ঋতু বদলের এ সময়ে অনেকের ভাইরাল ফিভার হয়, হাম-পক্সও, কী ভাবে সামলাবেন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শীত ও গ্রীষ্মের মাঝের ঋতুটি বসন্ত। এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়ার রূপান্তর ঘটে। বিকেল থেকে সকাল পর্যন্ত ঠাণ্ডাভাব থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে রোদের তাপ বাড়তে থাকে। গরম অনুভূত হয়। এক কথায় সারা দিনে আবহাওয়ার তারতম্যের ফলে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু জন্মায়। তাই বসন্তের আগেই জীবাণুবাহিত জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বেশি হয়। এই সময় হাম, পক্স হয়। চোখের সংক্রমণ হয়। তাই এই সময়টাতে শিশুদের সবচেয়ে বেশি সাবধানে রাখা জরুরি। বাবা-মায়েরা কী ভাবে সামলাবেন, রইল কিছু পরামর্শ।
কোন কোন রোগ থেকে সতর্ক থাকতে হবে?
অ্য়াডিনোভাইরাস ও রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাসের (আরএসভি) সংক্রমণে এই সময়ে ভাইরাল জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়ে। ছোটরাই বেশি ভোগে। চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মতে, ঠান্ডা লাগার ফলে টনসিল রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হয়। এর ফলে জ্বর আসে। তাই বাড়িতে কারও জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে, ছোটদের দূরে রাখতে হবে।
খাবারের সঙ্গে বা পানীয় জলের মাধ্যমে নানা জীবাণুর সংক্রমণ হয় এই সময়ে। আন্ত্রিক বা ডায়েরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। ছোটদের বাইরের খাবার, পানীয়, শরবত কোনও কিছুই খাওয়ানো যাবে না। জল ফুটিয়ে খাওয়াতে পারলে ভাল হয়।
হাম ও পক্সের প্রকোপও বাড়ে। পক্স হচ্ছে বসন্ত রোগ এটি ভেরিসলা জস্টার নামক ভাইরাস থেকে হয়। এই রোগ শীতকালের শেষ ও বসন্তকালে বেশি হয়। আগে থেকে জ্বর আসে পরে সারা শরীরে ফোস্কার মত ছোট আকারে বার হয়। সারা শরীর জ্বালা করে। এই রোগের স্থায়িত্ব সাত থেকে পনেরো দিন হতে পারে। তাই জ্বর যদি তিন থেকে চার দিনের বেশি থাকে, তা হলে আগে থেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
পাঁচ থেকে দশ বছরের শিশুর যদি হাঁপানি থাকে, অথবা ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে নজর দিতে হবে। কারণ এই সময়ে হাঁপানি, অ্যালার্জিজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ে।
বাবা-মায়েরা কী ভাবে সামলাবেন?
সময়মতো টিকাকরণে অনেক ভাইরাসজনিত রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আর সাবধানতা হিসেবে রোগের লক্ষণ ধরা পড়ার পরে বাড়ির অন্য সকলকে একটু সতর্ক থাকা দরকার। যেমন, রোগ ধরা পড়লে প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণ কিছু স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।
এই সময় খাবার তালিকায় সজনেডাঁটা, সজনেফুল, সজনেশাক ও নিমপাতা খেলে ভাল হয়।
খুব বেশি ঠান্ডা লাগানো যাবে না। দিনের দিকে সুতির পোশাক পরানো ভাল। রাতে বাইরে বেরোলে গরম পোশাক পরাতে হবে শিশুকে।
এই ঋতুতে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। কোনও শিশুর কাশি হয়, কারও বা রাত্রে ঘুমোবার সময় নাক বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে কাশির ফলে সারা রাত ঘুমাতে পারে না। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো বিপজ্জনক হতে পারে।
শিশুর প্রস্রাব ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা-ও নজরে রাখতে হবে। প্রস্রাব যদি দিনে পাঁচ বারের কম হয়, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অন্তত পাঁচ বছর বয়স অবধি পানীয় জল ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খাওয়ান। জল পরিশোধনের ব্যবস্থা থাকলে সেই যন্ত্রটিও নিয়মিত পরিষ্কার করুন। বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন।