দৈনন্দিন খাবার থেকে চিনি বাদ দেবেন কী ভাবে? ছবি: ফ্রিপিক।
চিনি ব্যাপারটি শুনতে এবং খেতে যতটা মিষ্টি, আদতে তা একেবারেই নয়। বরং শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর খাবারের তালিকায় শীর্ষেই তার স্থান। চিনির গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। এটি ছন্দপতন ঘটায় বিপাক হারে। চিনি বেশি খেলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে হার্ট থেকে কিডনি এবং লিভারেও। বেশি চিনি খাওয়ার সঙ্গে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডও বেড়ে যায়।
তাই ‘মিষ্টি’ চিনিকেই জীবন থেকে যথা সম্ভব ছেঁটে ফেলতে বলছেন চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা। কিন্তু চিনি ছাড়া কি এতই সহজ! চা থেকে কফি, ডাল, তরকারি— সবেতেই তো স্বাদের জন্য চিনি দেওয়া হয়। তা ছাড়া চিনি বাদ দিলে শরবতই খাওয়া যাবে কী করে?
চা-কফি থেকে বাদ: রোজ যিনি চিনি দিয়ে চা-কফি খান, তাঁকে হঠাৎ চিনি ছাড়া চা-কফি দিলে বিস্বাদ ঠেকবে।তাই যিনি ২ চামচ চিনি খেতেন তিনি এক সপ্তাহের জন্য দেড় চামচ চিনি দিয়ে চা খেতে পারেন। দ্বিতীয় সপ্তাহে তা ১ চামচ হতে পারে। এই ভাবে ধাপে ধাপে একটু একটু করে চিনির মাত্রা কমাতে হবে।
রোজের রান্নায়: দৈনন্দিন সব রান্নায় চিনি দেওয়া হয় এমন নয়। সাধারণত দেখা যায় মুগ, অড়হর ডালে চিনি ব্যবহার হয় স্বাদের জন্য। এই ডালগুলির বদলে যে ডালে চিনি খাওয়া হয় না, সেটি বেশি খেতে পারেন। আবার যে সব রান্নায় চিনি দেওয়া হয়, তার মাত্রাও একটু একটু করে কমাতে পারেন।
পানীয়: কার্বোনেটেড পানীয়, মকটেল খেতে সকলেই পছন্দ করেন। সুকৌশলে চিনি বাদ দিতে হলে পানীয়ে বদল আনা প্রয়োজন। বিভিন্ন ফল কেটে জলে মিশিয়ে ফ্রিজে ভরে রাখুন। সেই জল পান করুন। এতে ফলের গন্ধ থাকবে, কিন্তু চিনি নয়। অথচ এই জল খেলে তরতাজা লাগবে। চিনি দেওয়া লস্যির বদলে নোনতা ছাস বেছে নিতে পারেন। তাজা ফলের রস খেতে পারেন। ফলে শর্করা থাকলেও, তা প্রাকৃতিক শর্করা, কৃত্রিম প্রক্রিয়াজাত চিনির মতো ক্ষতিকারক নয়।
মিষ্টি খাবার: কেক, পেস্ট্রি, পুডিং খাওয়ার প্রতি সকলেরই ঝোঁক থাকে। কিনে না খেয়ে বাড়িতে স্বাস্থ্যকর উপায়ে তা বানানো যায়। কেক তৈরির সময়ে খেজুর, কলা ব্যবহার করুন। ফলের প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব কাজে লাগবে। চকোলেট পুডিং বানালেও চিনির মাত্রা কমানো যেতে পারে।
খাবারের প্যাকেট: দোকান থেকে কোনও খাবার কেনার সময়ে লেবেল পড়ে নিন। সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজের মতো উপাদানেও চিনি থাকে। যে খাবারে সেই মাত্রা একেবারে কম, সেগুলি বেছে নিন।
।