কোন বয়সে কতটা জল পান করবে শিশু, জেনে নিন হিসেব। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
সুস্থ থাকার জন্য যে পর্যাপ্ত জল খাওয়া প্রয়োজন সে কথা কারও অজানা নয়। তবে সেই পরিমাণ মতো জল খাওয়া হয় না অনেক সময়েই। সাধারণ ভাবে বলা হয়, সুস্থ থাকতে সঠিক ওজন বজায় রাখতে দিনে ৩ লিটার জল খাওয়া প্রয়োজন। তবে এই হিসেবটা গড় মাত্র। সকলের জন্য এক নয়। বিশেষ করে শিশুরা সারা দিনে কী পরিমাণে জল পান করবে, সে হিসেবটা জেনে রাখা জরুরি। ছোটদের শরীরে জলশূন্যতা খুব তাড়াতাড়ি দেখা দেয়। তাই সময়ান্তরে তাদের জল খাওয়াতেই হবে। স্কুলে যাচ্ছে যে শিশুরা, তারা জল কম খেলে মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়বে। তাই বয়স অনুযায়ী কতটা জল পান করা প্রয়োজন, তা জেনে রাখুন অভিভাবকেরা।
জল কম খেলে যেমন সমস্যা হবে, তেমনই অতিরিক্ত জল পান করলে আবার শরীরে খনিজের পরিমাণ বা ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হবে। ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৪ লিটারের বেশি জল খেয়ে ফেললে তার প্রভাবে ক্ষতি হবে মস্তিষ্কেরও। শ্বাসকষ্টও শুরু হতে পারে। অনেক বাবা-মা ভাবেন, শিশুকে জোর করে অনেকটা জল খাওয়ালে ভাল। তা কিন্তু নয়। জল যেমন খাওয়াতে হবে মেপে, পাশাপাশই তরল খাবার, ফলের রসও দিতে হবে। তা হলেই শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ হবে আবার সোডিয়াম, পটাশিয়ামের ভারসাম্যও ঠিক থাকবে।
কোন বয়সের শিশু কতটা জল পান করবে, তা নির্ভর করবে তাদের শারীরিক অবস্থার উপরে। শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পাল জানাচ্ছেন, সদ্যোজাত বা মাস ছয়েকের শিশু স্তন্যপানই করবে। সেই সঙ্গে দিনে ১২৫ থেকে ২৫০ মিলিলিটার বা এক গ্লাসের মতো জল খেতে পারে। শিশুর বয়স ১ বছর পেরোলে তখন দিনে ১ লিটারের মতো জল খেতেই হবে। ১ থেকে ৩ বছর অবধি ১ থেকে দেড় লিটার জল সারা দিনে খাওয়াতে পারেন শিশুকে।
বয়স তিন পেরিয়ে গেলে তখন পরিমাণ বাড়বে। ৪ থেকে ৮ বছর অবধি সারা দিনে দেড় লিটার থেকে ১ .৭ লিটার অবধি জল খেতেই হবে। সেই সঙ্গেই শিশুকে দিতে হবে স্যুপ, মরসুমি ফলের রস।
৯ থেকে ১৩ বছরে দিনে ২ লিটারের বেশি জল খেতেই হবে। ওই বয়সি ছেলেদের দিনে অন্তত আড়াই লিটার ও মেয়েদের ১.৭ থেকে ২ লিটার অবধি জল পান করতেই হবে।
১৪ বছরের পর থেকে দিনে আড়াই থেকে তিন লিটার অবধি জল খাওয়াই প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ফলের রস, তরল খাবার বা ডিটক্স পানীয়ও খেতে হবে।
এখনকার শিশুরা বেশির ভাগ সময়েই ঘরে থাকে, বাইরে খেলাধুলো কম করে। বাবা-মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে, শিশু যেন বেশি জাঙ্ক ফুড না খায়। যদি খাবারে নুনের মাত্রা বেশি হয় বা মশলা দেওয়া খাবার খায়, তা হলে জল বেশি খেতেই হবে। যে শিশুরা বাইরে বেরিয়ে খেলাধুলো করে বা যোগাসন অথবা নিয়মিত ব্যায়াম করে, তাদেরও জল বা তরল খাবার বেশি পরিমাণেই খেতে হবে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।