প্রোটিন-খনিজে ভরপুর, হার্ট-বান্ধব তরমুজের বীজ কী ভাবে খাওয়া ভাল? কাদের জন্য ক্ষতিকর?

তরমুজের বীজের পুষ্টিগুণের কথা চর্চায় আসতেই এর কদর বেড়েছে। কী ভাবে ডায়েটে তা জুড়বেন? কারাই বা সাবধান হবেন?

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৬

তরমুজ খাওয়ার সময়ে খুঁজে খুঁজে যে বীজ ফেলে দেওয়া হত, এখন সেই বীজই সংগ্রহ করে খাওয়া হচ্ছে। নানা গবেষণায় উঠে এসেছে এই বীজ ক্ষতিকর তো নয়ই, উল্টে পুষ্টিগুণে ভরপুর। তরমুজের বীজে প্রোটিনের পরিমাণ অনেকটাই বেশি। সুস্থ থাকতে সারা দিনে যে পরিমাণে প্রোটিনের প্রয়োজন হয়, তার অনেকটাই মিলতে পারে তরমুজের বীজ থেকে।

Advertisement

২০১৮ সালের একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে তরমুজের বীজ শুধু প্রোটিন নয়, বি ভিটামিন, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জ়িঙ্কের মতো খনিজেরও উৎস। এতে মেলে ফ্যাটি অ্যাসিডও। তরমুজের পুষ্টিগুণ নিয়ে চর্চা হতেই বাড়ছে এর কদর। যে বীজ ফেলে দেওয়াই দস্তুর, যে বীজ চিবিয়ে ফেললে অনেকেই পেট খারাপের ভয় পেতেন, তাঁরাই এখন নানা খাবারে এমন বীজ জুড়ছেন।

পুষ্টিগুণে ভরপুর তরমুজের বীজের উপকারিতার তালিকা নেহাত কম নয়। গ্লোবিউল নামক উচ্চ মানের প্রোটিন মেলে এতে। বিশেষত যাঁরা নিরামিষ খান তাঁদের জন্য এই বীজ আলাদা ভাবে প্রোটিনের উৎস হতে পারে। কপার, জ়িঙ্ক, আয়রনের মতো খনিজ থাকায় এটি সামগ্রিক ভাবে স্বাস্থ্য ভাল রাখে। হার্ট ভাল রাখার জন্য জরুরি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। সেই শর্তও পূরণ করে তরমুজের বীজ। ম্যাগনেশিয়াম বিপাকহার ঠিক রাখতে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এটি কার্যকর। ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকও ভাল রাখতে সাহায্য করে।

খাবেন কী ভাবে

কাঁচা বীজ হজম করা শক্ত। ভাল হয় বীজ শুকনো করে কড়াইয়ে সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিলে। বীজ বেক করে গুঁড়িয়ে খাওয়া যায়। বীজ ভিজিয়ে রেথে অঙ্কুরিত করেও খেতে পারেন। স্যালাডে, স্মুদিতে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে তরমুজের বীজ।

কখন তা ক্ষতিকর

· কাঁচা বীজ খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। বীজ বেশি খেলে হজমেরও গন্ডগোল হতে পারে। তাই উপকারী হলেও খেতে হবে পরিমিত।

· তরমুজের বীজে থাকে ফাইটেট। আয়রন–সহ বেশ কিছু খনিজ শোষণে তা বাধা হতে পারে।

· পেটের সমস্যা থাকলে বীজ না খাওয়াই ভাল, বা খেলেও খুব অল্প পরিমাণে।

· লিভার, কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ডায়েটে যুক্ত করা দরকার।

Advertisement
আরও পড়ুন