Hair Loss Solution

টাকে চুল গজানোর নতুন পন্থা নিয়ে জোর আলোচনা, তিন ওষুধের মিশ্রণে ঢেউ খেলবে চুলের

টাকে চুল গজাতে পারে এমন ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে একটি ওষুধ নয়, তিন-তিনটি। চুল পড়ার সমস্যার পাকাপাকি সমাধান করতে আসছে ‘ট্রিপল থ্রেট ট্রিটমেন্ট’।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ১৪:০৮
What is Triple-Threat Treatment for Hair Loss

টাকে চুল গজানোর ‘ট্রিপল-থ্রেট’ থেরাপি কী? ফাইল চিত্র।

একমাথা ঘন চুল ঝরে গিয়ে টাক পড়তে থাকলে, মনে দুঃখ তো হবেই। টাক ঢাকতে কখনও পরচুলা, আবার কখনও টুপি দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা চলতেই থাকে। চুল কমতে কমতে এক এক জায়গা কেশশূন্য হয়ে যাওয়াও কাঙ্ক্ষিত নয়। মাথাজোড়া টাক নিয়ে তাই দুঃখ অনেক ছেলেরই। টাকে চুল গজানোর কী কী টোটকা আছে, তা নিয়ে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি চলেই। ‘হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট’ বা চুল প্রতিস্থাপনের নানা থেরাপিও ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক তারকাই করাচ্ছেন। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। এর চেয়ে সহজ পদ্ধতি কী হতে পারে, সে নিয়েই আলোচনার শুরু। আর সেখানেই নতুন এক থেরাপির নাম শোনা গিয়েছে। এতে চুল প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হবে না, কোনও রকম অস্ত্রোপচারও করতে হবে না।

Advertisement

‘ট্রিপল-থ্রেট’ থেরাপি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। কোনও রকম কাটাছেঁড়া, প্রতিস্থাপন ছাড়াই একমাথা চুলের ঢেউ খেলবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। অ্যালোপেসিয়ায় মাথাজোড়া টাক পড়তে চলেছে যাঁদের, তাঁরা এই থেরাপি করালে উপকৃত হতে পারেন। ‘ট্রিপল-থ্রেট’ কোনও কসমেটিক সার্জারি নয়, তিন ওষুধের থেরাপি। তিন রকম ওষুধ নির্দিষ্ট ডোজ়ে মিশিয়ে থেরাপিটি করা হচ্ছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিএইচ০৭’। 'ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ট্রাইকোলজি'-তে এই গবেষণাটির বিষয়ে লেখা হয়েছে।

কী কী ওষুধ মেশানো হচ্ছে?

চুল পড়া বন্ধ করার অতি চেনা ওষুধ মিনোক্সিডিল রয়েছে এতে। মিনোক্সিডিল একটি ‘ওভার-দ্য-কাউন্টার’ ওষুধ, যা চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এই ওষুধের পাঁচ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়টি হল ফিনাস্টেরাইড। এই ওষুধের কাজ হবে ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা। অ্যান্ড্রোজেন, ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন হরমোনের তারতম্য হলে চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। ছেলেদের মাথাজোড়া টাক অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়ার কারণই হল এই হরমোনের তারতম্য। ফিনাস্টেরাইড ওষুধটি এই সমস্যা ঠেকাতে পারবে বলে দাবি। ওষুধটি ০.১ শতাংশ ব্যবহার করছেন গবেষকেরা।

তৃতীয় ওষুধটি হল ল্যাটানোপ্রস্ট, যার ০.০৩ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ওষুধটি আসলে একটি আইড্রপ, গ্লকোমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে গবেষকেরা দেখেছেন, ওষুধটি চোখে দিলে চোখের পাতার দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব আশ্চর্য রকম ভাবে বেড়ে যায়। তাই ট্রিপল-থ্রেট থেরাপিতে এই ওষুধটিকেও রাখা হয়েছে।

তিন ওষুধের মিশ্রণ প্রাথমিক ভাবে ২৩ জন পুরুষের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলাফল সন্তোষজনক বলেই দাবি করা হয়েছে। আরও অনেকের উপর পরীক্ষাটি সফল হলে এই থেরাপি দ্রুত বাজারে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন