Signs of Brain Tumour

খিটখিটে মেজাজ, যখন তখন ফুঁসে ওঠেন রাগে! নিছকই মনের চাপ নয়, মগজে বাসা বাঁধছে কোন রোগ?

রেগে আগুন, তেলে বেগুন দশা হয় যখন তখন। মেজাজ সব সময়েই সপ্তমে। ভুলে যাচ্ছেন ছোট ছোট বিষয়ও। এ নিছকই মানসিক ব্যামো নয়। মস্তিষ্কের ভিতরে হয়তো বাসা বাঁধছে জটিল এক প্রাণঘাতী রোগ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১১:২১
রাগলে মেজাজ সপ্তমে, ভুলে যাওয়ার রোগেও ধরেছে, কারণটা কী?

রাগলে মেজাজ সপ্তমে, ভুলে যাওয়ার রোগেও ধরেছে, কারণটা কী? ছবি: ফ্রিপিক।

রাগলে আর মাথার ঠিক থাকে না? রেগে গেলেই একেবারে দুর্বাশা মুনি! রাগের মাথায় ভুলভাল কাজকর্ম করেন, যা-তা কথা বলে পরে নিজেরই খারাপ লাগে। বোধবুদ্ধি একেবারেই লোপ পায়। মেজাজ সব সময়েই সপ্তমে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ভুলে যাওয়ার রোগও। কথাবার্তা মাঝেমধ্যেই অসংলগ্ন হয়ে পড়ে। এ কিন্তু নিছকই মানসিক রোগ নয়। আড়ালে হয়তো বাসা বাঁধছে জটিল কোনও প্রাণঘাতী রোগ।

Advertisement

রাগ কার না হয়! কিছু ক্ষণের জন্য উত্তেজনা, চেঁচামেচি আর তার পর সব ঠান্ডা, এমন হলে তা’ও এক রকম, কিন্তু যদি ঘন ঘন মেজাজ বিগড়ে যেতে থাকে, উত্তেজনা ও উদ্বেগ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা হলে চিন্তার কারণ আছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, কেবল রাগ নয়, আরও কিছু আনুষঙ্গিক লক্ষণ দেখা দিচ্ছে যা মস্তিষ্কে গজিয়ে ওঠা টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত এমন রোগীদের দীর্ঘ সময়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে, কেবল মাথায় তীব্র ব্যথা, মাথাঘোরা বা গা গোলানোর মতো লক্ষণই নয়, আরও কিছু ব্যতিক্রমী উপসর্গও দেখা দিচ্ছে, যা ব্রেন টিউমারের কারণ হতে পারে।

কী কী সেই লক্ষণ?

বদল আসছে আচরণে

মস্তিষ্কের সামনের অংশকে বলা হয় ফ্রন্টাল লোব, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। এই অংশটি মানুষের আবেগ, অভিব্যক্তি, রাগ-দুঃখ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। এবং কোনটা করা উচিত আর কোনটা অনুচিত—তা এই অংশটিই ঠিক করে। ফ্রন্টাল লোবে কোনও টিউমার তৈরি হলে আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। তখন সামান্য কারণেই তীব্র ক্ষোভ বা খিটখিটে মেজাজ হতে দেখা যায়।

রাগ যখন তখন

মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ অংশ ভয়, রাগ, উত্তেজনার মতো অনুভূতিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। টিউমার যদি সরাসরি সেই অংশে বা তার আশপাশে গজিয়ে ওঠে, তা হলে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। তখন সামান্য কারণেই অধিক উত্তেজনা, প্যানিক অ্যাটাক, তীব্র রাগ প্রকাশের মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

প্রচণ্ড ক্লান্তি, শরীর জুড়ে অস্বস্তি

মস্তিষ্কে যখন কোনও টিউমার বাসা বাঁধতে থাকে, তখন তীব্র প্রদাহ তৈরি হয়। এই প্রদাহের কারণে মস্তিষ্কের ভিতরের কোষগুলিতেও চাপ বাড়ে, স্নায়ুর কার্যক্ষমতা বিগড়ে যেতে থাকে। ফলে রোগীর সারা শরীর জুড়ে অস্বস্তি শুরু হয়, সেই সঙ্গে মাথায় ব্যথা এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি আসে।

ঘন ঘন মেজাজ বদল

যখন তখন মেজাজের বদল বা ‘মুড সুইং’ হওয়াও ভাল লক্ষণ নয়। একটি পর্যায় অবধি তা স্বাভাবিক, কিন্তু যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং রোগী প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও অবসাদের শিকার হতে থাকেন, তখন বুঝতে হবে বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। মস্তিষ্কে টিউমার হলে স্নায়ুর সঙ্কেত আদান-প্রদানের পথটি অবরুদ্ধ হতে থাকে। তখন হতাশা, অবসাদ, বিষণ্ণতা দেখা দেয়। অনেকেই একে মানসিক ব্যামো ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, এমন সব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই জরুরি।

Advertisement
আরও পড়ুন