মনের শান্তি ফেরানোর সহজ উপায় ‘নাড়ি-শোধন’ প্রাণায়াম। ছবি: ফ্রিপিক।
শত ব্যস্ততায় সময় নেই জিমে যাওয়ার। অথচ নিজেকে সুস্থ না রাখলেই নয়। কখনও সর্দি-কাশি কাবুর করছে, তো কখনও দুশ্চিন্তা। শরীর ও মন দুইই ভাল নেই। উদ্বেগ বাড়ছে ভিতরে ভিতরে। চিকিৎসকেরা একে বলছেন ‘ক্রনিক স্ট্রেস’ বা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ। এই অস্থির সময়ে নিজেকে সুস্থ রাখতে ও মন শান্ত করতে প্রাণায়ামই একমাত্র উপায় হতে পারে। তবে জটিল কোনও পদ্ধতি নয়, মিনট পাঁচেকের ‘নাড়ি শোধন’ প্রাণায়ামেই শরীর ও মনের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও নাড়ি-শোধন প্রাণায়ামের উপকারিতার কথা বলেছেন। করেও দেখিয়েছেন। নাড়ি-শোধন শ্বাসের ব্যায়াম। শরীরের স্নায়ুগুলিকে স্থির ও সক্রিয় রাখে। নাড়ি-শোধন প্রাণায়ামে দুই নাসিকায় শ্বাসপ্রবাহের মধ্যে স্নায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। এতে শরীর ও মনের যাবতীয় রোগ দূর হয়।
প্রাণায়ামের পদ্ধতি
১) পিঠ সোজা করে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন। সুখাসনে বসতে পারলে সবচেয়ে ভাল হয়।
২) বাঁ হাত জ্ঞান মুদ্রায় হাঁটুর উপর রাখুন।
৩) মুখের সামনে ডান হাতের আঙুলগুলিকে আনুন, এর পর তর্জনী ও মধ্যমাকে হালকা ভাবে দুই ভ্রুর মাঝে রাখুন।
৪) বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠকে ডান নাকের ছিদ্রে ও অনামিকাকে বাঁ নাকের ছিদ্রে রাখুন। এ বার বুড়ো আঙুলের চাপে নাকের ডান দিকের ছিদ্র বন্ধ করে বাঁ দিকের নাকের ছিদ্র দিয়ে যতটা পারেন শ্বাস নিন।
৩) অনামিকা দিয়ে চেপে ডান দিকের নাকের ছিদ্র বন্ধ করে শ্বাস ছাড়ুন বাঁ নাক দিয়ে।
৪) এই ভাবে এক রাউন্ড সম্পূর্ণ হবে। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি নাসারন্ধ্রে ১০-১৫ বার করে অভ্যাস করুন এই প্রাণায়াম।
প্রতিদিন সকালে ও রাতে ঘুমোনোর সময় অভ্যাস করলে শ্বাসের সমস্যা দূর হবে। হাঁপানি, সিওপিডির রোগীদের জন্য উপকারী শ্বাসের এই ব্যায়াম। নিয়মিত অভ্যাসে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়বে, স্মৃতিশক্তি উন্নত হবে, মনঃসংযোগ বাড়বে। অনিদ্রার সমস্যাও দূর হবে।