Hypertensive Retinopathy

চোখের পিছনে রক্তপাত, ঝাপসা দৃষ্টি! এ সবের নেপথ্যে কি উচ্চ রক্তচাপ? দ্রুত সতর্ক হোন

চোখের পিছনের অংশে থাকা রেটিনা অত্যন্ত সূক্ষ্ম রক্তনালির মাধ্যমে কাজ করে। দীর্ঘ দিন রক্তচাপ বেশি থাকলে সেই রক্তনালিগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কী ভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১৭:৪৭
হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কী?

হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কী? ছবি: সংগৃহীত।

উচ্চ রক্তচাপের ক্ষতিকর প্রভাব বলতে সাধারণত হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্ক বা কিডনির কথাই বেশি শোনা যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ দিন উচ্চ রক্তচাপে ভুগলে চোখেরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি, ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হতে পারে। এই অবস্থাকেই বলা হয় ‘হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি’।

Advertisement
উচ্চ রক্তচাপের প্রভাব পড়তে পারে চোখে।

উচ্চ রক্তচাপের প্রভাব পড়তে পারে চোখে। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকদের মতে, চোখের পিছনের অংশে থাকা রেটিনা অত্যন্ত সূক্ষ্ম রক্তনালির মাধ্যমে কাজ করে। দীর্ঘ দিন রক্তচাপ বেশি থাকলে সেই রক্তনালিগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ধীরে ধীরে সেগুলি সরু, আড়ষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে রেটিনায় রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয় এবং দৃষ্টিশক্তির উপর প্রভাব পড়তে শুরু করে। অতিরিক্ত রক্তচাপ চোখের রক্তনালিগুলিতে চাপ ফেলে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হল, শুরুর দিকে অনেক ক্ষেত্রেই কোনও লক্ষণ বোঝা যায় না। তাই অনেকে বুঝতেই পারেন না যে, চোখের ভিতরে ক্ষতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে অবস্থার অবনতি হলে কিছু সতর্কবার্তা দেখা দিতে পারে।

চোখের সমস্যা বোঝার জন্য পরীক্ষা করা দরকার।

চোখের সমস্যা বোঝার জন্য পরীক্ষা করা দরকার। ছবি: সংগৃহীত

কোন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে?

· দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা

· একটানা মাথা ব্যথা

· চোখে চাপ বা অস্বস্তি

হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি নীরবে ক্ষতি করে। সহজে ধরা যায় না। রুটিন পরীক্ষা করালেই একমাত্র এই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব, তাই বছরে অন্তত এক বার চোখের পরীক্ষা করানো দরকার বলে মত চিকিৎসকদের। চোখ পরীক্ষা করে অনেক সময়ে চিকিৎসকেরাই প্রথম বুঝতে পারেন যে, কারও রক্তচাপ দীর্ঘ দিন ধরে বেশি। কারণ, রেটিনার রক্তনালির পরিবর্তন চোখের পরীক্ষায় স্পষ্ট ধরা পড়তে পারে। সেই কারণেই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার উপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা।

কী ভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

· সবচেয়ে জরুরি হল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

· নিয়মিত রক্তচাপ মাপা

· চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ ঠিক সময়ে খাওয়া

· অতিরিক্ত নুন খাওয়া কমানো

· ধূমপান এড়ানো

· শারীরচর্চা করা

· উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে রক্তচাপ কমে

· স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, জল পান করা, যাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে

Advertisement
আরও পড়ুন