প্রস্রাবের রং কেমন হলে বুঝতে হবে লিভারে ক্যানসার হয়েছে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
লিভারের রোগ আগে থেকে বোঝা যায় না। অনেকেই ভাবেন, লিভারের অসুখ মানেই জন্ডিস হবে অথবা পেট ভার বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেবে। ঘন ঘন অম্বলও ভোগাবে। সব ক্ষেত্রে তা না-ও হতে পারে। লিভারের অসুখ নানা রকম, তার উপসর্গের ধরনও আলাদা। ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ আর লিভার সিরোসিসের উপসর্গ এক নয়। আবার যদি লিভারে ক্যানসার বাসা বাঁধে, তা হলে ভিন্ন লক্ষণ দেখা দেবে। রোগের ধরন আলাদা হলেও, এক জায়গায় গিয়ে কিন্তু মিল রয়েছে— তা হল প্রস্রাবের রং। অসুখ যেমনই হোক না কেন, তার পূর্বাভাস পাওয়া যেতে পারে প্রস্রাবের রং দেখে।
রক্তে থাকা লোহিত রক্তকণিকা যখন স্বাভাবিক নিয়মে ভেঙে যায়, তখন লিভার সেই বর্জ্য থেকে বিলিরুবিন তৈরি করে এবং পিত্তরসের মাধ্যমে শরীর থেকে বার করে দেয়। কিন্তু লিভার যদি অসুস্থ হয়, সেখানে হেপাটাইটিস, সিরোসিস বা ক্যানসারের মতো রোগ বাসা বাঁধে, তা হলে লিভার রক্ত থেকে ওই বিলিরুবিন অপসারণ করতে পারে না। তখনই শুরু হয় গোলমাল। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং কিডনি তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বার করার চেষ্টা করে, এতেই প্রস্রাবের রঙে বদল আসে।লিভারে কী ধরনের রোগ বাসা বেঁধেছে, তার উপর নির্ভর করবে বিলিরুবিনের ওঠানামা। ফলে প্রস্রাবের রংও সেভাবেই বদলাতে থাকবে।
দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে লিভারের রোগে প্রস্রাবের রঙে বদল আসার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত জল পানের পরেও যদি দেখা যায়, গাঢ় হলুদ রঙের প্রস্রাব হচ্ছে, তা হলে বুঝতে হবে লিভারে প্রদাহ বা জন্ডিসের লক্ষণ। বিলিরুবিনের মাত্রা খুব বেড়ে গেলে প্রস্রাবের রং গাঢ় কমলা বা লালচে কমলা রঙের হতে পারে। সেটি সিরোসিসের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। গাঢ় খয়েরি বা কালচে রং মানেই সতর্ক হতে হবে। তা লিভার সিরোসিসের অন্তিম পর্ব বা লিভারে ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। প্রস্রাবের রং কালচে ও তাতে ফেনা বেশি থাকলে, বুঝতে হবে লিভারে টিউমার বা ক্যানসার ছড়াচ্ছে এবং কিডনির উপরেও চাপ পড়ছে।
প্রস্রাবের রং দেখার পাশাপাশি আরও কিছু লক্ষণও খেয়াল করতে হবে। দুই হাতের তালুতে লালচে ছোপ ফুটে উঠবে। তাতে কোনও জ্বালা বা চুলকানি হবে না। তবে হাতের তালু ফুলে উঠবে এবং লালচে ছোপ আরও বেশি ছড়াতে থাকবে। বিভিন্ন কারণে পেটে যন্ত্রণা হতে পারে। তবে লিভারজনিত সমস্যার অন্যতম লক্ষণ হল পেটে ব্যথা। একটানা পেটে ব্যথা হয়ে গেলে বিষয়টি নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেকের খিদেও বেড়ে যায়। এমন সময়ে মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়লে সতর্ক হতে হবে। ওজন যদি অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে শুরু করে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।