হাসি দেখেই হৃদ্রোগের ইঙ্গিত মিলতে পারে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নিয়মিত দাঁত না মাজলে কেবল দাঁতেরই ক্ষতি হবে? ধারণাটা কিন্তু ভুল। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দাঁতের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কিন্তু হৃদ্রোগেরও যোগ রয়েছে। অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, জীবনযাপনের কারণে অল্পবয়সিদের মধ্যে দিন দিন বাড়ছে হার্টের রোগের ঝুঁকি। আর এ বিষয় যাঁরা সচেতন তাঁরা হৃদ্রোগ ঠেকাতে রক্তচাপ আর কোলেস্টেরল নিয়ে ভাবেন, অথচ দাঁতের স্বাস্থ্য নিয়ে কিন্তু অনেকেরই কোনও মাথাব্যথা নেই। অথচ মাড়ির অবস্থা দেখেই বোঝা সম্ভব হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা।
দাঁতের অযত্নের কারণে মুখগহ্বরে জন্মানো ক্ষতিকর জীবাণুগুলি যে কেবল দাঁতের ক্ষয় বা ব্যথার কারণ বা মুখের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী, তা কিন্তু নয়। এই সব জীবাণু মুখ থেকে ছড়ায় সারা শরীরে এবং এদের সবচেয়ে পছন্দের ঠিকানা হল হার্টের ধমনী। কাজেই দাঁতের অযত্ন হলে হার্টের স্বাস্থ্যও বেহাল হতে বাধ্য। দন্তচিকিৎসক মুন চট্টরাজ বলেন, ‘‘মাড়ির রোগ বা ক্রনিক পিরিওডনটাইটিস সরাসরি হার্টের সমস্যার কারণ হতে পারে। মাড়িতে কোনও রকম সংক্রমণ হলে সেই ব্যাক্টেরিয়াগুলি রক্তে মিশে যায় এবং ধমনীতে ময়লা বা ‘প্লাক’ জমতে সাহায্য করে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়। এর ফলে ধমনীতে রক্ত চলাচলের পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়ে, রক্ত প্রবাহের পথে বাধা তৈরি হয়। এই ব্লকেজ থেকেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই দাঁতের সমস্যাকে অবহেলা করা মানে নিজের আয়ু নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া।’’
চিকিৎসকের মতে, যাঁদের মাড়ির চিকিৎসা হয় না, তাঁদের হার্টের অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। পরফাইরোমোনাস জিঞ্জিভালিস, অ্যাক্টিনোব্যাসিলাস, ট্রিপোনেমা ডেন্টিকোলা নামে কিছু ব্যাক্টেরিয়া জন্মায় মাড়িতে, যারা প্রদাহ তৈরি করে। এই ব্যাক্টেরিয়া অনেক সময়ই হার্টের রোগীদের ধমনীতে পাওয়া যায়। তাই কেবল সৌন্দর্যবৃদ্ধির কারণেই দাঁতের যত্ন নেবেন, এমনটা নয়, হার্টের অসুখ রুখতেও বছরে দু’বার করে দাঁতের পরীক্ষা করানো জরুরি। তাই মাড়ির ফোলাভাব বা মুখে দুর্গন্ধের মতো ছোট ছোট সমস্যাগুলিকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। সে দিক থেকে দেখলে, হৃদ্রোগ ঠেকাতে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে টুথব্রাশ, ফ্লস আর জিভছোলা।