘বিরাট পর্ব’-এ পাণ্ডবেরা যখন অজ্ঞাতবাসে ছিলেন, তখন দ্রৌপদী মৎস্যরাজ বিরাটের রানি সুদেষ্ণার পরিচারিকা বা ‘সৈরিন্ধ্রী’ রূপে আত্মগোপন করেছিলেন। দ্রৌপদী রানিকে বলেছিলেন, তিনি চন্দন এবং বিভিন্ন ফুল থেকে এমন সুগন্ধি প্রলেপ ও তেল তৈরি করতে পারেন, যা রানির রূপ-যৌবন ধরে রাখবে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করবে। প্রাচীন ভারতে এই বিদ্যাকে ‘গন্ধযুক্তি’ বলা হত।

বৌদ্ধধর্মগ্রন্থ ‘ত্রিপিটক’-এ গৌতম বুদ্ধের পায়ের ক্ষতের চিকিৎসায় ফুলের সুগন্ধ ও উদ্ভিদের নির্যাসের কথা একাধিক বার বলা হয়েছে। শোনা যায়, চিকিৎসক জীবক উদ্ভিদের নির্যাস থেকে তেল বার করে গৌতম বুদ্ধের চিকিৎসা করেন। অনুমান, সে সব তেল ছিল এখনকার এসেনশিয়াল অয়েলেরই একটি রূপ।

প্রাচীন মিশরে অ্যারোমাথেরাপির প্রয়োগ হত নানা ভাবে।

প্রাচীন মিশরে অ্যারোমাথেরাপির প্রয়োগ হত নানা ভাবে।

প্রাচীন ভারতে অ্যারোমাথেরাপির উদাহরণ অজস্র। মোগল যুগেও এর প্রয়োগ হত নানা ভাবে। সেই সময় রানিরা সুগন্ধি ফুলের নির্যাস মেশানো জলে স্নান করতেন। সে সময়ের ইতিহাসকার আবুল ফজ়ল তাঁর নথিতে বলেছেন, সুগন্ধি দ্রব্যে সম্রাট আকবরের আগ্রহ ছিল। প্রাসাদের অন্দরমহলকে সুরভিত রাখতে বিভিন্ন ফুলের নির্যাস ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

১৯২২ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার মিশরীয় অষ্টাদশ রাজবংশের ফারাও তুতেনখামেনের মমি আবিষ্কার করেছিলেন। শোনা যায়, পিরামিডের ভিতরে ফারাওয়ের মমি বার করার পরেই তার থেকে তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে আসে। প্রায় তিন হাজার বছরের পুরনো মমিতেও সেই সুবাস ছিল টাটকা। পরে জানা যায়, সেই সুগন্ধি ছিল সেই সব ভেষজ ও রাসায়নিক, যা মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করত মিশরীয়রা।

চিনেও ভেষজের ব্যবহার ও অ্যারোমাথেরাপির গবেষণা বহু পুরনো। আনুমানিক ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রচিত চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থেও চিনের বিভিন্ন ধর্মীয় রীতি ও অনুষ্ঠানে সুগন্ধি ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। সৌন্দর্য ধরে রাখতে ও স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সুগন্ধি-চিকিৎসার রেওয়াজ ছিল চিনে।

আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও অ্যারোমাথেরাপির বিকাশ হয়েছে বহু আগেই। আশির দশকের শেষের দিকে এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যবহার বাড়ে আমেরিকায়। রূপচর্চার কাজে অ্যারোমা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন বিজ্ঞানীরা। বিভিন্ন পার্লার, সাঁলো, স্পা-তে ভেষজ তেল দিয়ে ম্যাসাজ, অ্যারোমা বাথ শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়াতে অ্যারোমাথেরাপিকে বলা হয় কমপ্লিমেন্টারি থেরাপি। বয়স্কদের নানা রোগব্যাধি সারাতেও এর প্রয়োগ হয়।

অ্যারোমাথেরাপির পদ্ধতি কী?

বিভিন্ন ফুল, গাছগাছড়া, পাতা, গাছের ছাল বা শিকড়ের নির্যাস থেকে পাতনপ্রক্রিয়ায় তেল নিষ্কাশন করা হয়। এই তেল প্রয়োগে হাঁপানি, শ্বাসের রোগ, সাইনাস, হাইপারটেনশন, আর্থ্রাইটিস, নানা প্রকারের অ্যালার্জি, নার্ভ ডিজ়অর্ডার, স্থূলত্ব, মাইগ্রেন থেকে শুরু করে চর্মরোগ পর্যন্ত সারানো সম্ভব বলেই মনে করা হয়। এই বিষয়ে কলকাতার এক আয়ুর্বেদিক ক্লিনিকের চিকিৎসকদের মত, অ্যারোমাথেরাপির প্রয়োগ নানা ভাবে হয়। ঘ্রাণের মাধ্যমে, ত্বকে প্রয়োগের মাধ্যমে, ক্লিনিকাল অ্যারোমাথেরাপির নানা রোগের চিকিৎসায়, অ্যারোম্যাটিক মেডিসিন এবং কসমেটিক অ্যারোমাথেরাপি।

অ্যারোমাথেরাপির প্রয়োগ নানা ভাবে হয়।

অ্যারোমাথেরাপির প্রয়োগ নানা ভাবে হয়।

অ্যারোমা অয়েলের সুবাস নেওয়ার সময়ে, সুগন্ধির অণুগুলি নাকের ভিতরে থাকা ওলফ্যাক্টরি রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে। এই উদ্দীপনা সরাসরি পৌঁছোয় মস্তিস্কের লিম্বিক সিস্টেমে,, যা আবেগ, স্মৃতি, হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন, ল্যাভেন্ডার তেল শুঁকলে নিমেষে মন শান্ত হয়ে যায় বা লেবুর সুবাসে ক্লান্তি দূর হয়। আবার ব্রণ নিরাময় করতে টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করা হয়। এটি শোঁকানো হয় না, বরং তা ত্বকের সংস্পর্শে এসে কাজ করে। ক্লিনিক্যাল অ্যারোমাথেরাপিতে মূল চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর যন্ত্রণার উপশম ঘটাতে নানা রকম এসেনশিয়াল অয়েল ও সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়। ফ্রান্স এবং ইউরোপের কিছু দেশে অ্যারোম্যাটিক মেডিসিনের প্রয়োগ হয়। আর কসমেটিক অ্যারোমাথেরাপির প্রয়োগ হয় সৌন্দর্যচর্চায়। যেমন, চুল ভাল রাখতে ল্যাভেন্ডার, পেপারমিন্ট বা রোজ়মেরি অয়েলের ব্যবহার করা হয়। আবার ত্বকের যে কোনও সমস্যায় অরেঞ্জ অয়েল, চন্দন তেলের প্রয়োগ বেশি হয়।

বর্তমানে অ্যারোমাথেরাপির প্রয়োগ হয় কী ভাবে?

অ্যারোমাথেরাপির প্রয়োগ নানা ভাবে হয়। যে পদ্ধতিগুলি বেশি পরিচিত সেগুলি হল, ইনহেলেশন (ঘ্রাণের মাধ্যমে), মাসাজ থেরাপি (ত্বক দ্বারা শোষণের মাধ্যমে), অ্যারোমা বাথ (স্নানের মাধ্যমে), কসমেটিক থেরাপি (প্রসাধনীর মাধ্যমে)। তা ছাড়া আরও অনেক পদ্ধতি আছে।

অ্যারোমাথেরাপির মূল ভিত্তি হল নানা প্রকারের এসেনশিয়াল অয়েল। ল্যাভেন্ডার, টি ট্রি অয়েল, রোজ়মেরি, পেপারমিন্ট ইত্যাদি এসেনশিয়াল অয়েলগুলি উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে পাতন প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা হয়। এগুলি অত্যন্ত ঘনীভূত অবস্থায় থাকে। এগুলি শুঁকিয়ে থেরাপি করা হয়, আবার ত্বকে মালিশ করেও থেরাপি হয়। তবে এসেনশিয়াল অয়েল খুব কড়া হওয়ায় সরাসরি ত্বকে মাখা যায় না। নানা রকম ক্যারিয়ার অয়েল, যেমন আমন্ড অয়েল, নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়।

বর্তমান সময়ে অ্যারোমাথেরাপর প্রয়োগ হয় নানা ভাবে।

বর্তমান সময়ে অ্যারোমাথেরাপর প্রয়োগ হয় নানা ভাবে।

ইনহেলেশন পদ্ধতিও নানা রকম হয়। একটি হল ফেশিয়াল স্টিমিং, যাতে ফুটন্ত গরম জলে ২-৩ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে চিকিৎসা করা হয়। ব্রণর জন্য টি ট্রি অয়েল, সর্দিকাশির জন্য ইউক্যালিপ্টাস অয়েল, আবার মাথাযন্ত্রণা সারাতে পেপারমিন্ট অয়েল মেশানো যায়। সমস্যা যেমন, সেই অনুযায়ীই এসেনশিয়াল অয়েল মেশানো হয়। আবার ঘরে স্প্রে করেও থেরাপি করা হয়।

মাসাজ থেরাপিতে ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে পুরো শরীরে বা নির্দিষ্ট ব্যথার জায়গায় মালিশ করা হয়। স্পা, ওয়েলনেস সেন্টার বা ফিজ়িয়োথেরাপি ক্লিনিকে এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে মাসাজ থেরাপি করা হয়। এ ক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ উপাদান সরাসরি রোমকূপ দিয়ে ঢুকে রক্তে মেশে ও কোষ-কলায় গিয়ে পৌঁছোয়। শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে, পেশির ক্লান্তি দূর করতে এই থেরাপি কাজে আসে বলে দাবি। সেই সঙ্গে আরও কিছু সমস্যা দূর হতে পারে, যেমন মাইগ্রেন, আর্থ্রাইটিস, হজম সংক্রান্ত সমস্যা, ঋতুস্রাবের সময়ে তলপেটে যন্ত্রণা এবং অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা।

অ্যারোমা বাথও সাম্প্রতিক কালে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। মানসিক ক্লান্তি কাটাতে বিভিন্ন স্পা বা অ্যারোমা ক্লিনিকে গিয়ে এসেনশিয়াল অয়েল মেশানো অ্যারোমা বাথ নিচ্ছেন অনেকে। বাথটবে ঈষদুষ্ণ জলে ল্যাভেন্ডার অয়েল বা রোজ় অয়েল মিশিয়ে তাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে থাকলে মানসিক চাপ দূর হতে পারে বলে দাবি করা হয়।

অ্যারোমা অয়েল দিয়ে কসমেটিক থেরাপিও করা হয় এখন। সে ক্ষেত্রে শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, সিরাম বা ক্রিমে এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে দেওয়া হয়। ব্রণ সারাতে, চুলের জেল্লা ফেরাতে, বলিরেখা দূর করতে ও ত্বকের বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতেও অ্যারোমাথেরাপির প্রয়োগ হচ্ছে।

ক্লিনিক্যাল অ্যারোমাথেরাপিও করা হয় নানা জায়গায়। ইনসুলিনের ভারসাম্য রাখতে, ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে, বাতের ব্যথা উপশমে, চর্মরোগের চিকিৎসায় এর প্রয়োগ হয় নানা উপায়ে।

অ্যারোমাথেরাপি সত্যিই কার্যকর কি না, তা নিয়ে মতভেদ আছে। ত্বক চিকিৎসকেরা অবশ্য অ্যারোমাথেরাপির উপযোগিতাকে সে ভাবে মান্যতা দিতে চান না। চিকিৎসক কৌশিক লাহিড়ীর মতে, অ্যারোমাথেরাপি দিয়ে রোগ নিরাময়ের কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অতএব সুগন্ধির প্রয়োগে মন ভাল করতে করা গেলেও, অসুখ সারাতে এর কোনও ভূমিকাই নেই।

Advertisement
আরও পড়ুন