আচমকা রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে কী করবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
উচ্চ রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। তা নিয়ে সতর্ক না হলেই বিপদ! আগে লোকে বয়স বাড়লে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল নিয়ে সতর্ক হতেন। কিন্তু এখন অপেক্ষাকৃত কম বয়সিদের মধ্যেও এমন প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। রক্তচাপের সমস্যা চিহ্নিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খাওয়া দরকার ।
তবে দৈনন্দিন জীবনে কখনও অত্যধিক চিন্তা, আচমকা কোনও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে বা ঘন ঘন চা-কফি খেলে অনেকের রক্তচাপ বাড়ে। রক্তচাপে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক প্রেসার ১২০/৮০ থাকাকে স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। তবে রক্তচাপ যদি এর চেয়ে অনেকটা কম বা বেশি হয়ে যায়, তখনই বিপদের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আচমকা প্রবল উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অল্প বাড়লে এক রকম, কিন্তু হঠাৎ যদি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, রক্তচাপ অনেকটাই বেশি, সেই মুহূর্তে কী করণীয়?
রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, ওষুধ আনতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শ, এ ক্ষেত্রে প্রথমেই একটু শান্ত হয়ে বসার চেষ্টা করে ধীরে শ্বাস নিতে এবং ছাড়তে হবে। নাক দিয়ে অন্তত ৪-৫ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিতে হবে। শ্বাস ছাড়তে হবে ৬-৭ সেকেন্ড ধরে। ২ মিনিট অন্তর একই ভাবে শ্বাস নিতে এবং ছাড়তে হবে। এই ভাবে বার কয়েক করলে, ধীরে ধীরে রক্তচাপের মাত্রা কিছুটা কমবে। তার পর তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বা দরকার তো ওষুধ দিতে হবে।
হৃৎপিণ্ড সঙ্কোচনের সময় ধমনীতে যে চাপ দেয় তাকে সিস্টোলিক প্রেসার বলে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়ার এই ব্যায়াম করলে সিস্টোলিক প্রেসার কিছুটা হলেও কমে যায়।
এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী করণীয়
· ওজন বশে রাখা দরকার, নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি।
· পর্যাপ্ত জল না খেলে, তার উপরে ঘাম হলে, গরমের দিনে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
· খাবারে নুনের ব্যবহার বুঝে করতে হবে। অতিরিক্ত নুন খাওয়া বা খাবারের সঙ্গে আলাদা করে নুন খাওয়ার অভ্যাস এ ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে।
· নিয়ম করে প্রাণায়াম করলেও পরস্থিতি বশে রাখা সম্ভব।
· চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন।